৬/৪. অধ্যায়ঃ
১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস হাদিস ৬১ - সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহির ফজিলত
তাসবীহ পাঠ করা
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি যিকরের ফজিলত ও শিক্ষা
১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস : ৬১
১০০ সুসাব্যস্ত হাদীসহাদিস নম্বর ৬১
জুয়াইরিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা সকালের নামায পড়ে তাঁর কাছ থেকে উঠে বাইরে গেলেন। তিনি তখন তাঁর মসজিদ (নামাযের স্থানে) বসে ছিলেন। তারপর নবী (ﷺ) চাশ্তের সময় ফিরে এলেন। তখনও তিনি (জুয়াইরিয়া) বসে ছিলেন। তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, “আমি তোমাকে যে অবস্থায় রেখে গিয়েছিলাম সেই অবস্থাতেই তুমি তখন থেকে বসে রয়েছ? তিনি জবাবে বললেন, হ্যাঁ।নবী করীম (ﷺ) বললেন, ‘আমি তোমার নিকট থেকে যাওয়ার পর চারটি কালেমা তিনবার পাঠ করেছি। আজ এ পর্যন্ত যা তুমি পাঠ করেছো তার সাথে ওজন করলে এই কালেমা চারটির ওজনই বেশি। কালেমা গুলো হলো, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আদাদা খালক্বিহি, ওয়া রিযা নাফসিহি, ওয়া যিনাতা আরশিহি, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহি।’ অর্থাৎ, আমি আল্লাহ্র প্রশংসা সহ পবিত্রতা বর্ণনা করছি তাঁর অগণিত সৃষ্টির সমান, তাঁর সন্তুষ্টি সমান, তাঁর আরশের ওজনের পরিমাণ ও তাঁর কালেমা লিখতে যত কালির প্রয়োজন হয় সেই পরিমাণ।
(মুসলিম ২৭২৬)
১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস হাদিস ৬১-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: যিকর। এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু ভারী যিকর শিক্ষা দিয়েছেন। জুয়াইরিয়া রাঃ সকাল থেকে চাশতের সময় পর্যন্ত তাঁর নামাযের স্থানে বসে ছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তিনি যাওয়ার পর চারটি কালেমা তিনবার বলেছেন, যা সেদিন তাঁর দীর্ঘ সময়ের পাঠের সঙ্গে ওজন করলে বেশি ভারী হবে। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, যিকরের মূল্য শুধু সময়ের দৈর্ঘ্যে নয়; বরং শব্দের অর্থ, আল্লাহর প্রশংসা ও আন্তরিকতার দিক থেকেও বড় হতে পারে। এখানে মূল দুআ হলো: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আদাদা খালকিহি, ওয়া রিযা নাফসিহি, ওয়া যিনাতা আরশিহি, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহি। বাংলা অর্থে এতে আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা তাঁর সৃষ্টি, সন্তুষ্টি, আরশের ওজন এবং তাঁর কালেমার বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত করে বলা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অল্প সময়েও অর্থবহ যিকর করা যায়।
- আল্লাহর প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা করা মুমিনের সুন্দর আমল।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহজ শব্দে বড় শিক্ষা দিয়েছেন।
- যিকরের শব্দ ও অর্থ বুঝে পড়া বেশি মনোযোগ আনতে পারে।
