৬/১৩. অধ্যায়ঃ
১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস হাদিস ৭০ - ঝড়-তুফানের দোয়া
ঝড়-তুফানের সময় দু‘আ পড়া
ঝড়-তুফানের দোয়া: কল্যাণ চাওয়া ও অনিষ্ট থেকে আশ্রয়
১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস : ৭০
১০০ সুসাব্যস্ত হাদীসহাদিস নম্বর ৭০
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসুল (ﷺ) ঝড়-তুফানের সময় বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা খায়রাহা ওয়া খায়রা মা-ফীহা ওয়া খায়রা মা-উরসিলাত বিহি, ওয়া আউযু বিকা মিন শার্রিহা ওয়া শার্রি মা-ফিহা ওয়া শার্রি মা-উরসিলাত বিহি’ (হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট উহার (ঝড়-তুফানের) কল্যাণ কামনা করছি এবং আমি উহার ভিতরে নিহিত কল্যাণ চাচ্ছি, আর সেই কল্যাণ যা উহার সাথে প্রেরিত হয়েছে। আর আমি উহার অনিষ্ট হতে, উহার ভিতরে নিহিত অনিষ্ট থেকে এবং যে ক্ষতি উহার সাথে প্রেরিত হয়েছে তার অনিষ্ট হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।)
(মুসলিম ৮৯৯)
১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস হাদিস ৭০-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: বিপদের দোয়া। এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঝড়-তুফানের সময় যে দোয়া পড়তেন, তা বলা হয়েছে। দোয়ায় তিনি ঝড়ের কল্যাণ, তার ভেতরে থাকা কল্যাণ এবং যার জন্য তা পাঠানো হয়েছে সেই কল্যাণ আল্লাহর কাছে চাইতেন। একই সঙ্গে তিনি ঝড়ের অনিষ্ট, তার ভেতরের অনিষ্ট এবং তার সঙ্গে পাঠানো ক্ষতির অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতেন। এই দোয়া খুব ভারসাম্যপূর্ণ। এতে শুধু ভয় নেই, আবার শুধু নিশ্চিন্ততাও নেই। বরং কল্যাণ চাইতে বলা হয়েছে এবং ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর আশ্রয় নিতে শেখানো হয়েছে। ঝড়-তুফানের দোয়া আমাদের মনে করায়, প্রকৃতির বড় ঘটনার সামনে মানুষ দুর্বল। তাই মুমিন আতঙ্ক ছড়ায় না; আল্লাহর কাছে ভালো চায় এবং অনিষ্ট থেকে আশ্রয় নেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঝড়-তুফানের সময় আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া উচিত।
- প্রাকৃতিক বিপদের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় নিতে শেখানো হয়েছে।
- ভয়ের সময় দোয়া মুমিনের মনকে আল্লাহর দিকে ফেরায়।
- দোয়ায় কল্যাণ ও নিরাপত্তা—দুটিই চাওয়া যায়।
