৪/৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১২০৩ - একাকী রাখালের আজান ও সালাত
সফরে আজান দেয়া
একাকী আজান ও সালাত: আল্লাহভীতির সুন্দর শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ১২০৩
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১২০৩
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّ أَبَا عُشَّانَةَ الْمَعَافِرِيَّ، حَدَّثَهُ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «يَعْجَبُ رَبُّكُمْ مِنْ رَاعِي غَنَمٍ فِي رَأْسِ شَظِيَّةٍ بِجَبَلٍ يُؤَذِّنُ بِالصَّلاَةِ وَيُصَلِّي فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي هَذَا يُؤَذِّنُ وَيُقِيمُ الصَّلاَةَ يَخَافُ مِنِّي فَقَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي وَأَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ " .
‘উক্ববাহ্ ইবনু ‘আমির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, যখন কোন বকরীর রাখাল পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থানকালে আযান দিয়ে সালাত আদায় করে তখন মহান আল্লাহ তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে বলেনঃ (হে মালায়িকাহ)! তোমরা আমার বান্দার দিকে তাকিয়ে দেখো, সে আযান দিয়ে সালাত আদায় করছে। সে তো আমাকে ভয় করার কারণেই এরূপ করছে। কাজেই আমি আমার এ বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১২০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক বকরির রাখালের কথা এসেছে, যে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান করে আজান দেয় এবং সালাত আদায় করে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, মহান আল্লাহ তাঁর বান্দার এই আমল দেখে ফেরেশতাদের বলেন, আমার বান্দার দিকে তাকিয়ে দেখো, সে আজান দিচ্ছে এবং সালাত আদায় করছে; সে আমাকে ভয় করার কারণেই এমন করছে। এরপর আল্লাহ বলেন, তিনি এই বান্দাকে ক্ষমা করেছেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, মানুষ একা থাকলেও সালাত ও আজানের গুরুত্ব কমে না। লোক দেখানোর সুযোগ না থাকলেও আল্লাহভীতি নিয়ে ইবাদত করা বড় মর্যাদার বিষয়। আজান, সালাত, একাকী ইবাদত এবং তাকওয়ার শিক্ষা এই বর্ণনায় খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একাকী অবস্থায়ও সালাতের গুরুত্ব বজায় থাকে।
- আজান দিয়ে সালাত আদায় করা আল্লাহভীতির প্রকাশ হতে পারে।
- লোকচক্ষুর আড়ালে ইবাদত করলে তা আল্লাহর কাছে মূল্যবান হতে পারে।
- ইবাদতের মূল শক্তি হলো আল্লাহকে ভয় করা ও তাঁর জন্য আমল করা।
