১২/৪৬. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২১৬৪ - সহবাসের বৈধ স্থান ও আদব

বিবাহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিধান

সহবাসের বৈধ স্থান ও সূরা বাকারা ২২৩

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২১৬৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى أَبُو الأَصْبَغِ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ أَبَانَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ إِنَّ ابْنَ عُمَرَ - وَاللَّهُ يَغْفِرُ لَهُ - أَوْهَمَ إِنَّمَا كَانَ هَذَا الْحَىُّ مِنَ الأَنْصَارِ - وَهُمْ أَهْلُ وَثَنٍ - مَعَ هَذَا الْحَىِّ مِنْ يَهُودَ - وَهُمْ أَهْلُ كِتَابٍ - وَكَانُوا يَرَوْنَ لَهُمْ فَضْلاً عَلَيْهِمْ فِي الْعِلْمِ فَكَانُوا يَقْتَدُونَ بِكَثِيرٍ مِنْ فِعْلِهِمْ وَكَانَ مِنْ أَمْرِ أَهْلِ الْكِتَابِ أَنْ لاَ يَأْتُوا النِّسَاءَ إِلاَّ عَلَى حَرْفٍ وَذَلِكَ أَسْتَرُ مَا تَكُونُ الْمَرْأَةُ فَكَانَ هَذَا الْحَىُّ مِنَ الأَنْصَارِ قَدْ أَخَذُوا بِذَلِكَ مِنْ فِعْلِهِمْ وَكَانَ هَذَا الْحَىُّ مِنْ قُرَيْشٍ يَشْرَحُونَ النِّسَاءَ شَرْحًا مُنْكَرًا وَيَتَلَذَّذُونَ مِنْهُنَّ مُقْبِلاَتٍ وَمُدْبِرَاتٍ وَمُسْتَلْقِيَاتٍ فَلَمَّا قَدِمَ الْمُهَاجِرُونَ الْمَدِينَةَ تَزَوَّجَ رَجُلٌ مِنْهُمُ امْرَأَةً مِنَ الأَنْصَارِ فَذَهَبَ يَصْنَعُ بِهَا ذَلِكَ فَأَنْكَرَتْهُ عَلَيْهِ وَقَالَتْ إِنَّمَا كُنَّا نُؤْتَى عَلَى حَرْفٍ فَاصْنَعْ ذَلِكَ وَإِلاَّ فَاجْتَنِبْنِي حَتَّى شَرِيَ أَمْرُهُمَا فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ﴾ نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ ﴿ أَىْ مُقْبِلاَتٍ وَمُدْبِرَاتٍ وَمُسْتَلْقِيَاتٍ يَعْنِي بِذَلِكَ مَوْضِعَ الْوَلَدِ .

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ)-কে ক্ষমা করুন, তিনি ভুল করেছেন। আসল কথা হচ্ছে, আনসারদের এই জনপদের লোকেরা মূর্তিপূজারী ছিলো। তারা আহলে কিতাব ইয়াহুদীদের সাথে বসবাস করতো এবং ইয়াহুদীরা জ্ঞানের দিক দিয়ে মূর্তিপূজারীদের উপর নিজেদের মর্যাদা দিতো। সুতরাং তারা নিজেদের কাজকর্মে ইয়াহুদীদের অনুসারী ছিলো।আহলে কিতাবদের নিয়ম ছিলো, তারা স্ত্রীদেরকে কেবল চিৎ করে শুইয়ে তারপর সঙ্গম করতো এবং বলতো, মহিলাদের সতর এ নিয়মে অধিক সংরক্ষিত। আনসার সম্প্রদায়ও তাদের এ কাজে আহলে কিতাবদের অনুসরণ করতো। কিন্তু কুরাইশরা নারীদেরকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে সঙ্গম করতো এবং তাদেরকে সামনাসামনি, পেছনের দিকে এবং চিৎ হয়ে শুইয়ে বিভিন্নভাবে সঙ্গম করতো।অতঃপর যখন মুহাজিরগণ মদিনায় আসলেন তখন তাদের এক ব্যক্তি জনৈক আনসারী নারীকে বিয়ে করে তার সাথে ঐভাবে সঙ্গম করতে চাইলো যেভাবে তারা মক্কার নারীদের সাথে করতো। কিন্তু মহিলাটি তাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বললো, আমরা শুধু এক অবস্থায়ই সঙ্গম করি। সুতরাং তোমাকেও সেভাবেই সঙ্গম করতে হবে অন্যথায় আমার থেকে দূরে থাকো। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়ে গেলো।অতঃপর রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) এর নিকট এ খবর পৌঁছালে মহান আল্লাহ্‌ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ “তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের ক্ষেতস্বরূপ, সুতরাং তোমরা যেভাবে ইচ্ছা করো তোমাদের ক্ষেতে গমন করো”। অর্থাৎ সামনের দিক থেকে, পিছনের দিক থেকে বা চিৎ করে শুইয়ে তার লজ্জাস্থানেই সঙ্গম করো।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২১৬৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ইবনু আব্বাস রাঃ একটি ঘটনার ব্যাখ্যা করেছেন। আনসারদের মধ্যে কিছু লোক আহলে কিতাবদের অনুসরণ করে সহবাসের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে চলত। অন্যদিকে কুরাইশদের মধ্যে বিভিন্ন ভঙ্গিতে সহবাসের রীতি ছিল। মদিনায় এক মুহাজির পুরুষ আনসারী নারীকে বিয়ে করলে এ বিষয় নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم পর্যন্ত পৌঁছালে আল্লাহ আয়াত নাযিল করেন—“তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্রস্বরূপ, সুতরাং যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে গমন করো।” হাদিসের শেষে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, এর অর্থ হলো সামনের দিক থেকে, পেছনের দিক থেকে বা চিৎ করে—তবে সন্তান জন্মের স্থান, অর্থাৎ লজ্জাস্থানেই সহবাস। তাই এই বর্ণনা সহবাসের বৈধ সীমা ও ভুল বুঝাবুঝি দূর করার শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • দাম্পত্য সহবাসে বৈধ স্থান হলো লজ্জাস্থান, গুহ্যদ্বার নয়।
  • সামাজিক রীতি নয়, আল্লাহর নির্দেশই চূড়ান্ত মানদণ্ড।
  • স্বামী-স্ত্রীর মতভেদ হলে শরিয়তের জ্ঞান দিয়ে সমাধান করতে হয়।
  • কুরআনের আয়াত সহবাসের বৈধ সীমা পরিষ্কার করে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন