১/৮৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২০৬ - মযী বের হলে করণীয়
বীর্যরস (মযি) সম্পর্কে
মযী বের হলে গোসল নাকি ওজু? হাদিসের সহজ উত্তর
সুনানে আবূ দাউদ : ২০৬
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২০৬
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ الْحَذَّاءُ، عَنِ الرُّكَيْنِ بْنِ الرَّبِيعِ، عَنْ حُصَيْنِ بْنِ قَبِيصَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ كُنْتُ رَجُلاً مَذَّاءً فَجَعَلْتُ أَغْتَسِلُ حَتَّى تَشَقَّقَ ظَهْرِي فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ ﷺ - أَوْ ذُكِرَ لَهُ - فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «لاَ تَفْعَلْ إِذَا رَأَيْتَ الْمَذْىَ فَاغْسِلْ ذَكَرَكَ وَتَوَضَّأْ وُضُوءَكَ لِلصَّلاَةِ فَإِذَا فَضَخْتَ الْمَاءَ فَاغْتَسِلْ» .
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার খুব বেশি মযী নির্গত হতো। এজন্য আমি গোসল করতাম, এমনকি (অত্যধিক গোসলের কারণে) আমার পিঠ ফেটে যেত (ব্যথা অনুভূত হতো)। তাই আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিষয়টি অবহিত করলাম কিংবা কেউ তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন এরূপ করো না। তোমার (লজ্জাস্থানে) মযী দেখতে পেলে তা ধুয়ে নিবে এবং সালাতের ওজুর ন্যায় ওজু করবে। তবে বীর্য নির্গত হলে গোসল করবে।
[২০৫]
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলী (রাঃ)-এর একটি বাস্তব সমস্যার কথা এসেছে। তাঁর মযী বেশি বের হতো, তাই তিনি বারবার গোসল করতেন। এমনকি অতিরিক্ত গোসলের কারণে তাঁর পিঠে কষ্ট হতো। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জানানো হলে তিনি বলেন, এমন করো না। মযী দেখা গেলে লজ্জাস্থান ধুয়ে নিতে হবে এবং সালাতের ওজুর মতো ওজু করতে হবে। কিন্তু বীর্য নির্গত হলে গোসল করতে হবে। এই হাদিসে মযী ও বীর্যের বিধানের পার্থক্য পরিষ্কার হয়েছে। মযী বের হলে গোসল ফরজ নয়—ওজু যথেষ্ট, সঙ্গে আক্রান্ত স্থান ধুতে হবে। আর বীর্য নির্গত হলে গোসলের কথা এসেছে। তাই মযী বের হলে করণীয় জানতে এই হাদিস খুব সরাসরি দিকনির্দেশনা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মযী বের হলে গোসল নয়, লজ্জাস্থান ধুয়ে ওজু করতে বলা হয়েছে।
- বীর্য নির্গত হলে গোসলের নির্দেশ এসেছে।
- অতিরিক্ত কষ্টকর আমল নয়, নবীজির নির্দেশিত সহজ পদ্ধতিই অনুসরণযোগ্য।
- শরীরের পবিত্রতা ও সালাতের ওজু আলাদাভাবে খেয়াল রাখতে হয়।
