৮/১২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯৮৫ - মৃত্যুসংবাদের বর্ণনায় সনদগত পার্থক্য
মৃত্যুসংবাদ ফলাও করে প্রচার করা মাকরূহ
মৃত্যুসংবাদ বিষয়ক হাদিসের বর্ণনাগত পার্থক্য
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৯৮৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৯৮৫
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ الْعَدَنِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، نَحْوَهُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ وَالنَّعْىُ أَذَانٌ بِالْمَيِّتِ .قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ عَنْبَسَةَ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ. وَأَبُو حَمْزَةَ هُوَ مَيْمُونٌ الأَعْوَرُ وَلَيْسَ هُوَ بِالْقَوِيِّ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ. قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ. وَقَدْ كَرِهَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ النَّعْىَ وَالنَّعْىُ عِنْدَهُمْ أَنْ يُنَادَى فِي النَّاسِ أَنَّ فُلاَنًا مَاتَ لِيَشْهَدُوا جَنَازَتَهُ. وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ بَأْسَ أَنْ يُعْلِمَ أَهْلَ قَرَابَتِهِ وَإِخْوَانَهُ. وَرُوِيَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ أَنَّهُ قَالَ لاَ بَأْسَ بِأَنْ يُعْلِمَ الرَّجُلُ قَرَابَتَهُ.
আব্দুল্লাহ ইবনুল ওয়ালীদ হতে বর্ণিতঃ
সাঈদ ইবনু আব্দুর রহমান আল-মাখযুমী আব্দুল্লাহ ইবনুল ওয়ালীদ হতে তিনি সুফিয়ান সাওরী হতে তিনি আবু হামযাহ হতে তিনি আল-কামা হতে তিনি আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তা মারফুরূপে বর্ণনা করা হয়নি এবং তাতে আন-নাইউ আযানুন বিলমায়্যিত" এই কথারও উল্লেখ নেই।
আবু ঈসা বলেন, আবু হামযা হতে আনবাসার রিওয়ায়াতের তুলনায় এই রিওয়ায়াতটি অনেক বেশী সহীহ। আবূ হামযার নাম মাইমূন আল-আওয়ার। হাদীস বিশেষজ্ঞগণের মতে তিনি নির্ভরযোগ্য রাবী নন। আবূ ঈসা বলেন, আবদুল্লাহ (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি গরীব। একদল আলিম ‘নাঈ’ মাকরুহ বলেছেন। তাদের মতে ‘নাঈ’ হল লোকদের মাঝে এই বলে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া যে, অমুক ব্যক্তি মারা গেছে। অতএব তারা যেন তার জানাযায় উপস্থিত হয়। কিছু আলিম বলেছেন, মৃতের ভাই-বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনকে তার মৃত্যুর সংবাদ দেয়াতে কোন অপরাধ নেই। ইবরাহীম নাখঈ বলেন, আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যুসংবাদ দেয়াতে কোন সমস্যা নেই।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯৮৫-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনার মূল বিষয় হলো হাদিস বর্ণনার ধরন ও শব্দগত পার্থক্য। এখানে আগের মতো একই অর্থের একটি বর্ণনা এসেছে, কিন্তু সেটি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর দিকে সরাসরি তুলে দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ এটি মারফু রূপে বর্ণিত নয়। একই সঙ্গে ‘আন-নাইউ আযানুন বিলমাইয়্যিত’—মৃত ব্যক্তির খবর ঘোষণা করা—এই অতিরিক্ত কথাটিও এতে নেই। এই তথ্য আমাদের শেখায়, একই বিষয়ের বর্ণনাগুলোতে সনদ, বক্তব্যের স্তর এবং অতিরিক্ত শব্দের পার্থক্য থাকতে পারে। তাই হাদিস পড়ার সময় শুধু সারাংশ নয়, কে কার কাছ থেকে বলেছেন এবং কোন বাক্য কোন বর্ণনায় আছে—সেটিও খেয়াল করা দরকার। এই হাদিস নিজে নতুন কোনো বিস্তৃত বিধান যোগ করছে না; বরং আগের বর্ণনার সঙ্গে এর পার্থক্য স্পষ্ট করছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একই বিষয়ের হাদিসে শব্দ ও বর্ণনার স্তর ভিন্ন হতে পারে।
- মারফু ও অমারফু বর্ণনার পার্থক্য লক্ষ্য করা জরুরি।
- কোনো অতিরিক্ত বাক্য সব বর্ণনায় আছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
