৯/২৭. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৬৪০ - তিন অবস্থায় সাহায্য চাওয়া বৈধ

যে অবস্থায় যাকাত চাওয়া জায়েয

কখন ভিক্ষা করা বৈধ: কাবিসা রাঃ-এর হাদিস

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৬৪০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ هَارُونَ بْنِ رِيَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي كِنَانَةُ بْنُ نُعَيْمٍ الْعَدَوِيُّ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ مُخَارِقٍ الْهِلاَلِيِّ، قَالَ تَحَمَّلْتُ حَمَالَةً فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ «أَقِمْ يَا قَبِيصَةُ حَتَّى تَأْتِيَنَا الصَّدَقَةُ فَنَأْمُرَ لَكَ بِهَا» . ثُمَّ قَالَ " يَا قَبِيصَةُ إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لاَ تَحِلُّ إِلاَّ لأَحَدِ ثَلاَثَةٍ رَجُلٌ تَحَمَّلَ حَمَالَةً فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ فَسَأَلَ حَتَّى يُصِيبَهَا ثُمَّ يُمْسِكُ وَرَجُلٌ أَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ فَاجْتَاحَتْ مَالَهُ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ فَسَأَلَ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ» . أَوْ قَالَ «سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ» . «وَرَجُلٌ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ حَتَّى يَقُولَ ثَلاَثَةٌ مِنْ ذَوِي الْحِجَا مِنْ قَوْمِهِ قَدْ أَصَابَتْ فُلاَنًا الْفَاقَةُ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ فَسَأَلَ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ - أَوْ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ - ثُمَّ يُمْسِكُ وَمَا سِوَاهُنَّ مِنَ الْمَسْأَلَةِ يَا قَبِيصَةُ سُحْتٌ يَأْكُلُهَا صَاحِبُهَا سُحْتًا» .

ক্বাবীসাহ ইবনু মুখারিক আল-হилаলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদা আমি অন্যের ঋণের জামিনদার হলাম। পরে আমি নবী (ﷺ) এর নিকট গেলে তিনি বললেনঃ হে ক্বাবীসাহ! আমাদের কাছে যাকাতের মাল আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করো। আমরা তা থেকে তোমাকে কিছু দেয়ার নির্দেশ দিবো। পরে তিনি বললেন, হে ক্বাবীসাহ! তিন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো জন্য সওয়াল করা বৈধ নয়।(১) যে ব্যক্তি কোন ঋণের জামিনদার হয়েছে ঋণ পরিশোধ করা পর্যন্ত তার জন্য সওয়াল করা হালাল, পরিশোধ হয়ে গেলে সে বিরত থাকবে।(২) যে ব্যক্তির সমস্ত মাল আকস্মিক দুর্ঘটনায় ধ্বংস হয়ে গেছে, তার জীবন ধারণের পরিমাণ সম্পদ পাওয়া পর্যন্ত তার জন্য সওয়াল করা হালাল।(৩) যে ব্যক্তি দুর্ভিক্ষ কবলিত, এমনকি তার গোত্র-সমাজের তিনজন বিবেচক ও সুধী ব্যক্তি বলে যে, অমুক ব্যক্তি দুর্ভিক্ষ পীড়িত। তখন জীবন ধারণের পরিমাণ সম্পদ পাওয়া পর্যন্ত তার জন্য সওয়াল করা বৈধ, এরপর তা থেকে বিরত থাকবে। অতঃপর বলেন, হে ক্বাবীসাহ! এ তিন প্রকারের লোক ছাড়া অন্যদের জন্য সওয়াল করা হারাম এবং কেউ করলে সে হারাম ভক্ষণ করলো।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৬৪০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে কাবিসা ইবনু মুখারিক রাঃ অন্যের ঋণের জামিনদার হয়ে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে আসেন। নবী صلى الله عليه وسلم তাকে যাকাতের মাল আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। এরপর তিনি একটি বড় নীতি জানান—তিন ব্যক্তি ছাড়া কারও জন্য সওয়াল করা বৈধ নয়। প্রথমত, যে ঋণের জামিন নিয়েছে; ঋণ শোধ হওয়া পর্যন্ত সে চাইতে পারে, তারপর থামবে। দ্বিতীয়ত, যার সম্পদ আকস্মিক দুর্ঘটনায় ধ্বংস হয়েছে; জীবন ধারণের মতো পাওয়া পর্যন্ত চাইতে পারে। তৃতীয়ত, যে দুর্ভিক্ষে পড়েছে এবং তার সমাজের তিনজন বিবেচক ব্যক্তি তা স্বীকার করে; প্রয়োজন মিটলে সে বিরত থাকবে। হাদিসটি চাওয়ার বৈধতা, সীমা ও থামার সময়—তিনটিই পরিষ্কার করে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ঋণের জামিনদার হলে ঋণ পরিশোধ পর্যন্ত সাহায্য চাওয়ার সুযোগ আছে।
  • দুর্ঘটনায় সম্পদ নষ্ট হলে জীবন ধারণের পরিমাণ পর্যন্ত চাওয়া বৈধ হতে পারে।
  • গভীর অভাবের ক্ষেত্রে সমাজের জ্ঞানী লোকদের সাক্ষ্যের কথা এসেছে।
  • প্রয়োজন মিটে গেলে চাওয়া বন্ধ করা জরুরি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন