৪/৭. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১২২৩ - সফরে কসর সালাতের অনুসরণ

সফরে নফল সালাত আদায়

সফরে কসর সালাত ও রাসূলের আদর্শ

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১২২৩

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَفْصِ بْنِ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ صَحِبْتُ ابْنَ عُمَرَ فِي طَرِيقٍ - قَالَ - فَصَلَّى بِنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَقْبَلَ فَرَأَى نَاسًا قِيَامًا فَقَالَ مَا يَصْنَعُ هَؤُلاَءِ قُلْتُ يُسَبِّحُونَ .قَالَ لَوْ كُنْتُ مُسَبِّحًا أَتْمَمْتُ صَلاَتِي يَا ابْنَ أَخِي إِنِّي صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فِي السَّفَرِ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَصَحِبْتُ أَبَا بَكْرٍ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَصَحِبْتُ عُمَرَ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ تَعَالَى وَصَحِبْتُ عُثْمَانَ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ تَعَالَى وَقَدْ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ﴾ لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ ﴿ .

ঈসা ইবনু হাফ্‌স (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে হতে বর্ণিতঃ

আমি এক পথে ইবনু ‘উমরের (রাঃ) সাথে ছিলাম। তিনি আমাদেরকে নিয়ে দু’ রাক’আত সালাত আদায় করেন। অতঃপর মুখ ফিরিয়ে কিছু লোককে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখে জিজ্ঞেস করেন, এরা কি করছে? আমি বললাম, নাফ্‌ল সালাত আদায় করছে। তিনি বললেন, (সফরে) নাফ্‌ল সালাত আদায় প্রয়োজন মনে করলে আমি (ফরজ) সালাত পুরো (চার রাক’আতই) আদায় করতাম।হে ভাতিজা! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সফর করেছি। তিনি মহা মহীয়ান আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত দু’ রাক’আতের বেশি আদায় করেন নি। আর আমি আবূ বকর (রাঃ) এর সফরসঙ্গী হয়েছি। তিনিও মহা মহীয়ান আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত দু’ রাক’আতের অধিক আদায় করেননি। আমি ‘উমর (রাঃ) এর সফরসঙ্গী হয়েছি। তিনিও মহামহিম আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত দু’ রাক’আতের অধিক আদায় করেননি। পরে আমি ‘উসমান (রাঃ) এর সফরসঙ্গী হয়েছি। তিনিও মহা মহীয়ান আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত দু’ রাক’আতের অধিক আদায় করেননি।কেননা মহা মহীয়ান আল্লাহ বলেছেন, “তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম আদর্শ নিহিত আছে” (সূরা আল-আহ্‌যাবঃ ২১)।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১২২৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ইবনু উমর (রাঃ) সফরে সালাতের একটি স্পষ্ট আমল তুলে ধরেছেন। তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করেন। পরে কিছু লোককে নফল সালাতে দাঁড়ানো দেখে বলেন, যদি সফরে নফল সালাত আদায় করা দরকার মনে করতাম, তবে ফরজ সালাতই পুরো চার রাকাত আদায় করতাম। এরপর তিনি বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সাথে সফর করেছেন; নবী (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত সফরে দুই রাকাতের বেশি আদায় করেননি। একই কথা তিনি আবু বকর, উমর ও উসমান (রাঃ)-এর সফর আমল সম্পর্কেও বলেন। শেষে তিনি সূরা আহযাবের আয়াত উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। তাই এই হাদিসে সফরে কসর সালাত, সুন্নাহ অনুসরণ এবং সাহাবীদের আমলের গুরুত্ব পরিষ্কারভাবে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সফরে কসর সালাতের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলকে আদর্শ ধরা হয়েছে।
  • ইবনু উমর (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم) ও খলিফাদের সফরের আমল উল্লেখ করেছেন।
  • ফরজ সালাত কসর করার প্রসঙ্গে তিনি নফল সালাত নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর আদর্শ অনুসরণকে হাদিসে সরাসরি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন