১১/১. অধ্যায়ঃ
ঊপদেশ হাদিস ১৬১ - শিরক থেকে আমল রক্ষার শিক্ষা
শিরক
শিরক থেকে আমল রক্ষা: আল্লাহর জন্য খাঁটি ইবাদত
ঊপদেশ : ১৬১
ঊপদেশহাদিস নম্বর ১৬১
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى أَنَا أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنْ الشِّرْكِ مَنْ عَمِلَ عَمَلاً أَشْرَكَ فِيهِ مَعِي غَيْرِي تَرَكْتُهُ وَشِرْكَهُ وفي روايةٍ : فَاَنَا مِنْهُ بَرِيٌ هُوَ الَّذِيْ عَمَلَهُ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূল (ﷺ) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আমি অংশীদারদের অংশীদারিত্ব হতে সম্পূর্ণ মুক্ত। যে ব্যক্তি কোন কাজ করে আর ঐ কাজে আমার সাথে অন্য কাউকে শরীক করে আমি ঐ অংশীদারকেও অংশীদারীকে প্রত্যাখ্যান করি’। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘আমি ঐ ব্যক্তির কর্ম হতে মুক্ত’
(মুসলিম, মিশকাত হা/৫৩১৫ বঙ্গানুবাদ ৯ম খণ্ড হা/৫০৮৪)।
ঊপদেশ হাদিস ১৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, ইবাদত ও সৎকাজ শুধু আল্লাহর জন্য হতে হবে। এখানে আল্লাহ তা‘আলা নিজেই বলেছেন, তিনি অংশীদারদের অংশীদারিত্ব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। অর্থাৎ কেউ যদি কোনো আমল করে, কিন্তু সেই আমলে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করে, তাহলে সেই আমল আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য থাকে না। শিরক শুধু প্রকাশ্য মূর্তি বা বস্তু পূজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; আমলের উদ্দেশ্যে অন্য কারও সন্তুষ্টি, মর্যাদা বা প্রশংসা ঢুকে গেলে সেটিও ভয়ংকর বিষয়। এই হাদিস আমাদের নিয়ত ঠিক করার কথা স্মরণ করায়। তাই নামাজ, দান, শিক্ষা, দাওয়াত বা যে কোনো ভালো কাজের আগে নিজের অন্তরকে জিজ্ঞেস করা দরকার—আমি এটা কার জন্য করছি?
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আমল আল্লাহর জন্য খাঁটি না হলে তা গ্রহণযোগ্যতার ঝুঁকিতে পড়ে।
- ইবাদতে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা বড় সতর্কতার বিষয়।
- প্রতিটি ভালো কাজের আগে নিয়ত যাচাই করা দরকার।
- মানুষের প্রশংসা নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টিই আমলের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
