৯/২৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৬৪২ - মানুষের কাছে না চাওয়ার বাইআত
ভিক্ষাবৃত্তি অপছন্দনীয়
মানুষের কাছে না চাওয়ার অঙ্গীকার ও ঈমানের শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ১৬৪২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৬৪২
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ رَبِيعَةَ، - يَعْنِي ابْنَ يَزِيدَ - عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي مُسْلِمٍ الْخَوْلاَنِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي الْحَبِيبُ الأَمِينُ، أَمَّا هُوَ إِلَىَّ فَحَبِيبٌ وَأَمَّا هُوَ عِنْدِي فَأَمِينٌ عَوْفُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ سَبْعَةً أَوْ ثَمَانِيَةً أَوْ تِسْعَةً فَقَالَ " أَلاَ تُبَايِعُونَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ " . وَكُنَّا حَدِيثَ عَهْدٍ بِبَيْعَةٍ قُلْنَا قَدْ بَايَعْنَاكَ حَتَّى قَالَهَا ثَلاَثًا فَبَسَطْنَا أَيْدِيَنَا فَبَايَعْنَاهُ فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا قَدْ بَايَعْنَاكَ فَعَلاَمَ نُبَايِعُكَ قَالَ " أَنْ تَعْبُدُوا اللَّهَ وَلاَ تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَتُصَلُّوا الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ وَتَسْمَعُوا وَتُطِيعُوا " . وَأَسَرَّ كَلِمَةً خُفْيَةً قَالَ " وَلاَ تَسْأَلُوا النَّاسَ شَيْئًا " . قَالَ فَلَقَدْ كَانَ بَعْضُ أُولَئِكَ النَّفَرِ يَسْقُطُ سَوْطُهُ فَمَا يَسْأَلُ أَحَدًا أَنْ يُنَاوِلَهُ إِيَّاهُ .قَالَ أَبُو دَاوُدَ حَدِيثُ هِشَامٍ لَمْ يَرْوِهِ إِلاَّ سَعِيدٌ.
‘আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা সাতজন অথবা আটজন অথবা নয়জন রাসূলুল্লাহর (ﷺ) নিকট ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা কি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর নিকট বাই’আত গ্রহণ করবে না? অথচ আমরা কয়েকদিন আগেই বাই’আত নিয়েছি, তাই আমরা বললাম, আমরা তো আপনার কাছে বাই’আত হয়েছি। এমনকি তিনি এ কথাটি তিনবার বললেন।অতঃপর আমরা আমাদের হাত প্রসারিত করে বাই’আত গ্রহণ করলাম। একজন বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো বাই’আত করেছি, তাহলে এখন আবার কিসের উপর বাই’আত হবো? তিনি বললেনঃ তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে এবং আমীরের কথা শুনবে ও তার আনুগত্য করবে। তিনি সংক্ষেপে নিচু স্বরে বললেনঃ মানুষের কাছে কিছু সওয়াল করবে না। বর্ণনাকারী বলেন, এদের কেউই (সফরে) একটি ছড়ি নীচে পড়ে গেলেও অন্যকে তা তুলে দিতে অনুরোধ করেননি।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৬৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বাইআতের মাধ্যমে কয়েকটি মৌলিক আমল শেখানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের কাছে বাইআত চান। তাঁরা আগেই বাইআত করেছেন বলে জানালেও তিনি বিষয়টি তিনবার বলেন। পরে তাঁরা হাত বাড়িয়ে আবার অঙ্গীকার করেন। বাইআতের বিষয় ছিল এক আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করা, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা এবং আমীরের কথা শোনা ও আনুগত্য করা। এরপর তিনি নিচু স্বরে বলেন, মানুষের কাছে কিছু চাইবে না। এই শিক্ষা সাহাবীদের জীবনে এত গভীর হয়েছিল যে, কারও ছড়ি পড়ে গেলেও তারা অন্যকে তুলে দিতে বলতেন না। এটি অমুখাপেক্ষিতা ও আত্মসম্মানের শক্ত শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাওহীদ ও সালাত মুসলিম জীবনের মূল অঙ্গীকার।
- সামাজিক শৃঙ্খলার জন্য বৈধ নেতৃত্বের আনুগত্য শেখানো হয়েছে।
- মানুষের কাছে অকারণে না চাওয়া আত্মসম্মানের পরিচয়।
- সাহাবীরা ছোট বিষয়েও এই শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে পালন করেছেন।
