১/২. অধ্যায়ঃ
ঊপদেশ হাদিস ৫ - বায়আত ও বড় গুনাহ থেকে সতর্কতা
মানার উদ্দেশ্যে উপদেশ শুনতে হবে
বায়আতের শর্ত ও বড় গুনাহ থেকে বাঁচার শিক্ষা
ঊপদেশ : ৫
ঊপদেশহাদিস নম্বর ৫
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَحَوْلَهُ عِصَابَةٌ مِنْ أَصْحَابِهِ بَايِعُونِى عَلَى أَنْ لاَ تُشْرِكُوا بِاللهِ شَيْئًا، وَلاَ تَسْرِقُوا، وَلاَ تَزْنُوا، وَلاَ تَقْتُلُوا أَوْلاَدَكُمْ، وَلاَ تَأْتُوا بِبُهْتَانٍ تَفْتَرُونَهُ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَأَرْجُلِكُمْ، وَلاَ تَعْصُوا فِى مَعْرُوفٍ، فَمَنْ وَفَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللهِ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعُوقِبَ فِى الدُّنْيَا فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا ثُمَّ سَتَرَهُ اللهُ، فَهُوَ إِلَى اللهِ إِنْ شَاءَ عَفَا عَنْهُ، وَإِنْ شَاءَ عَاقَبَهُ. فَبَايَعْنَاهُ عَلَى ذَلِكَ.
ওবাদাহ বিন ছামেত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা একদল সাহাবী দ্বারা আবেষ্টিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে বললেন, তোমরা আমার নিকটে বায়’আত কর এ বিষয়ে যে,(১) তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কিছুকে শরীক করবে না(২) চুরি করবে না।(৩) যেনা করবে না(৪) তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না(৫) কারু প্রতি অপবাদ দিবে না(৬) মা’রূফ তথা শরী’আত সংগত বিষয়ে অবাধ্যতা করবে না।অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এসব অঙ্গীকার পূর্ণ করবে, তার পুরস্কার আল্লাহর নিকটে রয়েছে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি এসবের কোন একটি করবে, তার জন্য যদি দুনিয়াতে (আইন সঙ্গতভাবে) শাস্তি হয়, তবে সেটা তার জন্য কাফ্ফারা হবে (এজন্য আখেরাতে পুনরায় শান্তি হবে না)। আর যে ব্যক্তি উক্ত পাপসমূহের কোন একটি করেছে, অথচ আল্লাহ তা ঢেকে দিয়েছেন (বা দুনিয়ায় কোন শাস্তি হয়নি), তাহলে সে বিষয়টি আল্লাহর উপরে নির্ভর করে। তিনি ইচ্ছা করলে উক্ত অপরাধ মাফ করতে পারেন, শাস্তিও দিতে পারেন। রাবী বলেন, আমরা এসকল কথার উপরে তাঁর নিকটে বায়’আত করলাম
(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৮)। অত্র হাদীসে বুঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে কথাগুলি বলতেন সে কথাগুলি মেনে চলার জন্য সাহাবীদের নিকট থেকে ওয়াদা বা অঙ্গীকার নিতেন।কোন কোন সাহাবী রাসূল (ﷺ)-এর মুখ থেকে কিছু শুনে বলতেন, وَالَّذِيْ نَفْسِيْ بِيَدِهِ لَا أَزِيْدُ عَلَى هَذَا شَيْئًا وَلَا أَنْقُصُ مِنْهُ. ‘আল্লাহর কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, যা শুনলাম তার কম-বেশি করব না’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৪)।সাহাবীগণ জান্নাতে প্রবেশের এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের আমল শুনতে চাইতেন (তিরমিযী, মিশকাত হা/২৯, হাদীস সহীহ)।
ঊপদেশ হাদিস ৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীদের কাছ থেকে বায়আত নেন। তিনি বলেন, তারা যেন আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করে, চুরি না করে, যেনা না করে, সন্তান হত্যা না করে, কারও প্রতি অপবাদ না দেয় এবং শরীআতসম্মত বিষয়ে অবাধ্যতা না করে। এরপর তিনি জানান, যে এসব অঙ্গীকার পূর্ণ করবে, তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে। কেউ যদি কোনো অপরাধ করে এবং দুনিয়াতে শাস্তি পায়, তা তার জন্য কাফফারা হতে পারে। আর আল্লাহ যদি তা ঢেকে রাখেন, তাহলে বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছার উপর। এই হাদিসে বায়আত, তাওহীদ, নৈতিকতা, অপরাধ থেকে বাঁচা এবং আল্লাহর বিচার—সব মিলিয়ে দায়িত্বশীল জীবনের শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিরক, চুরি, যেনা, অপবাদ ও অন্যায় থেকে দূরে থাকা জরুরি।
- শরীআতসম্মত বিষয়ে অবাধ্যতা করা ঠিক নয়।
- অঙ্গীকার পূরণ করলে প্রতিদান আল্লাহর কাছে।
- গুনাহের বিচার আল্লাহর ইচ্ছা ও ন্যায়ের সঙ্গে জড়িত।
