১১/৮১. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৯৮৭ - যিলহজ্জে উমরাহর শিক্ষা

যদি কোন মহিলা উমরার জন্য ইহরাম বাঁধার পর ঋতুবতী হয় এবং এমতাবস্থায় হজ্জের সময় উপস্থিত হওয়ায় সে উমরার ইহরাম ছেড়ে হজ্জের ইহরাম বাঁধে, তাহলে তাকে তার উমরাহ কাজা করতে হবে কিনা?

যিলহজ্জে উমরাহ ও মুশরিকদের ভুল ধারণার বিরোধিতা

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৯৮৭

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنِ ابْنِ أَبِي زَائِدَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ وَاللَّهِ مَا أَعْمَرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَائِشَةَ فِي ذِي الْحِجَّةِ إِلاَّ لِيَقْطَعَ بِذَلِكَ أَمْرَ أَهْلِ الشِّرْكِ فَإِنَّ هَذَا الْحَىَّ مِنْ قُرَيْشٍ وَمَنْ دَانَ دِينَهُمْ كَانُوا يَقُولُونَ إِذَا عَفَا الْوَبَرْ وَبَرَأَ الدَّبَرْ وَدَخَلَ صَفَرْ فَقَدْ حَلَّتِ الْعُمْرَةُ لِمَنِ اعْتَمَرْ . فَكَانُوا يُحَرِّمُونَ الْعُمْرَةَ حَتَّى يَنْسَلِخَ ذُو الْحِجَّةِ وَالْمُحَرَّمُ .

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

মারওয়ানের যে দূতকে উম্মু মা‘ক্বিলের নিকট প্রেরণ করা হয়, তিনি আমাকে জানিয়েছেন, উম্মু মা‘ক্বিল (রাঃ) বলেছেন, আবূ মা‘ক্বিল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে হজ্জ গমনের ইচ্ছা করেছিলেন। তিনি ঘরে এলে উম্মু মা‘ক্বিল (রাঃ) বললেন, আমি আবগত হয়েছি, আমার উপরও হজ্জ ফরজ হয়েছে সুতরাং তারা (স্বামী-স্ত্রী) উভয়ে পদব্রজে রাসূলল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট উপস্থিত হলেন।উম্মু মা‘ক্বিল বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার উপর হজ্জ ফরজ হয়েছে। আর আবূ মা‘ক্বিলের নিকট একটি উষ্ট্রী আছে। আবূ মা‘ক্বিল (রাঃ) বললেন, সে সত্যই বলেছে, কিন্তু আমি তো সেটি আল্লাহর পথে যুদ্ধের কাজে সদাক্বাহ করেছি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি এটা তাকে দিয়ে দাও, সে হজ্জ করে আসুক। কেননা এটাও আল্লাহর পথ। নির্দেশ মোতাবেক তিনি উষ্ট্রীটি তাকে দিলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো বৃদ্ধ মহিলা এবং অসুস্থ। সুতরাং এমন কোনো কাজ আছে কি যা আমার হজ্জের বিকল্প হবে? তিনি বললেনঃ রমাযান মাসে ‘উমরাহ তোমার হজ্জের জন্য যথেষ্ট।

[১৯৮৭]

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৯৮৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ইবনু আব্বাস (রাঃ) শপথ করে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আয়েশা (রাঃ)-কে যিলহজ্জ মাসে উমরাহ করিয়েছেন মুশরিকদের কাজের বিরোধিতা করার জন্য। বর্ণনায় এসেছে, কুরাইশ ও তাদের অনুসারীরা মনে করত, যিলহজ্জ ও মুহাররম শেষ না হওয়া পর্যন্ত উমরাহ বৈধ নয়। তারা সফর মাস আসার পর উমরাহ করার কথা বলত। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) আয়েশা (রাঃ)-কে যিলহজ্জে উমরাহ করিয়ে সেই ভুল ধারণা ভেঙে দেন। এই হাদিস যিলহজ্জে উমরাহ, আয়েশা রাঃ-এর উমরাহ এবং জাহিলী ধারণার বিরোধিতা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ইবাদতের বিষয়ে মানুষের বানানো ভুল নিষেধকে মানদণ্ড বানানো যাবে না।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আয়েশা (রাঃ)-এর যিলহজ্জের উমরাহ একটি ভুল ধারণার বিরোধিতা করেছে।
  • মুশরিকরা যিলহজ্জ ও মুহাররমে উমরাহকে হারাম মনে করত।
  • ইবাদতের বিধান মানুষের বানানো ধারণার ওপর নির্ভর করে না।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বাস্তব আমলের মাধ্যমে ভুল বিশ্বাস দূর করেছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন