৭/৮৮. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯৩১ - উমরা ফরজ কি না

ওমরা ওয়াজিব কি না?

উমরা কি ফরজ? হাদিসের সরাসরি উত্তর

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৯৩১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ سُئِلَ عَنِ الْعُمْرَةِ أَوَاجِبَةٌ هِيَ قَالَ «لاَ وَأَنْ تَعْتَمِرُوا هُوَ أَفْضَلُ».قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا الْعُمْرَةُ لَيْسَتْ بِوَاجِبَةٍ . وَكَانَ يُقَالُ هُمَا حَجَّانِ الْحَجُّ الأَكْبَرُ يَوْمَ النَّحْرِ وَالْحَجُّ الأَصْغَرُ الْعُمْرَةُ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ الْعُمْرَةُ سُنَّةٌ لاَ نَعْلَمُ أَحَدًا رَخَّصَ فِي تَرْكِهَا وَلَيْسَ فِيهَا شَيْءٌ ثَابِتٌ بِأَنَّهَا تَطَوُّعٌ وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ بِإِسْنَادٍ وَهُوَ ضَعِيفٌ لاَ تَقُومُ بِمِثْلِهِ الْحُجَّةُ وَقَدْ بَلَغَنَا عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ كَانَ يُوجِبُهَا . قَالَ أَبُو عِيسَى كُلُّهُ كَلاَمُ الشَّافِعِيِّ .

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নাবী (ﷺ) -কে প্রশ্ন করা হলো উমরা করা কি ওয়াজিব? তিনি বললেনঃ না, তবে তোমরা উমরা করলে তা অতিশয় ভাল।

আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ্‌। কোন কোন আলিমের মতে উমরা ওয়াজিব নয়। এ কথাও বলা হত যে, হজ হলো দু’টি। কুরবানীর দিন হলো বড় হজ এবং উমরা হলো ছোট হজ। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন, উমরা হলো সুন্নাত (প্রতিষ্ঠিত ইবাদাত)। আমার জানামতে তা ছেড়ে দেয়ার সুযোগ কেউ দেননি। এটি নফল হওয়া প্রসঙ্গেও কোন গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এটি নফল বলে যে হাদীস বর্ণিত আছে তা যঈফ, তা দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা জেনেছি যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) উমরা পালন ওয়াজিব মনে করতেন। আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এর পুরোটাই ইমাম শাফিঈর বক্তব্য।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯৩১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করা হয়, উমরা কি ফরজ বা বাধ্যতামূলক? তিনি বলেন, না; তবে উমরা করা উত্তম। বর্ণনাটির মূল বক্তব্য খুব সরল: প্রশ্ন ছিল বাধ্যতামূলক হওয়া নিয়ে, আর উত্তরে উমরার ভালো দিকও জানানো হয়েছে। হাদিসের পরের আলোচনায় আলিমদের ভিন্ন মতের উল্লেখ আছে। কিছু আলিম এই বর্ণনার ভিত্তিতে উমরাকে ওয়াজিব বলেননি, আবার ইমাম শাফিঈর বক্তব্যে উমরার গুরুত্ব জোর দিয়ে এসেছে এবং অন্য মতের কথাও বলা হয়েছে। তাই শুধু একটি বাক্য ধরে বড় মতভেদকে অস্বীকার না করে, হাদিসের সরাসরি বক্তব্য বুঝতে হবে। “উমরা ফরজ কি”, “উমরার বিধান” এবং “উমরা করা উত্তম কেন”—এসব প্রশ্নে এই বর্ণনা আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মূল বার্তা হলো, উমরাকে অবহেলা না করে সুযোগ হলে আদায় করা ভালো।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • এই বর্ণনায় উমরাকে সরাসরি ফরজ বলা হয়নি।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উমরা করাকে উত্তম বলেছেন।
  • হাদিসের সঙ্গে থাকা আলোচনায় আলিমদের মতভেদের ইঙ্গিত আছে।
  • মতভেদপূর্ণ বিষয়ে এক বর্ণনার সীমা মেনে কথা বলা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন