৫/২৭. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৩৪১ - রাতের সালাত ও বিতরের আদর্শ

রাতের (তাহাজ্জুদ) সালাত সম্পর্কে

রাতের সালাত ও বিতর: রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর ১১ রাকাতের আমল

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৩৪১

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ : أَنَّهُ، سَأَلَ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ ﷺ كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي رَمَضَانَ فَقَالَتْ : مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلاَ فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً : يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا، قَالَتْ عَائِشَةُ - رضى الله عنها - فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ قَالَ : «يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَىَّ تَنَامَانِ وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي» .

আবূ সালামাহ্ ইবনু 'আবদুর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদা তিনি নবী (ﷺ) এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন, রমজান ও রমজান ছাড়া অন্য সময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাত কিরূপ ছিল? তিনি বলেন, রমজান ও রমজান ছাড়া অন্য সময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এগার রাকাতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। তিনি প্রথমে চার রাকাত আদায় করতেন, খুবই সুন্দর ও দীর্ঘায়িত করে। অতঃপর চার রাকাত, তাও এতো সুন্দর ও দীর্ঘায়িত হতো যে, জিজ্ঞেস করো না। সর্বশেষে (বিতর আদায় করতেন) তিন রাকাত। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি বিতর সালাতের পূর্বে ঘুমান? তিনি বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ! আমার দু’ চোখ ঘুমায় কিন্তু আমার অন্তর জাগ্রত থাকে।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৩৪১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর রাতের সালাত সম্পর্কে পরিষ্কার বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, রমজান ও রমজান ছাড়া অন্য সময়ে নবী صلى الله عليه وسلم-এর সালাত কেমন ছিল। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সাধারণত এগারো রাকাতের বেশি আদায় করতেন না। এখানে মূল শিক্ষা হলো—রাতের সালাত শুধু রাকাত সংখ্যার বিষয় নয়, বরং সালাতের সৌন্দর্য, ধীরতা ও মনোযোগও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চার রাকাত পড়তেন, যা ছিল খুব সুন্দর ও দীর্ঘ। তারপর আবার চার রাকাত পড়তেন, তাও একইভাবে সুন্দর ও দীর্ঘ। শেষে তিন রাকাত বিতর আদায় করতেন। হাদিসে আরও আছে, তাঁর চোখ ঘুমালেও অন্তর জাগ্রত থাকত। তাই বিতর সালাত, তাহাজ্জুদ নামাজ এবং কিয়ামুল লাইল সম্পর্কে এই বর্ণনা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রাতের সালাতে রাকাত সংখ্যার পাশাপাশি ধীরতা ও সুন্দর আদায় গুরুত্বপূর্ণ।
  • রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم রমজান ও অন্য সময়েও রাতের ইবাদতে নিয়মিত ছিলেন।
  • বিতর সালাত রাতের সালাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এসেছে।
  • নবী صلى الله عليه وسلم-এর বিশেষ অবস্থা ছিল—চোখ ঘুমালেও অন্তর জাগ্রত থাকত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন