১১/২৫. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৮০৫ - বিদায় হজ্জে তামাত্তু হজ্জের পূর্ণ শিক্ষা

হজ্জের ইহরাম বাঁধার পর তা উমরায় পরিবর্তিত করা

বিদায় হজ্জে তামাত্তু হজ্জের নিয়ম ও শিক্ষা

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৮০৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، { عَنْ جَدِّي، } عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ تَمَتَّعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَأَهْدَى وَسَاقَ مَعَهُ الْهَدْىَ مِنْ ذِي الْحُلَيْفَةِ وَبَدَأَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَأَهَلَّ بِالْعُمْرَةِ ثُمَّ أَهَلَّ بِالْحَجِّ وَتَمَتَّعَ النَّاسُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَكَانَ مِنَ النَّاسِ مَنْ أَهْدَى وَسَاقَ الْهَدْىَ وَمِنْهُمْ مَنْ لَمْ يُهْدِ فَلَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَكَّةَ قَالَ لِلنَّاسِ " مَنْ كَانَ مِنْكُمْ أَهْدَى فَإِنَّهُ لاَ يَحِلُّ لَهُ مِنْ شَىْءٍ حَرُمَ مِنْهُ حَتَّى يَقْضِيَ حَجَّهُ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ مِنْكُمْ أَهْدَى فَلْيَطُفْ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَلْيُقَصِّرْ وَلْيَحْلِلْ ثُمَّ لْيُهِلَّ بِالْحَجِّ وَلْيُهْدِ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ هَدْيًا فَلْيَصُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةً إِذَا رَجَعَ إِلَى أَهْلِهِ».وَطَافَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حِينَ قَدِمَ مَكَّةَ فَاسْتَلَمَ الرُّكْنَ أَوَّلَ شَىْءٍ ثُمَّ خَبَّ ثَلاَثَةَ أَطْوَافٍ مِنَ السَّبْعِ وَمَشَى أَرْبَعَةَ أَطْوَافٍ ثُمَّ رَكَعَ حِينَ قَضَى طَوَافَهُ بِالْبَيْتِ عِنْدَ الْمَقَامِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ فَانْصَرَفَ فَأَتَى الصَّفَا فَطَافَ بِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ سَبْعَةَ أَطْوَافٍ ثُمَّ لَمْ يَحْلِلْ مِنْ شَىْءٍ حَرُمَ مِنْهُ حَتَّى قَضَى حَجَّهُ وَنَحَرَ هَدْيَهُ يَوْمَ النَّحْرِ وَأَفَاضَ فَطَافَ بِالْبَيْتِ ثُمَّ حَلَّ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ حَرُمَ مِنْهُ وَفَعَلَ النَّاسُ مِثْلَ مَا فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَنْ أَهْدَى وَسَاقَ الْهَدْىَ مِنَ النَّاسِ .

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিদায় হজ্জে হজ্জ ও ‘উমরাহ একত্রে সম্পন্ন করে তামাত্তু‘ হজ্জ করেছেন। তিনি যুল-হুলাইফাহ থেকে কুরবানীর পশু সাথে নিয়ে যান। সকলকে তামাত্তু‘ করার নির্দেশ দেয়ার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রথমে ‘উমরাহ্‌র জন্য তালবিয়া পড়েন, তারপর হজ্জের জন্য তালবিয়া পড়েন (ইহরাম বাঁধেন)। তাঁর সাথে লোকজনও হজ্জের সাথে ‘উমরাহ্‌র নিয়্যাত করে তামাত্তু‘ করলো। কেউ কেউ সাথে কুরবানীর পশু এনেছিলো আবার কেউ কেউ আনেনি।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় পৌঁছে লোকদেরকে বললেনঃ যারা সাথে করে কুরবানীর পশু এনেছো, তাদের জন্য হজ্জ আদায় না করা পর্যন্ত (ইহরাম অবস্থায়) নিষিদ্ধকৃত কাজ বৈধ নয়। আর তোমাদের যারা সাথে করে কুরবানীর পশু আনোনি, তারা বায়তুল্লাহ তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার সাঈ করে, চুল খাট করে, ইহরাম খুলে ফেলবে এবং হজ্জের জন্য (নতুন করে) ইহরাম বাঁধবে, অতঃপর কুরবানী করবে। কিন্তু যারা কুরবানী দিতে অক্ষম তারা হজ্জের মওসুমে তিনটি সাওম এবং বাড়িতে ফিরে সাতটি সাওম (মোট দশটি সাওম) পালন করবে।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় পৌঁছে প্রথমে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলেন, তারপর ‘হাজরে আসওয়াদ’ চুম্বন করলেন। তিনি তাওয়াফের সাত চক্করের প্রথম তিন চক্কর দ্রুত পায়ে চললেন এবং অবশিষ্ট চার চক্করে স্বাভাবিক গতিতে হাঁটলেন। বায়তুল্লাহ তাওয়াফ শেষ করে তিনি মাকামে ইবরাহীমের পাশে দুই রাক‘আত সালাত আদায় করলেন, সালাতের সালাম ফিরিয়ে উঠে সাফা পাহাড়ে গিয়ে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাতবার সাঈ করলেন।অতঃপর হজ্জ সমাপন করে কুরবানীর দিন (দশম তারিখে) কুরবানী করা পর্যন্ত তিনি ইহরাম অবস্থায় থাকলেন। অতঃপর ফিরে এসে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলেন এবং ইহরাম খুলে যেসব জিনিস এ সময় নিষিদ্ধ ছিলো তা হালাল করলেন। আর যারা সাথে করে কুরবানীর পশু এনেছিলো তারা ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে অনুসরণ করলো।

[১৮০৫]

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৮০৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে বিদায় হজ্জের তামাত্তু হজ্জের একটি দীর্ঘ ও ধারাবাহিক বর্ণনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) যুল-হুলাইফা থেকে কুরবানির পশু সঙ্গে নিয়ে রওয়ানা হন। তিনি প্রথমে উমরার জন্য তালবিয়া পড়েন, এরপর হজ্জের জন্য তালবিয়া পড়েন। মক্কায় পৌঁছে তিনি লোকদের আলাদা করে নির্দেশ দেন। যারা কুরবানির পশু এনেছিল, তারা হজ্জ শেষ না করা পর্যন্ত ইহরাম অবস্থায় থাকবে। আর যারা কুরবানির পশু আনেনি, তারা তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার সাঈ, চুল ছোট করে ইহরাম খুলবে, পরে হজ্জের জন্য নতুন ইহরাম বাঁধবে। কুরবানি দিতে অক্ষমদের জন্য তিন দিন হজ্জে এবং সাত দিন ফিরে গিয়ে সাওমের কথা এসেছে। হাদিসে তাওয়াফ, হাজরে আসওয়াদ, মাকামে ইবরাহিমে সালাত, সাঈ ও কুরবানির দিন পর্যন্ত ইহরামের ধারাও স্পষ্ট।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • তামাত্তু হজ্জে কুরবানির পশু থাকলে ইহরাম খোলার বিধান ভিন্ন।
  • যার কুরবানি নেই, তার জন্য তাওয়াফ, সাঈ ও চুল ছোট করার পর ইহরাম খোলার কথা এসেছে।
  • কুরবানি দিতে না পারলে মোট দশটি সাওমের নির্দেশ এসেছে।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বিদায় হজ্জ হজ্জের কাজের ধারাবাহিক শিক্ষা দেয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন