৫/২৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৩৪৭ - রাতের সালাতে কিরাআত-রুকু-সিজদার সমতা
রাতের (তাহাজ্জুদ) সালাত সম্পর্কে
রাতের সালাতে সমতা: কিরাআত, রুকু ও সিজদার ভারসাম্য
সুনানে আবূ দাউদ : ১৩৪৭
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৩৪৭
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ، فَذَكَرَ هَذَا الْحَدِيثَ بِإِسْنَادِهِ قَالَ : يُصَلِّي الْعِشَاءَ ثُمَّ يَأْوِي إِلَى فِرَاشِهِ، لَمْ يَذْكُرِ الأَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، وَسَاقَ الْحَدِيثَ قَالَ فِيهِ : فَيُصَلِّي ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ يُسَوِّي بَيْنَهُنَّ فِي الْقِرَاءَةِ وَالرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ، وَلاَ يَجْلِسُ فِي شَىْءٍ مِنْهُنَّ إِلاَّ فِي الثَّامِنَةِ، فَإِنَّهُ كَانَ يَجْلِسُ ثُمَّ يَقُومُ وَلاَ يُسَلِّمُ، فَيُصَلِّي رَكْعَةً يُوتِرُ بِهَا، ثُمَّ يُسَلِّمُ تَسْلِيمَةً يَرْفَعُ بِهَا صَوْتَهُ حَتَّى يُوقِظَنَا، ثُمَّ سَاقَ مَعْنَاهُ .
বাহয ইবনু হাকীম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
উপরোক্ত সানাদে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি ‘ইশার সালাত আদায়ের পর স্বীয় বিছানায় বিশ্রাম নিতেন। এতে চার রাক‘আতের কথা উল্লেখ নেই। অতঃপর পুরো হাদীস বর্ণনা করেন। এতে রয়েছে, অতঃপর তিনি আট রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। ক্বিরাআত, রুকূ ও সাজদাহ্ এগুলো পরস্পরের মধ্যে ব্যবধান ছিলো সমপরিমাণ এবং তিনি এ সালাতে কেবলমাত্র অষ্টম রাক‘আতেই বসতেন। অতঃপর উঠে দাঁড়িয়ে এক রাক‘আত দ্বারা বিতর করতেন। সবশেষে এমনভাবে উচ্চস্বরে সালাম বলতেন যে, আওয়াজ আমাদের নিদ্রা ভঙ্গ করে দিতো। এরপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৩৪৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আগের বর্ণনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক এসেছে। এখানে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ইশার সালাতের পর বিছানায় বিশ্রাম নিতেন। এরপর তিনি আট রাকাত সালাত আদায় করতেন। এই সালাতে কিরাআত, রুকু ও সিজদা—এসবের মধ্যে সমপরিমাণ ব্যবধান ছিল। অর্থাৎ তাঁর সালাত ছিল ধীর, ভারসাম্যপূর্ণ এবং মনোযোগী। তিনি আট রাকাতের মধ্যে অষ্টম রাকাত ছাড়া বসতেন না। তারপর দাঁড়িয়ে এক রাকাত দ্বারা বিতর করতেন। শেষে এমনভাবে সালাম ফিরাতেন যে, আওয়াজে ঘরের লোকেরা জেগে যেত। এই হাদিস রাতের সালাত, তাহাজ্জুদ নামাজ এবং বিতর সালাতের ভেতরের শান্ত ও সুশৃঙ্খল পদ্ধতি বোঝায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে কিরাআত, রুকু ও সিজদার মধ্যে ভারসাম্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর রাতের সালাত ছিল ধীর ও মনোযোগপূর্ণ।
- বিতর এক রাকাত দ্বারা সম্পন্ন করার বর্ণনা এখানে এসেছে।
- সালামের আওয়াজ ঘরের লোকদের জাগিয়ে দেওয়ার মতো ছিল।
