১৩/১০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২১৯৬ - রুকানার তালাক ও রাজআত
তিন তালাকের পর স্ত্রীকে পুনঃগ্রহণ প্রসঙ্গ
রুকানার ঘটনা: তালাক ও পুনরায় গ্রহণ
সুনানে আবূ দাউদ : ২১৯৬
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২১৯৬
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي بَعْضُ بَنِي أَبِي رَافِعٍ، مَوْلَى النَّبِيِّ ﷺ عَنْ عِكْرِمَةَ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ طَلَّقَ عَبْدُ يَزِيدَ - أَبُو رُكَانَةَ وَإِخْوَتِهِ - أُمَّ رُكَانَةَ وَنَكَحَ امْرَأَةً مِنْ مُزَيْنَةَ فَجَاءَتِ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَتْ مَا يُغْنِي عَنِّي إِلاَّ كَمَا تُغْنِي هَذِهِ الشَّعْرَةُ .لِشَعْرَةٍ أَخَذَتْهَا مِنْ رَأْسِهَا فَفَرِّقْ بَيْنِي وَبَيْنَهُ فَأَخَذَتِ النَّبِيَّ ﷺ حَمِيَّةٌ فَدَعَا بِرُكَانَةَ وَإِخْوَتِهِ ثُمَّ قَالَ لِجُلَسَائِهِ «أَتَرَوْنَ فُلاَنًا يُشْبِهُ مِنْهُ كَذَا وَكَذَا مِنْ عَبْدِ يَزِيدَ وَفُلاَنًا يُشْبِهُ مِنْهُ - كَذَا وَكَذَا». قَالُوا نَعَمْ. قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لِعَبْدِ يَزِيدَ " طَلِّقْهَا ". فَفَعَلَ ثُمَّ قَالَ " رَاجِعِ امْرَأَتَكَ أُمَّ رُكَانَةَ وَإِخْوَتِهِ ". فَقَالَ إِنِّي طَلَّقْتُهَا ثَلاَثًا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ «قَدْ عَلِمْتُ رَاجِعْهَا». وَتَلاَ { يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ }.قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدِيثُ نَافِعِ بْنِ عُجَيْرٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ بْنِ رُكَانَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رُكَانَةَ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ الْبَتَّةَ فَرَدَّهَا إِلَيْهِ النَّبِيُّ ﷺ أَصَحُّ لأَنَّ وَلَدَ الرَّجُلِ وَأَهْلَهُ أَعْلَمُ بِهِ أَنَّ رُكَانَةَ إِنَّمَا طَلَّقَ امْرَأَتَهُ الْبَتَّةَ فَجَعَلَهَا النَّبِيُّ ﷺ وَاحِدَةً.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রুকানার পিতা ‘আবদু ইয়াযীদ ও তার ভ্রাতৃগোষ্ঠী উম্মু রুকানাকে তালাক দেন এবং মুযাইনাহ গোত্রের এক মহিলাকে বিয়ে করেন। একদা ঐ মহিলা নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বললো, তার স্বামী সহবাসে অক্ষম। যেমন আমার মাথার চুল অন্য চুলের কোন উপকারে আসে না। সুতরাং আপনি আমার ও তার মাঝে বিচ্ছেদ করিয়ে দিন। নবী (ﷺ) এতে অসন্তুষ্ট হন এবং রুকানা ও তার ভ্রাতৃগোষ্ঠীকে ডেকে আনেন।এরপর তিনি সেখানে উপস্থিত লোকজনকে বলেনঃ তোমরা কি লক্ষ্য করেছো যে, এদের মধ্যে অমুক অমুকের অঙ্গের সাথে মিল রয়েছে? তারা বললো, হ্যাঁ। নবী (ﷺ) ‘আবদু ইয়াযীদকে বলেনঃ তুমি তাকে তালাক দাও। সুতরাং তিনি তাকে তালাক দিলেন। তিনি বলেনঃ তুমি রুকানার মা ও তার ভ্রাতৃগোষ্ঠীকে পুনরায় গ্রহণ করো। তিনি বলেন, আমি তো তাকে তিন তালাক দিয়েছি, হে আল্লাহ্র রাসূল! তিনি বলেনঃ আমি তা জানি, তুমি তাকে গ্রহণ করো।এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ “হে নবী! যখন তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের তালাক দিবে তখন তাদের ইদ্দাতকালের প্রতি লক্ষ্য রেখে তালাক দিবে” (সূরা আত্-তালাকঃ ১)
ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, নাফি’ ইবনু উজাইর ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আলী ইবনু ইয়াযীদ ইবনু রুকানা হতে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত হাদীসে রয়েছেঃ রুকানা তার স্ত্রীকে তালাক দিলে নবী (ﷺ) তাকে পুনরায় ঐ স্ত্রীকে গ্রহণ করতে আদেশ দেন। এটা অধিকতর সঠিক।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২১৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রুকানার পিতা আব্দু ইয়াজিদ, উম্মু রুকানা এবং মুযাইনা গোত্রের এক মহিলার ঘটনা এসেছে। নতুন স্ত্রী নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে স্বামীর ব্যাপারে অভিযোগ করে বিচ্ছেদের আবেদন করে। নবী (صلى الله عليه وسلم) এতে অসন্তুষ্ট হন এবং রুকানা ও তার ভাইদের ডাকেন। এরপর আব্দু ইয়াজিদকে ওই নারীকে তালাক দিতে বলেন এবং উম্মু রুকানাকে পুনরায় গ্রহণ করতে বলেন। আব্দু ইয়াজিদ বলেন, তিনি তো তাকে তিন তালাক দিয়েছেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, আমি জানি, তুমি তাকে গ্রহণ করো। এরপর তিনি ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে তালাক দেওয়ার আয়াত পাঠ করেন। শেষে ইমাম আবু দাউদ বলেন, রুকানার স্ত্রীকে ‘বাত্তা’ তালাকের বর্ণনা অধিক সঠিক। তাই বর্ণনাটি সতর্কভাবে পড়তে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তালাক ও রাজআতের বিষয়ে নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ মানা জরুরি।
- ইদ্দত অনুযায়ী তালাকের আয়াত এখানে তিলাওয়াত করা হয়েছে।
- পারিবারিক অভিযোগে সত্য যাচাই ও ন্যায়বিচার গুরুত্বপূর্ণ।
- ইমাম আবু দাউদের বর্ণনা-সংক্রান্ত মন্তব্যও গুরুত্ব রাখে।
