২/২৩. অধ্যায়ঃ

১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস হাদিস ২৮ - ইস্তিখারার নামায ও দুআ

ইস্তিখারা (কল্যাণ কামনার) নামায পড়া

ইস্তিখারার নামায: সিদ্ধান্তে আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া

১০০ সুসাব্যস্ত হাদীসহাদিস নম্বর ২৮

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে ঐভাবেই ইস্তিখারার নামাজ শিখাতেন, যেভাবে তিনি আমাদেরকে কোরআনের সূরা শিখাতেন।” (বুখারী ১১৬৬) এই নামাজের নিয়ম হলো, প্রথম দু’রাকআ’ত নামাজ আদায় করবে তারপর এই দোয়াটি পড়বে, (আল্লাহুম্মা ইন্নী আস্তাখীরুকা বি’ইলমিকা, ওয়া আস্তাক্বদিরুকা বি ক্বুদরাতিকা, ওয়া আসআলুকা মিন ফাযলিকাল ‘আযীম, ফা ইন্নাকা তাক্বদিরু ওয়ালা আক্বদিরু, ওয়া তা’লামু ওয়ালা আ’লামু, ওয়া আন্তা ‘আল্লা-মুল গুয়ূব, আল্লাহুম্মা ইন কুন্তা তা’লামু আন্না হা-যাল আমরা খায়রুল লী ফী দ্বীনী ওয়া মা’আ-শী ওয়া আ’ক্বিবাতি আমরী ফাক্বদিরহু লী ওয়া ইয়াসসিরহু লী ছুম্মা বারিকলী ফী-হ, ওয়া ইন কুন্তা তা’লামু আন্না হা-যাল আমরা শাররুল লী ফী দ্বীনী ওয়া মা’আ-শী ওয়া আক্বিবাতি আমরী ফাসরিফহু আ’ন্নী ওয়াছরিফনী ‘আনহু ওয়াক্বদির লিইয়াল খায়রা হাইছু কা-না ছুম্মা আরযিনী বিহী) অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমি তোমার ইলমের মাধ্যমে তোমার নিকট কল্যাণ কামনা করছি। তোমার ক্বুদরতের মাধ্যমে তোমার নিকট শক্তি কামনা করছি এবং তোমার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। তুমি শক্তিধর আমি শক্তিহীন। তুমি জ্ঞানবান, আমি জ্ঞানহীন এবং তুমি অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানী, হে আল্লাহ্! এই কাজটি (এখানে উদ্দিষ্ট কাজটি উল্লেখ করবে) তোমার জ্ঞান মুতাবিক যদি আমার দ্বীন, আমার জীবিকা এবং আমার কাজের পরিণতির দিক কল্যাণকর হয়, তবে উহা আমার জন্য নির্ধারিত করে দাও এবং উহাকে আমার জন্য সহজলভ্য করে দাও, অতঃপর উহাতে আমার জন্য বরকত দাও। আর যদি এই কাজটি তোমার জ্ঞানের আলোকে আমার দ্বীন, আমার জীবিকা এবং আমার কাজের পরিণতির দিক দিয়ে অনিষ্টকর হয়, তবে উহাকে আমার নিকট থেকে দূরে সরিয়ে দাও এবং আমাকেও উহা হতে দূরে সরিয়ে রাখো। তারপর কল্যাণ যেখানেই থাকুক, আমার জন্য সে কল্যাণ নির্ধারিত করে দাও। অতঃপর তাতেই আমাকে পরিতুষ্ট রাখো।’’

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
হাদিস প্রজেক্ট টীম কতৃক সংগৃহীত
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস হাদিস ২৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ইস্তিখারার নামায। বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের ইস্তিখারা এমনভাবে শেখাতেন, যেমন কুরআনের সূরা শেখাতেন। এরপর দু’রাকআত নামায পড়ে একটি দুআ পড়ার কথা এসেছে। দুআর কথাগুলোতে বান্দা আল্লাহর ইলম, কুদরত ও অনুগ্রহের মাধ্যমে কল্যাণ চায়। যদি কাজটি দ্বীন, জীবিকা ও পরিণতির দিক থেকে ভালো হয়, তবে তা সহজ ও বরকতময় করার প্রার্থনা করে। আর ক্ষতিকর হলে তা দূরে সরিয়ে কল্যাণ যেখানে আছে সেখানে নিয়ে যাওয়ার দুআ করে। এই হাদিস সিদ্ধান্তের সময় আল্লাহর ওপর ভরসা শেখায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইস্তিখারা গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়ার আমল।
  • ইস্তিখারায় দু’রাকআত নামাযের পর দুআ পড়ার কথা এসেছে।
  • বান্দা নিজের অক্ষমতা মেনে আল্লাহর ইলম ও কুদরতের সাহায্য চায়।
  • যেখানে কল্যাণ আছে, সেটিতে সন্তুষ্ট থাকার দুআ করা হয়।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন