৬/১. অধ্যায়ঃ
ঊপদেশ হাদিস ৯৪ - মদপানের শাস্তি ও সমাজে হারাম ঠেকানোর শিক্ষা
নেশাদার দ্রব্য
মদ এমন একটি বস্তু যা বিবেককে আচ্ছন্ন করে ফেলে। আর বিবেক আচ্ছন্ন হলে মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। এজন্য রাসূল (ﷺ) বলেছেন, মদ হচ্ছে সকল অশ্লীল কর্মের মূল। উল্লেখ্য যে, মদ কোন নির্ধারিত বস্তুর নাম নয়। যেসব বস্তু বেশী পরিমাণ খেলে বিবেকের ক্ষতি হয় তার অল্প বস্তুও মদ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلاَمُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ- إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمْ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللهِ وَعَنْ الصَّلاَةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنتَهُونَ-হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কর্ম। অতএব তোমরা এগুলি থেকে বেঁচে থাক। যাতে তোমরা কল্যাণ প্রাপ্ত হও। শয়তান তোমাদের মাঝে মদ ও জুয়ার মাধ্যমে শত্র“তা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করতে চায় এবং আল্লাহর যিক্র ও ছালাত থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে চায়। তাহলে কি তোমরা বিরত থাকবে’? (মায়িদাহ ৯০-৯১)
মদপানের শাস্তি: শরীয়তী সতর্কতা ও সামাজিক শিক্ষা
ঊপদেশ : ৯৪
ঊপদেশহাদিস নম্বর ৯৪
عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَضْرِبُ فِي الخَمْرِ بِالنِّعَالِ وَالجَرَبِ اَرْبَعِيْنَ.
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূল (ﷺ) নেশাদার দ্রব্যপানকারীকে জুতা ও বেতের মাধ্যমে ৪০ বার মারতেন
(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬১৫; বাংলা মিশকাত ৭ম খণ্ড, হা/৩৪৫১ ‘শাস্তি’ অধ্যায়)। ওমর (রাঃ)-এর যুগে নেশাদার দ্রব্য পানকারীদের সংখ্যা বেশী হলে তিনি ৮০ বেত্রাঘাত করতেন (বুখারী, মিশকাত হা/৩৬১৬)।
ঊপদেশ হাদিস ৯৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মদপানের শরীয়তী শাস্তির একটি ঘটনা এসেছে। আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নেশাদার দ্রব্য পানকারীকে জুতা ও বেতের মাধ্যমে ৪০ বার মারতেন। পরে উমর (রাঃ)-এর সময়ে যখন নেশাদার দ্রব্য পানকারীদের সংখ্যা বেড়ে যায়, তিনি ৮০ বেত্রাঘাত করতেন বলে বর্ণনায় এসেছে। এই হাদিসের আলোচনা বিচার ও শাস্তির বিষয়, তাই তা ব্যক্তিগতভাবে প্রয়োগের বিষয় নয়; এটি দায়িত্বশীল বিচারব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। সরাসরি শিক্ষা হলো, ইসলাম মদপানকে ব্যক্তিগত পছন্দ হিসেবে দেখে না; বরং এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তাই মাদক থেকে দূরে থাকা জরুরি। তাই পরিবার, শিক্ষা ও সমাজে মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তোলা এই হাদিসের সাথে মানানসই শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মদপানকে শরীয়তে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখা হয়েছে।
- শাস্তির বিষয় দায়িত্বশীল বিচারব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত।
- সমাজে মাদক ছড়ানো বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- মাদক থেকে বাঁচা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্য দরকার।
