৫/২৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৩৪৬ - মধ্য রাতের সালাত ও মিসওয়াক
রাতের (তাহাজ্জুদ) সালাত সম্পর্কে
মধ্য রাতের সালাত: মিসওয়াক, ওজু, কিরাআত ও দোয়ার নববী ধারা
সুনানে আবূ দাউদ : ১৩৪৬
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৩৪৬
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ الدِّرْهَمِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ، حَدَّثَنَا زُرَارَةُ بْنُ أَوْفَى، : أَنَّ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - سُئِلَتْ عَنْ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ، فَقَالَتْ : كَانَ يُصَلِّي صَلاَةَ الْعِشَاءِ فِي جَمَاعَةٍ، ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى أَهْلِهِ فَيَرْكَعُ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، ثُمَّ يَأْوِي إِلَى فِرَاشِهِ وَيَنَامُ وَطَهُورُهُ مُغَطًّى عِنْدَ رَأْسِهِ، وَسِوَاكُهُ مَوْضُوعٌ حَتَّى يَبْعَثَهُ اللَّهُ سَاعَتَهُ الَّتِي يَبْعَثُهُ مِنَ اللَّيْلِ، فَيَتَسَوَّكُ وَيُسْبِغُ الْوُضُوءَ، ثُمَّ يَقُومُ إِلَى مُصَلاَّهُ فَيُصَلِّي ثَمَانِ رَكَعَاتٍ يَقْرَأُ فِيهِنَّ بِأُمِّ الْكِتَابِ وَسُورَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ وَمَا شَاءَ اللَّهُ، وَلاَ يَقْعُدُ فِي شَىْءٍ مِنْهَا حَتَّى يَقْعُدَ فِي الثَّامِنَةِ، وَلاَ يُسَلِّمُ، وَيَقْرَأُ فِي التَّاسِعَةِ، ثُمَّ يَقْعُدُ فَيَدْعُو بِمَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَدْعُوَهُ، وَيَسْأَلُهُ وَيَرْغَبُ إِلَيْهِ وَيُسَلِّمُ تَسْلِيمَةً وَاحِدَةً شَدِيدَةً، يَكَادُ يُوقِظُ أَهْلَ الْبَيْتِ مِنْ شِدَّةِ تَسْلِيمِهِ، ثُمَّ يَقْرَأُ وَهُوَ قَاعِدٌ بِأُمِّ الْكِتَابِ، وَيَرْكَعُ وَهُوَ قَاعِدٌ، ثُمَّ يَقْرَأُ الثَّانِيَةَ فَيَرْكَعُ وَيَسْجُدُ وَهُوَ قَاعِدٌ، ثُمَّ يَدْعُو مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَدْعُوَ، ثُمَّ يُسَلِّمُ وَيَنْصَرِفُ، فَلَمْ تَزَلْ تِلْكَ صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ حَتَّى بَدَّنَ فَنَقَصَ مِنَ التِّسْعِ ثِنْتَيْنِ، فَجَعَلَهَا إِلَى السِّتِّ وَالسَّبْعِ وَرَكْعَتَيْهِ وَهُوَ قَاعِدٌ حَتَّى قُبِضَ عَلَى ذَلِكَ ﷺ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা ‘আয়িশাহ (রাঃ) কে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) মধ্য রাতের সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তিনি ‘ইশার সালাত জামা‘আতে আদায় করে নিজ পরিজনের কাছে ফিরে এসে চার রাক‘আত সালাত আদায় করে স্বীয় বিছানায় ঘুমিয়ে পড়তেন। এ সময় ওজুর পানি ও মিসওয়াক তাঁর কাছেই থাকতো।অতঃপর মহান আল্লাহ রাতে যখন সজাগ তাঁকে সজাগ করতেন। তিনি মিসওয়াক ও উত্তমরূপে ওজু করে তাঁর মুসল্লায় দাঁড়িয়ে আট রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। তাতে সূরা ফাতিহা, কোরআনের অন্য সূরা এবং আল্লাহ যা চাইতেন তা পাঠ করতেন। তিনি এতে মাঝখানে না বসে কেবলমাত্র অষ্টম রাক‘আতেই বসতেন এবং সালাম না ফিরিয়ে নবম রাক‘আতে দাঁড়িয়ে ক্বিরাআত পড়তেন। অতঃপর (শেষ বৈঠকে) বসে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী দোয়া করতেন, তাঁর কাছে প্রার্থনা করতেন এবং তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হতেন। সবশেষে তিনি এতো জোরে সালাম ফিরাতেন যে, সালামের আওয়াজে ঘরের লোকের জাগ্রত হবার উপক্রম হতো।অতঃপর তিনি (বসে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন এবং তাতে) বসেই সূরা ফাতিহা পাঠ ও রুকূ করতেন। অনুরূপভাবে দ্বিতীয় রাক‘আতেও বসাবস্থায় রুকূ ও সাজদাহ্ করতেন। অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী দোয়া করে সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শরীর ভারী হওয়া পর্যন্ত এভাবেই সালাত আদায় করতেন। অতঃপর (শরীর ভারী হয়ে গেলে) তিনি নয় রাক‘আত থেকে দুই কমিয়ে ছয় রাক‘আত (এবং এক যোগ করে) সাত রাক‘আত আদায় করেন এবং দু’ রাক‘আত বসাবস্থায় আদায় করতেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এভাবেই সালাত আদায় করেছেন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৩৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর মধ্য রাতের সালাতের বিস্তারিত ছবি তুলে ধরেছেন। তিনি ইশার সালাত জামাআতে আদায় করতেন, তারপর ঘরে ফিরে চার রাকাত পড়তেন এবং বিছানায় ঘুমাতেন। তাঁর কাছে ওজুর পানি ও মিসওয়াক থাকত। রাতের নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহ তাঁকে জাগিয়ে দিলে তিনি মিসওয়াক করতেন, ভালোভাবে ওজু করতেন এবং সালাতের স্থানে দাঁড়াতেন। তিনি আট রাকাত পড়তেন, সূরা ফাতিহা ও কুরআনের অন্য অংশ তিলাওয়াত করতেন। অষ্টম রাকাতে বসে সালাম না ফিরিয়ে নবম রাকাতে দাঁড়াতেন। শেষে দোয়া করতেন, আল্লাহর কাছে চাইতেন এবং জোরে সালাম ফিরাতেন। পরে বসে দুই রাকাত পড়তেন। এই হাদিসে রাতের সালাত, মিসওয়াক, ওজু, দোয়া এবং বিতরের পদ্ধতি একসাথে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতের সালাতের আগে মিসওয়াক ও সুন্দর ওজুর প্রতি নবী صلى الله عليه وسلم যত্ন নিতেন।
- কিয়ামুল লাইলের মধ্যে কিরাআত, দোয়া ও আল্লাহর দিকে মনোযোগ ছিল।
- শরীর ভারী হলে সালাতের ধরনে কিছু সহজতা এসেছে।
- ঘরের পরিবেশেও রাতের ইবাদত নিয়মিত হতে পারে।
