৮/১. অধ্যায়ঃ
ঊপদেশ হাদিস ১০৬ - চোখ, কান ও অন্তরের যিনা
অবৈধ সম্পর্ক
চোখের যিনা সম্পর্কে হাদিস: দৃষ্টি, কথা ও অন্তরকে হেফাজত করুন
ঊপদেশ : ১০৬
ঊপদেশহাদিস নম্বর ১০৬
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ كُتِبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ نَصِيبُهُ مِنَ الزِّنَى مُدْرِكٌ ذَلِكَ لاَ مَحَالَةَ فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظْرُ وَالأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الاِسْتِمَاعُ وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلاَمُ وَالْيَدُ زِنَاهَا الْبَطْشُ وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, ‘আদম সন্তানের উপর যেনার একটি অংশ লিখা হয়েছে। সে তা পাবেই। মানুষের দু’চোখের যেনা দেখা। দু’কানের যেনা শুনা। জিহ্বার যেনা কথা বলা। হাতের যেনা স্পর্শ করা। পায়ের যেনা যেনার পথে চলা। অন্তরের যেনা হচ্ছে আকাঙ্ক্ষা করা। লজ্জাস্থান তার সত্য মিথ্যা প্রমাণ করে’
(মুসলিম হা/২৬৫৭; মিশকাত হা/৮৬ ‘ঈমান’ অধ্যায়)।
ঊপদেশ হাদিস ১০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যিনার পথগুলো খুব সহজ ভাষায় বুঝানো হয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের চোখের যিনা হলো দেখা, কানের যিনা হলো শোনা, জিহ্বার যিনা হলো কথা বলা, হাতের যিনা হলো স্পর্শ করা, পায়ের যিনা হলো সেই পথে চলা, আর অন্তরের যিনা হলো আকাঙ্ক্ষা করা। শেষে বলা হয়েছে, লজ্জাস্থান তা সত্য বা মিথ্যা প্রমাণ করে। এর মানে পাপ একবারে শুরু হয় না; অনেক সময় দৃষ্টি, কথা, শোনা, স্পর্শ ও মনের ইচ্ছা থেকে তা ধীরে ধীরে বড় পাপে গড়ায়। তাই চোখের হেফাজত, কানের হেফাজত, কথার হেফাজত এবং অন্তরের পবিত্রতা—সবই জরুরি। এই হাদিস আমাদের ছোট ছোট পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যিনার দিকে নিয়ে যায় এমন দৃষ্টি, কথা ও স্পর্শ থেকে বাঁচতে হবে।
- অন্তরের খারাপ আকাঙ্ক্ষাও মানুষকে ভুল পথে নিতে পারে।
- পাপের শুরু ছোট মনে হলেও তার শেষ বড় হতে পারে।
- চোখ, কান, জিহ্বা, হাত ও পা—সব অঙ্গের হেফাজত দরকার।
