৫/২৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৩৫৫ - তাহাজ্জুদের কিয়াম-রুকু-সিজদার দীর্ঘতা
রাতের (তাহাজ্জুদ) সালাত সম্পর্কে
তাহাজ্জুদের দীর্ঘতা: কিয়াম, রুকু ও সিজদার সুন্দর ভারসাম্য
সুনানে আবূ দাউদ : ১৩৫৫
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৩৫৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ : بِتُّ لَيْلَةً عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ لأَنْظُرَ كَيْفَ يُصَلِّي فَقَامَ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ قِيَامُهُ مِثْلُ رُكُوعِهِ، وَرُكُوعُهُ مِثْلُ سُجُودِهِ، ثُمَّ نَامَ، ثُمَّ اسْتَيْقَظَ فَتَوَضَّأَ وَاسْتَنَّ ثُمَّ قَرَأَ بِخَمْسِ آيَاتٍ مِنْ آلِ عِمْرَانَ ﴾ إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ ﴿ فَلَمْ يَزَلْ يَفْعَلُ هَذَا حَتَّى صَلَّى عَشْرَ رَكَعَاتٍ، ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى سَجْدَةً وَاحِدَةً فَأَوْتَرَ بِهَا، وَنَادَى الْمُنَادِي عِنْدَ ذَلِكَ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بَعْدَ مَا سَكَتَ الْمُؤَذِّنُ فَصَلَّى سَجْدَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ، ثُمَّ جَلَسَ حَتَّى صَلَّى الصُّبْحَ .قَالَ أَبُو دَاوُدَ : خَفِيَ عَلَىَّ مِنِ ابْنِ بَشَّارٍ بَعْضُهُ .
ফাযল ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
স্বচক্ষে নবী (ﷺ) এর সালাত আদায়ের পদ্ধতি অবলোকনের উদ্দেশে আমি একদা নবী (ﷺ) এর সাথে রাত যাপন করি। তিনি (ﷺ) ঘুম থেকে উঠে উযু করে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। তাঁর দাঁড়ানোর দীর্ঘতা তাঁর রুকূর সমান এবং তাঁর রুকূর দীর্ঘতা ছিলো তাঁর সাজদাহ্র সমান।অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে আবার সজাগ হয়ে উযু ও মিসওয়াক করে সূরা আল ‘ইমরান হতে এ পাঁচটি আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ “ইন্না ফি খলকিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়াখতিলাফিল লাইলি ওয়ান নাহারি”। এরূপে তিনি দশ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন এবং শেষে এক রাক‘আত দ্বারা বিতর করলেন। এ সময় মুয়াজ্জিন আযান দিলে তিনি সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে বসে থাকলেন। অতঃপর ফাজরের সালাত আদায় করলেন। [১৩৫৫]ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইবনু বাশশার বর্ণিত এ হাদীসটির কিছু অংশ আমার নিকট অস্পষ্ট।
[১৩৫৫] আবূ দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এর সানাদ দুর্বল। কুরাইব হাদীসটি ফাযল ইবনু ‘আব্বাস হতে মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন যেমন ‘আত-তাহযীব’ গ্রন্থে রয়েছে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৩৫৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বর্ণনাকারী বলেছেন, তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর সালাতের পদ্ধতি স্বচক্ষে দেখার জন্য তাঁর সঙ্গে রাত কাটান। নবী صلى الله عليه وسلم ঘুম থেকে উঠে ওজু করে দুই রাকাত সালাত পড়লেন। তাঁর দাঁড়ানো রুকুর সমান দীর্ঘ ছিল এবং রুকু সিজদার সমান দীর্ঘ ছিল। এরপর তিনি কিছুক্ষণ ঘুমালেন। আবার উঠলেন, ওজু করলেন, মিসওয়াক করলেন এবং সূরা আলে ইমরানের পাঁচটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন। এভাবে তিনি দশ রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং শেষে এক রাকাত দিয়ে বিতর করলেন। মুয়াযযিন আযান দিলে তিনি সংক্ষেপে দুই রাকাত পড়লেন এবং ফজরের সালাত পর্যন্ত বসে থাকলেন। এই হাদিসে তাহাজ্জুদ নামাজের দীর্ঘতা, মিসওয়াক, ওজু, কুরআন তিলাওয়াত এবং বিতর সালাতের ধারাবাহিকতা এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর তাহাজ্জুদে কিয়াম, রুকু ও সিজদায় ভারসাম্য ছিল।
- রাতে জেগে ওজু ও মিসওয়াক করার বর্ণনা এসেছে।
- সূরা আলে ইমরানের আয়াত তিলাওয়াতের কথা আছে।
- বিতরের পর ফজরের আগে সংক্ষিপ্ত দুই রাকাত পড়ার বর্ণনা এসেছে।
