১১/১. অধ্যায়ঃ
ঊপদেশ হাদিস ১৩৭ - কবীরা গোনাহের পরিচয়
শিরক
কবীরা গোনাহ: শিরক, পিতা-মাতার অবাধ্যতা ও মিথ্যার ভয়াবহতা
ঊপদেশ : ১৩৭
ঊপদেশহাদিস নম্বর ১৩৭
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ الْكَبَائِرُ الإِشْرَاكُ بِاللهِ، وَعُقُوْقُ الْوَالِدَيْنِ، وَقَتْلُ النَّفْسِ، وَالْيَمِيْنُ الْغَمُوْسُ. وَفِي رِوَايَةِ أَنَسٍ: وَشَهَادَةُ الزُّوْرِ.
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল ‘আছ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরশাদ করেছেন যে, ‘কাবীরা গোনাহ সমূহ হল-(১) আল্লাহর সাথে শরীক করা(২) পিতামাতার অবাধ্য হওয়া(৩) মানুষ হত্যা করা এবং(৪) মিথ্যা শপথ করা’ (বুখারী হা/৬৬৭৫)। কিন্তু আনাস (রাঃ)-এর বর্ণনায় ‘মিথ্যা শপথ’-এর বদলে ‘মিথ্যা সাক্ষ্য’ শব্দ এসেছে
(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫১)।
ঊপদেশ হাদিস ১৩৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কবীরা গোনাহের কয়েকটি বড় দিক বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কবীরা গোনাহ হলো আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, মানুষ হত্যা করা এবং মিথ্যা শপথ করা। বর্ণনায় আরও এসেছে, আনাস (রাঃ)-এর বর্ণনায় মিথ্যা শপথের বদলে মিথ্যা সাক্ষ্য শব্দ এসেছে। এখানে দুটি বর্ণনার শব্দ আলাদা হওয়ায় ব্যাখ্যায় সতর্ক থাকা দরকার। শিরক ঈমানের মূলকে নষ্ট করে। পিতা-মাতার অবাধ্যতা পারিবারিক দায়িত্ব নষ্ট করে। মানুষ হত্যা জীবনের নিরাপত্তা ভাঙে। আর মিথ্যা শপথ বা মিথ্যা সাক্ষ্য মানুষের অধিকার ও বিচারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই এই হাদিস ব্যক্তিগত ইবাদত, পরিবার, সমাজ ও ন্যায়বিচার—সব ক্ষেত্রেই সতর্কতার ডাক দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিরক কবীরা গোনাহের মধ্যে প্রথমে উল্লেখ হয়েছে।
- পিতা-মাতার অবাধ্যতা বড় পাপ হিসেবে এসেছে।
- অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা গুরুতর গোনাহ।
- মিথ্যা শপথ ও মিথ্যা সাক্ষ্য অধিকার নষ্ট করতে পারে।
