১২/৪৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২১৬৫ - হায়েয অবস্থায় স্ত্রীর সাথে আচরণ
ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সঙ্গম ও একত্রে বসবাস
হায়েয অবস্থায় স্ত্রীর সাথে আচরণের সুন্নাহ
সুনানে আবূ দাউদ : ২১৬৫
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২১৬৫
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ الْيَهُودَ، كَانَتْ إِذَا حَاضَتْ مِنْهُمُ امْرَأَةٌ أَخْرَجُوهَا مِنَ الْبَيْتِ وَلَمْ يُؤَاكِلُوهَا وَلَمْ يُشَارِبُوهَا وَلَمْ يُجَامِعُوهَا فِي الْبَيْتِ فَسُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ﴾ يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ ﴿ إِلَى آخِرِ الآيَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " جَامِعُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ وَاصْنَعُوا كُلَّ شَىْءٍ غَيْرَ النِّكَاحِ " .فَقَالَتِ الْيَهُودُ مَا يُرِيدُ هَذَا الرَّجُلُ أَنْ يَدَعَ شَيْئًا مِنْ أَمْرِنَا إِلاَّ خَالَفَنَا فِيهِ . فَجَاءَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ وَعَبَّادُ بْنُ بِشْرٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالاَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْيَهُودَ تَقُولُ كَذَا وَكَذَا أَفَلاَ نَنْكِحُهُنَّ فِي الْمَحِيضِ فَتَمَعَّرَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ حَتَّى ظَنَنَّا أَنْ قَدْ وَجِدَ عَلَيْهِمَا فَخَرَجَا فَاسْتَقْبَلَتْهُمَا هَدِيَّةٌ مِنْ لَبَنٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَبَعَثَ فِي آثَارِهِمَا فَسَقَاهُمَا فَظَنَنَّا أَنَّهُ لَمْ يَجِدْ عَلَيْهِمَا .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইয়াহুদীদের মধ্যে কোন নারী ঋতুবতী হলে তারা তাদের ঘর থেকে বের করে দিতো এবং তাদের সাথে খানাপিনায়ও শরীক করতো না এবং তাদের সাথে একই ঘরে অবস্থান করতে দিতো না। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করা হলে, মহান আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ “লোকজন আপনাকে হায়িয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে। আপনি বলুন, তা অপবিত্রতা। সুতরাং তোমরা হায়িয চলাকালে সঙ্গম বর্জন করো ...। “অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা তাদেরকে নিয়ে একই ঘরে থাকো এবং সঙ্গম ছাড়া সবই একত্রে করো। এ কথা শুনে ইয়াহুদীরা বললো, এ ব্যক্তি তো আমাদের কাজগুলোকে শুধুমাত্র বর্জনই করে না, বরং স্বেচ্ছায় এর বিরোধিতাও করে।তখন উসাইদ ইবনু হুদাইর (রাঃ) ও ‘আব্বাদ ইবনু বিশর (রাঃ) রাসূলুল্লাহর (ﷺ) এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! (ইয়াহুদীরা) এরূপ বলেছে। সুতরাং আমরা কি হায়িয অবস্থায় সঙ্গম করবো? একথা শুনে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেলো। আমরা মনে করলাম, তিনি এদের উপর রাগান্বিত হয়েছেন। এমন সময় তারা সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেন। ঠিক তখন তাদের সামনে দিয়ে কিছু দুধ উপঢৌকন হিসাবে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) কাছে আসলে তিনি তাদের খোঁজে লোক পাঠালেন। তখন আমরা বুঝতে পারলাম, তিনি তাদের উপর রাগান্বিত হননি।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২১৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হায়েয অবস্থায় নারীর সাথে আচরণের একটি সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা এসেছে। বর্ণনায় বলা হয়েছে, ইহুদীদের মধ্যে কোনো নারী ঋতুবতী হলে তারা তাকে ঘর থেকে বের করে দিত, তার সাথে খাওয়া-দাওয়া করত না এবং একই ঘরে থাকতে দিত না। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করা হলে আল্লাহ হায়েয সম্পর্কে আয়াত নাযিল করেন। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তোমরা তাদেরকে ঘরে রাখো এবং সহবাস ছাড়া সব কিছু করো। এতে বোঝা যায়, হায়েয অবস্থায় স্ত্রীকে অবহেলা বা আলাদা করা ইসলামের শিক্ষা নয়। একই সঙ্গে সহবাস বর্জনের নির্দেশও স্পষ্ট। তাই এই হাদিসে হায়েযের বিধান, দাম্পত্য আদব এবং মানবিক আচরণ একসাথে শেখানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়েয অবস্থায় স্ত্রীকে ঘর থেকে আলাদা করা যাবে না।
- এই অবস্থায় সহবাস বর্জন করতে হবে।
- খাওয়া, থাকা ও স্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা সহবাস ছাড়া বৈধ।
- ধর্মীয় বিধান মানার সঙ্গে কোমল আচরণও জরুরি।
