৫/২৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৩৪২ - কিয়ামুল লাইল ও নববী আদর্শ
রাতের (তাহাজ্জুদ) সালাত সম্পর্কে
কিয়ামুল লাইল ও বিতর: নবী صلى الله عليه وسلم-এর রাতের সালাতের পূর্ণ বিবরণ
সুনানে আবূ দাউদ : ১৩৪২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৩৪২
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، قَالَ : طَلَّقْتُ امْرَأَتِي فَأَتَيْتُ الْمَدِينَةَ لأَبِيعَ عَقَارًا كَانَ لِي بِهَا، فَأَشْتَرِيَ بِهِ السِّلاَحَ وَأَغْزُوَ، فَلَقِيتُ نَفَرًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ فَقَالُوا : قَدْ أَرَادَ نَفَرٌ مِنَّا سِتَّةٌ أَنْ يَفْعَلُوا ذَلِكَ فَنَهَاهُمُ النَّبِيُّ ﷺ وَقَالَ : " لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ " . فَأَتَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ فَسَأَلْتُهُ عَنْ وِتْرِ النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ : أَدُلُّكَ عَلَى أَعْلَمِ النَّاسِ بِوِتْرِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَأْتِ عَائِشَةَ رضى الله عنها . فَأَتَيْتُهَا فَاسْتَتْبَعْتُ حَكِيمَ بْنَ أَفْلَحَ فَأَبَى فَنَاشَدْتُهُ فَانْطَلَقَ مَعِي، فَاسْتَأْذَنَّا عَلَى عَائِشَةَ، فَقَالَتْ : مَنْ هَذَا قَالَ : حَكِيمُ بْنُ أَفْلَحَ . قَالَتْ : وَمَنْ مَعَكَ قَالَ : سَعْدُ بْنُ هِشَامٍ . قَالَتْ : هِشَامُ بْنُ عَامِرٍ الَّذِي قُتِلَ يَوْمَ أُحُدٍ قَالَ قُلْتُ : نَعَمْ . قَالَتْ : نِعْمَ الْمَرْءُ كَانَ عَامِرًا . قَالَ قُلْتُ : يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ حَدِّثِينِي عَنْ خُلُقِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ . قَالَتْ : أَلَسْتَ تَقْرَأُ الْقُرْآنَ فَإِنَّ خُلُقَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ كَانَ الْقُرْآنَ . قَالَ قُلْتُ : حَدِّثِينِي عَنْ قِيَامِ اللَّيْلِ قَالَتْ : أَلَسْتَ تَقْرَأُ ﴾ يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ ﴿ قَالَ قُلْتُ : بَلَى . قَالَتْ : فَإِنَّ أَوَّلَ هَذِهِ السُّورَةِ نَزَلَتْ، فَقَامَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ حَتَّى انْتَفَخَتْ أَقْدَامُهُمْ، وَحُبِسَ خَاتِمَتُهَا فِي السَّمَاءِ اثْنَىْ عَشَرَ شَهْرًا، ثُمَّ نَزَلَ آخِرُهَا فَصَارَ قِيَامُ اللَّيْلِ تَطَوُّعًا بَعْدَ فَرِيضَةٍ . قَالَ قُلْتُ : حَدِّثِينِي عَنْ وِتْرِ النَّبِيِّ ﷺ . قَالَتْ : كَانَ يُوتِرُ بِثَمَانِ رَكَعَاتٍ لاَ يَجْلِسُ إِلاَّ فِي الثَّامِنَةِ، ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي رَكْعَةً أُخْرَى، لاَ يَجْلِسُ إِلاَّ فِي الثَّامِنَةِ وَالتَّاسِعَةِ، وَلاَ يُسَلِّمُ إِلاَّ فِي التَّاسِعَةِ، ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ فَتِلْكَ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يَا بُنَىَّ، فَلَمَّا أَسَنَّ وَأَخَذَ اللَّحْمَ أَوْتَرَ بِسَبْعِ رَكَعَاتٍ لَمْ يَجْلِسْ إِلاَّ فِي السَّادِسَةِ وَالسَّابِعَةِ، وَلَمْ يُسَلِّمْ إِلاَّ فِي السَّابِعَةِ، ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ، فَتِلْكَ هِيَ تِسْعُ رَكَعَاتٍ يَا بُنَىَّ، وَلَمْ يَقُمْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَيْلَةً يُتِمُّهَا إِلَى الصَّبَاحِ، وَلَمْ يَقْرَإِ الْقُرْآنَ فِي لَيْلَةٍ قَطُّ، وَلَمْ يَصُمْ شَهْرًا يُتِمُّهُ غَيْرَ رَمَضَانَ، وَكَانَ إِذَا صَلَّى صَلاَةً دَاوَمَ عَلَيْهَا، وَكَانَ إِذَا غَلَبَتْهُ عَيْنَاهُ مِنَ اللَّيْلِ بِنَوْمٍ صَلَّى مِنَ النَّهَارِ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ رَكْعَةً . قَالَ : فَأَتَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ فَحَدَّثْتُهُ . فَقَالَ : هَذَا وَاللَّهِ هُوَ الْحَدِيثُ، وَلَوْ كُنْتُ أُكَلِّمُهَا لأَتَيْتُهَا حَتَّى أُشَافِهَهَا بِهِ مُشَافَهَةً . قَالَ قُلْتُ : لَوْ عَلِمْتُ أَنَّكَ لاَ تُكَلِّمُهَا مَا حَدَّثْتُكَ .
সা'দ ইবনু হিশাম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি যুদ্ধে যাওয়ার উদ্দেশে আমার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে মাদীনাহয় আমার যে ভূমি রয়েছে তা বিক্রি করে যুদ্ধাস্ত্র ক্রয় করার জন্য (বাসরাহ থেকে) মাদীনাহতে আসলাম। এ সময় নবী (ﷺ) এর একদল সাহাবীর সঙ্গে আমার সাক্ষাত হলে তারা বললেন, আমাদের মধ্যকার ছয় ব্যক্তির একটি দল এরূপ ইচ্ছা করেছিল। কিন্তু নবী (ﷺ) তাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করে বলেনঃ “তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মাঝেই উত্তম আদর্শ নিহিত আছে ”।বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) এর নিকট গিয়ে নবী (ﷺ) এর বিতর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহর সালাত সম্পর্কে যিনি অধিক অভিজ্ঞ আমি তোমাকে তার সন্ধান দিচ্ছি। তুমি ‘আয়িশাহ (রাঃ) এর নিকট যাও। কাজেই আমি তার নিকট যাই এবং হাকীম ইবনু আফলাহকেও যাবার অনুরোধ করি, কিন্তু তিনি অস্বীকার করায় আমি তাকে শপথ দিয়ে অনুরোধ করলে তিনি আমার সঙ্গে রওয়ানা হন।আমরা ‘আয়িশাহ (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাতের অনুমতি চাইলে তিনি জিজ্ঞেস করেন, কে? তিনি বলেন, হাকীম ইবনু আফলাহ। তিনি বলেন, তোমার সাথে কে? তিনি বললেন, সা‘দ ইবনু হিশাম। তিনি বললেন, উহুদের যুদ্ধে শহীদ হওয়া হিশাম ইবনু ‘আমির? হাকীম ইবনু আফলাহ বলে, আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেন, ‘আমির তো অত্যন্ত ভাল লোক ছিলেন। তিনি বলেন, হে উম্মুল মু‘মিনীন! আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চরিত্র সম্বন্ধে বলুন। তিনি বললেন, তুমি কি কোরআন পড়ো না? গোটা কোরআনই হচ্ছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চরিত্র।তিনি বলেন, আমি বললাম, আমাকে রাতের ক্বিয়াম সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, তুমি কি কোরআনের “ইয়াআইয়্যুহাল মুযযাম্মিল” সূরা পাঠ করনি? তিনি বলেন, আমি বললাম, হাঁ, পাঠ করেছি। তিনি বললেন, এ সূরার প্রথমাংশ অবতীর্ণ হবার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীগণ এতো বেশী “ক্বিয়ামুল লাইল” করতেন যে, তাদের পা ফুলে যেতো। অতঃপর এ সূরার শেষাংশ অবতীর্ণ হলে “ক্বিয়ামুল লাইল” ফরজ হতে নফল হিসেবে পরিবর্তন হয়।