২/১. অধ্যায়ঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক অঞ্জলি পানি দিয়ে কুলি করেছেন ও নাকে দিয়েছেন।
(মুসলিম ৫৫৫)
২/২. অধ্যায়ঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন ফরজ গোসল করতেন, তখন প্রথমে স্বীয় হস্তদ্বয় ধৌত করতেন। অতঃপর নামাজের ওজুর ন্যায় ওজু করতেন। তারপর তাঁর দু’হাত দিয়ে তিন অঞ্জলি পানি নিজের মাথায় ঢালতেন। পরিশেষে সমস্ত শরীরে পানি ঢেলে দিতেন।”
(বুখারী ২৩৪)
২/৩. অধ্যায়ঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যে কেউ সুন্দর করে ওজু করে বলে, ‘আশহাদু আনলা ইলাহা ইল্লা-ল্লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আ’বদুহু ওয়া রাসূলুহ’ তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হবে। সে যেটা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করবে।”
(মুসলিম ২৩৪)
২/৪. অধ্যায়ঃ
তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) একসা’ হতে পাঁচ মুদ (কম-বেশী ২৫০০ থেকে ৩১২৫ গ্রাম) পর্যন্ত পানি দিয়ে গোসল এবং এক মুদ (কম-বেশী ৬২৫ গ্রাম) পানি দিয়ে ওজু করতেন।”
(বুখারী ২০১, মুসলিম ৩২৫)
২/৫. অধ্যায়ঃ
নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার ন্যায় এরূপ ওজু করে একাগ্র চিত্তে দু’রাকআত নামাজ পড়বে, তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’’
(বুখারী ১৫৯, মুসলিম ৫৩৯)
২/৬. অধ্যায়ঃ
তিনি নবী করীম (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন, “যখন তোমরা মুআযযিনের আযান শুনবে, তখন তোমরাও তার সাথে অনুরূপ বলবে। তারপর আমার উপর দরূদ পাঠ করবে। কেননা যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করে, তার উপর আল্লাহ্ দশটি রহমত বর্ষণ করেন।” (মুসলিম ৩৮৪) নবীর উপর দরূদ পাঠ করে এই দোয়াটি পড়বে, অর্থাৎ, হে আল্লাহ্! এই পূর্ণ আহ্বান এবং প্রতিষ্ঠিত নামাজের প্রভু, মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে সম্মান ও উচ্চতম মর্যাদা দান করো। তাঁকে মাক্কামি মাহমুদে (প্রশংসিত স্থানে) পৌঁছিয়ে দাও, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাঁকে দিয়েছো।” (বুখারী) যে ব্যক্তি এই দোয়াটি পড়বে, তার জন্য নবীর সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যাবে।
২/৭. অধ্যায়ঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “আমার উম্মতের উপর যদি কষ্টকর মনে না করতাম, তাহলে তাদেরকে প্রত্যেক নামাজের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ করতাম।” (বুখারী ৮৮৭, মুসলিম ২৫২) **
নিদ্রা থেকে জাগ্রত হয়ে, অযু করার সময়, মুখের গন্ধ পরিবর্তন হলে, কোরআন তেলাওয়াতের সময় এবং বাড়িতে প্রবেশ করে মিসওয়াক করাও সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত।
২/৮. অধ্যায়ঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “আর তারা যদি জানতো অগ্রিম নামাজে আসার ফযীলত কত বেশি, তাহলে অবশ্যই তারা আগেই (নামাজের জন্য) আসতো।” (বুখারী ৬১৫, মুসলিম ৪৩৭)
২/৯. অধ্যায়ঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) “আমি কি তোমাদের এমন জিনিসের খবর দেবো না যার দ্বারা আল্লাহ্ গুনাহ মাফ করেন এবং তোমাদের মর্যাদা উন্নত হয়? সাহাবাগণ বললেন, অবশ্যই বলুন হে আল্লাহ্র রাসূল! তিনি বললেন, তা হচ্ছে, কষ্টের সময় সুন্দরভাবে অযু করা, মসজিদের দিকে বেশি বেশি পদচারণা করা এবং এক নামাজের পর অন্য নামাজের জন্য অপেক্ষা করা। আর ইহা হলো জিহাদে প্রতিরক্ষার কাজের ন্যায়।” (মুসলিম ২৫১)
২/১০. অধ্যায়ঃ
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “যখন নামাজ আরম্ভ হয়ে যায়, তখন দৌড়ে তাতে শামিল হয়ো না। বরং ধীরস্থির ভাবে হেঁটে এসে তাতে শামিল হও। যতটুকু পাও পড়ে নাও এবং যতটুকু ছুটে যায় পরে পূরণ করে নাও।” (বুখারী ৯০৮, মুসলিম ৬০২)