৬/১. অধ্যায়ঃ
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “তোমরা কোরআন পড়ো, কারণ তা কেয়ামতের দিন তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হয়ে আগমন করবে।”
(মুসলিম ৮০৪)
৬/২. অধ্যায়ঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন, “আল্লাহ্ নবী করীম (ﷺ) যেরূপ মধুর সুরে কোরআন তেলাওয়াত করার অনুমতি দিয়েছেন অন্য কোন জিনিসকে ঐরূপ পড়ার অনুমতি দেন নাই। তিনি উচ্চস্বরে সুন্দর সুরে তেলাওয়াত করতেন।”
(বুখারী ৭৫৪৪, মুসলিম ৭৯২)
৬/৩. অধ্যায়ঃ
তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বাবস্থায় আল্লাহ্র যিক্র করতেন।”
(মুসলিম ৩৭৩)
৬/৪. অধ্যায়ঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা সকালের নামায পড়ে তাঁর কাছ থেকে উঠে বাইরে গেলেন। তিনি তখন তাঁর মসজিদ (নামাযের স্থানে) বসে ছিলেন। তারপর নবী (ﷺ) চাশ্তের সময় ফিরে এলেন। তখনও তিনি (জুয়াইরিয়া) বসে ছিলেন। তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, “আমি তোমাকে যে অবস্থায় রেখে গিয়েছিলাম সেই অবস্থাতেই তুমি তখন থেকে বসে রয়েছ? তিনি জবাবে বললেন, হ্যাঁ।নবী করীম (ﷺ) বললেন, ‘আমি তোমার নিকট থেকে যাওয়ার পর চারটি কালেমা তিনবার পাঠ করেছি। আজ এ পর্যন্ত যা তুমি পাঠ করেছো তার সাথে ওজন করলে এই কালেমা চারটির ওজনই বেশি। কালেমা গুলো হলো, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আদাদা খালক্বিহি, ওয়া রিযা নাফসিহি, ওয়া যিনাতা আরশিহি, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহি।’ অর্থাৎ, আমি আল্লাহ্র প্রশংসা সহ পবিত্রতা বর্ণনা করছি তাঁর অগণিত সৃষ্টির সমান, তাঁর সন্তুষ্টি সমান, তাঁর আরশের ওজনের পরিমাণ ও তাঁর কালেমা লিখতে যত কালির প্রয়োজন হয় সেই পরিমাণ।
(মুসলিম ২৭২৬)
৬/৫. অধ্যায়ঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয়, তখন সে যেন বলে, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এবং তার ভাই অথবা সাথী যেন (উত্তরে) বলে, ‘ইয়ারহামু কাল্লাহ’ অতঃপর সে যেন বলে, ‘ইয়াহদীকুমুল্লাহু ওয়া ইউস্লিহ বালাকুম’।”
(বুখারী ৬২২৪)
৬/৬. অধ্যায়ঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে বলতেন, “লা বাসা ত্বহুর ইনশাআল্লাহ্” (চিন্তার কোন কারণ নেই আল্লাহ্ চাহে তো পাপ মোচন হবে)।
(বুখারী ৫৬৬২)
৬/৭. অধ্যায়ঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সেই ব্যথার অভিযোগ করলেন, যা তিনি ইসলাম গ্রহণের পর থেকে তাঁর শরীরে অনুভব করে আসছেন। তা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “শরীরে যেখানে ব্যথা অনুভব করছো সেখানে হাত রেখে তিনবার ‘বিসমিল্লাহ’ বলো এবং সাতবার ‘আউযু বিল্লাহি ওয়া ক্বুদরতিহি মিন শার্রি মা আজিদু ওয়া উহাযির’ (আমি আল্লাহ্র মর্যাদা এবং তাঁর ক্বুদরতের মাধ্যমে সেই ব্যথা থেকে আশ্রয় কামনা করছি, যা আমি অনুভব করছি এবং যার আমি আশঙ্কা করছি) পড়ো।”
(মুসলিম ২২০২)
৬/৮. অধ্যায়ঃ
নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, “যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনবে, তখন আল্লাহ্র অনুগ্রহ চাইবে। কারণ, সে ফেরেশতা দেখেছে। আর যখন গাধার আওয়াজ শুনবে, তখন আল্লাহ্র নিকট শয়তান থেকে আশ্রয় কামনা করবে। কারণ, সে শয়তান দেখেছে।’
(বুখারী ৩৩০৩, মুসলিম ২৭২৯)
৬/৯. অধ্যায়ঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বৃষ্টি হতে দেখতেন, তখন বলতেন, “আল্লাহুম্মা সাইয়েবান নাফিআ” (হে আল্লাহ্ মুষলধারে উপকারী বৃষ্টি বর্ষাও)।
(বুখারী ১০৩২)
৬/১০. অধ্যায়ঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন, “যখন মানুষ স্বীয় বাড়িতে প্রবেশ করার সময় মহান আল্লাহ্র যিক্র করে নেয়, তখন শয়তান (তার সহচরদের) বলে, না তোমরা রাত্রিবাস করতে পারবে, আর না রাতের খাবার পাবে। কিন্তু প্রবেশ করার সময় যদি আল্লাহ্র যিক্র না করে, তবে বলে, রাত্রিবাসও করতে পারবে এবং রাতের খাবারও পাবে।”
(মুসলিম ২০১৮)