তিনি বলেন, আমি বললাম, আমাকে নবী (ﷺ) এর বিতর সালাত সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, তিনি আট রাকাত বিতর করতেন এবং তাতে কেবল অষ্টম রাকাতেই বসতেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে আরো এক রাকাত পড়তেন এবং এই অষ্টম ও নবম রাকাত ছাড়া কোথাও বসতেন না। তিনি নবম রাকাতে সালাম ফিরাতেন। অতঃপর বসে বসে দু’ রাকাত সালাত আদায় করতেন। হে আমার বৎস! এ এগার রাকাতই ছিল তাঁর রাতের সালাত।অতঃপর বার্ধক্যের কারণে তাঁর শরীর ভারী হয়ে গেলে তিনি সাত রাকাত বিতর করতেন এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম রাকাত ছাড়া বসতেন না, আর সালাম ফিরাতেন সপ্তম রাকাতে। অতঃপর বসে বসে দু’ রাকাত নফল সালাত আদায় করতেন। হে বৎস! এ নয় রাকাতই ছিল রাতের সালাত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনো সারারাত ভোর পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন না, এক রাতে গোটা কোরআন খতম করতেন না এবং রমজান মাস ছাড়া পুরো এক মাস সাওম পালন করতেন না। তিনি কোনো সালাত আরম্ভ করলে তা নিয়মিত আদায় করতেন। ঘুমের কারণে রাতে জাগ্রত হতে না পারলে তিনি দিনের বেলা বারো রাকাত সালাত আদায় করতেন।বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) এর কাছে এসে এগুলো বর্ণনা করলে তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! এটাই হচ্ছে প্রকৃত হাদীস। আমি যদি ‘আয়িশাহর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতাম তাহলে আমি এসে এ হাদীস আলোচনা করতাম। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, আমি যদি জানতাম যে, আপনি তাঁর সাথে কথাবার্তা বলেন না, তাহলে আমি হাদীসটি আপনার কাছে বর্ণনা করতাম না।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৩৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একসাথে এসেছে। সাদ ইবন হিশাম যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বড় সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন। সাহাবীরা তাঁকে জানালেন, নবী صلى الله عليه وسلم এমন কাজ থেকে কিছু মানুষকে নিষেধ করেছিলেন এবং বলেছিলেন, আল্লাহর রাসূলের মাঝেই উত্তম আদর্শ রয়েছে। এরপর তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর বিতর সালাত জানতে ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে যান। ইবন আব্বাস তাঁকে আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে যেতে বলেন, কারণ তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর বিতর সম্পর্কে বেশি জানতেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, নবী صلى الله عليه وسلم-এর চরিত্র ছিল কুরআন। তিনি কিয়ামুল লাইল, সূরা মুয্যাম্মিল, রাতের সালাতের নফল হওয়া, আট রাকাতের পর এক রাকাত বিতর, বসে দুই রাকাত এবং বার্ধক্যে সাত রাকাত বিতরের কথা বলেন। এই হাদিসে রাতের সালাত, বিতর সালাত এবং ইবাদতে নিয়মিত থাকার শিক্ষা খুব স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জীবনের বড় সিদ্ধান্তেও রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর আদর্শ সামনে রাখা দরকার।
- ইলম জানতে হলে যিনি বেশি জানেন, তাঁর কাছে যাওয়া উত্তম।
- নবী صلى الله عليه وسلم কোনো সালাত শুরু করলে তা নিয়মিত আদায় করতেন।
- রাতের সালাত নফল হলেও তা নবী صلى الله عليه وسلم-এর নিয়মিত আমলের অংশ ছিল।
