৮/৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯৭৭ - রোগী ও মৃতের পাশে ভালো কথা বলুন
অন্তিম সময়ের লোককে তালকীন দেয়া এবং তার জন্য দোয়া করা
রোগী বা মৃতের পাশে ভালো কথা ও ক্ষমার দোয়া
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৯৭৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৯৭৭
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «إِذَا حَضَرْتُمُ الْمَرِيضَ أَوِ الْمَيِّتَ فَقُولُوا خَيْرًا فَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ يُؤَمِّنُونَ عَلَى مَا تَقُولُونَ». قَالَتْ فَلَمَّا مَاتَ أَبُو سَلَمَةَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبَا سَلَمَةَ مَاتَ . قَالَ «فَقُولِي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَلَهُ وَأَعْقِبْنِي مِنْهُ عُقْبَى حَسَنَةً». قَالَتْ فَقُلْتُ فَأَعْقَبَنِي اللَّهُ مِنْهُ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْهُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ .قَالَ أَبُو عِيسَى شَقِيقٌ هُوَ ابْنُ سَلَمَةَ أَبُو وَائِلٍ الأَسَدِيُّ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أُمِّ سَلَمَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ كَانَ يُسْتَحَبُّ أَنْ يُلَقَّنَ الْمَرِيضُ عِنْدَ الْمَوْتِ قَوْلَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا قَالَ ذَلِكَ مَرَّةً فَمَا لَمْ يَتَكَلَّمْ بَعْدَ ذَلِكَ فَلاَ يَنْبَغِي أَنْ يُلَقَّنَ وَلاَ يُكْثَرَ عَلَيْهِ فِي هَذَا .وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ أَنَّهُ لَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ جَعَلَ رَجُلٌ يُلَقِّنُهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَكْثَرَ عَلَيْهِ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ إِذَا قُلْتُ مَرَّةً فَأَنَا عَلَى ذَلِكَ مَا لَمْ أَتَكَلَّمْ بِكَلاَمٍ . وَإِنَّمَا مَعْنَى قَوْلِ عَبْدِ اللَّهِ إِنَّمَا أَرَادَ مَا رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ «مَنْ كَانَ آخِرُ قَوْلِهِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ " .
উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন অসুস্থ বা মৃত লোকের নিকটে তোমরা হাযির হলে তার সম্বন্ধে ভাল কথা বলবে। কেননা, তোমরা যেসব কথা বল সে প্রসঙ্গে ফেরেশতাগণ আমীন বলে থাকেন। উন্মু সালামা (রাঃ) বলেন, আবূ সালামা (রাঃ) মারা যাবার পর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ সালামা মারা গিয়েছে। তিনি বললেনঃ তুমি বল, “হে আল্লাহ আমাকে এবং তাকে ক্ষমা করে দিন এবং তার পরে আমাকে তার চেয়ে আরও উত্তম পরিণতি দান করুন। উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, আমি বুঝতে পারলাম যে, আল্লাহ্ তা'আলা তার পরবর্তীতে আমাকে তার চাইতে উত্তম ব্যক্তি দান করেছেন। তিনি হচ্ছেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)।
শাকীক হচ্ছেন ইবনু সালামা আবূ ওয়াইল আসাদী। উন্মু সালামা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। মুমূর্ষু রোগীকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর তালকীন করা মুস্তাহাব। একদল আলিম বলেন, এই কালিমা যদি সে একবার পাঠ করে নেয় তবে পরে অন্যকথা না বললে পুনরায় তাকে তালকীন করা অনুচিত এবং বারবার এই বিষয়ে তাকে চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয়। ইবনুল মুবারাকের মৃত্যুর সময় হাযির হলে তাঁকে কোন এক লোক লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর তালকীন করতে থাকে তখন তিনি বললেন, আমি একবার তা বলেছি পরে অন্য কোন কথা না বলা পর্যন্ত আমি এই কথার উপরই প্রতিষ্ঠিত আছি। আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক (রহঃ)-এর এই কথার তাৎপর্য এটাই যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত আছেঃ “যে লোকের শেষ কথা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ হবে সে লোক জান্নাতে যাবে"।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯৭৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় রোগী বা মৃত ব্যক্তির পাশে ভালো কথা বলা। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم জানিয়েছেন, অসুস্থ অথবা মৃত ব্যক্তির কাছে উপস্থিত হলে ভালো কথা বলতে হবে, কারণ উপস্থিত ফেরেশতারা মানুষের কথার ওপর আমীন বলেন। আবু সালামা রাঃ মারা যাওয়ার পর উম্মু সালামা রাঃ রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর কাছে এলে তিনি তাকে নিজের ও মৃত ব্যক্তির ক্ষমার জন্য দোয়া করতে এবং উত্তম পরিণতি চাইতে বলেন। উম্মু সালামা রাঃ সেই দোয়া করেন। এই ঘটনা দেখায়, শোকের সময় হতাশাজনক বা ক্ষতিকর কথা না বলে ক্ষমা, কল্যাণ ও উত্তম প্রতিদানের দোয়া করা উচিত। ফেরেশতারা আমীন বলেন—এই কারণে মুখের কথার বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা দরকার। রোগীর পাশে কী বলতে হয় বা মৃতের জন্য দোয়া সম্পর্কে এই হাদিস একটি সহজ ও বাস্তব নির্দেশনা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোগী বা মৃত ব্যক্তির পাশে ভালো ও কল্যাণকর কথা বলা উচিত।
- উপস্থিত ফেরেশতারা বলা দোয়া ও কথার ওপর আমীন বলেন।
- মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা এবং নিজের জন্য উত্তম পরিণতি চাইতে হয়।
- শোকের মুহূর্তে মুখের কথা সম্পর্কে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা দরকার।
