১১/৫৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৯০১ - সাফা-মারওয়া সাঈর সঠিক বুঝ
নবী (ﷺ)-এর বিদায় হজ্জের বিবরণ
সাফা-মারওয়া সাঈ: আয়াতের সঠিক শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ১৯০১
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৯০১
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ ﷺ وَأَنَا يَوْمَئِذٍ حَدِيثُ السِّنِّ أَرَأَيْتِ قَوْلَ اللَّهِ تَعَالَى { إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ ﴿ فَمَا أَرَى عَلَى أَحَدٍ شَيْئًا أَنْ لاَ يَطَّوَّفَ بِهِمَا .قَالَتْ عَائِشَةُ كَلاَّ لَوْ كَانَ كَمَا تَقُولُ كَانَتْ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ لاَ يَطَّوَّفَ بِهِمَا إِنَّمَا أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ فِي الأَنْصَارِ كَانُوا يُهِلُّونَ لِمَنَاةَ وَكَانَتْ مَنَاةُ حَذْوَ قُدَيْدٍ وَكَانُوا يَتَحَرَّجُونَ أَنْ يَطُوفُوا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَلَمَّا جَاءَ الإِسْلاَمُ سَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَنْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى { إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ ﴿.
হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ (রহঃ) হতে তার পিতার হতে বর্ণিতঃ
আমি নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে আমার ছেলে বেলায় জিজ্ঞেস করলাম, মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? “নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।” আমি মনে করি, কেউ এই দুই পাহাড়ের মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) না করলে তার কোন গুনাহ হবে না।‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, ‘কখনো নয়, তুমি এ আয়াতের যেরূপ ব্যাখ্যা করলে তা ঠিক হলে আয়াতটি হতো এরূপ : “তার কোন গুনাহ নেই যদি সে এই দুই পাহাড়ের মাঝে তাওয়াফ না করে।” মূলত আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে আনসারদের সম্পর্কে। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তারা ‘মানাত’ মূর্তির উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধতো। আর এ মানাত মূর্তি ‘কুদাইদ’ পাহাড় বরাবরে অবস্থিত ছিল। সুতরাং তারা সাফা-মাওরয়ার মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) করাকে আপত্তিকর ভাবতো। ইসলাম গ্রহণের পর তারা এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলো।তখন মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন : “নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয় আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত” (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৫৮)।
[১৯০১]
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৯০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাফা-মারওয়া সাঈ সম্পর্কে আয়িশা (রাঃ)-এর গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা এসেছে। এক তরুণ সাহাবি ভেবেছিলেন, আয়াতে যেহেতু বলা হয়েছে ‘কোন গুনাহ নেই’, তাই সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ না করলেও সমস্যা নেই। আয়িশা (রাঃ) পরিষ্কার করে বলেন, এমন ব্যাখ্যা ঠিক নয়। যদি অর্থ এমন হতো, তবে আয়াতের ভাষা অন্যরকম হতো। এরপর তিনি জানান, আয়াতটি আনসারদের একটি সংশয় দূর করার জন্য নাজিল হয়েছিল। ইসলাম গ্রহণের আগে তারা মানাত মূর্তির সাথে জড়িত কিছু রীতি জানত, তাই সাফা-মারওয়ায় সাঈ করতে সংকোচ বোধ করত। ইসলাম আসার পর তারা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ জানিয়ে দেন, সাফা-মারওয়া তাঁর নিদর্শনগুলোর অন্তর্ভুক্ত। তাই এই হাদিস সাফা-মারওয়ার সাঈ, কুরআনের আয়াত বুঝা এবং সাহাবিদের প্রশ্ন করার আদব—সবই শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআনের আয়াত নিজের ধারণা অনুযায়ী নয়, জ্ঞানীদের ব্যাখ্যার আলোকে বুঝতে হয়।
- সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত—এ কথা হাদিসে স্পষ্টভাবে এসেছে।
- ইবাদত নিয়ে সংশয় হলে সাহাবিরা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে জিজ্ঞেস করতেন।
- পুরনো ভুল ধারণা ইসলামি নির্দেশনার মাধ্যমে সংশোধন করা হয়।
