১৩/১১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২২০২ - কাবের ঘটনা ও স্ত্রী থেকে দূরে থাকা
যে শব্দ দ্বারা তালাক হতে পারে তা এবং নিয়্যাত
কাব ইবনু মালিকের ঘটনায় দাম্পত্য দূরত্বের শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ২২০২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২২০২
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ كَعْبٍ، - وَكَانَ قَائِدَ كَعْبٍ مِنْ بَنِيهِ حِينَ عَمِيَ - قَالَ سَمِعْتُ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍفَسَاقَ قِصَّتَهُ فِي تَبُوكَ قَالَ حَتَّى إِذَا مَضَتْ أَرْبَعُونَ مِنَ الْخَمْسِينَ إِذَا رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ يَأْتِي فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَأْمُرُكَ أَنْ تَعْتَزِلَ امْرَأَتَكَ . قَالَ فَقُلْتُ أُطَلِّقُهَا أَمْ مَاذَا أَفْعَلُ قَالَ لاَ بَلِ اعْتَزِلْهَا فَلاَ تَقْرَبَنَّهَا . فَقُلْتُ لاِمْرَأَتِي الْحَقِي بِأَهْلِكِ فَكُونِي عِنْدَهُمْ حَتَّى يَقْضِيَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ فِي هَذَا الأَمْرِ .
কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ) যখন অন্ধ হয়ে যান, তখন তাঁর সন্তানদের মধ্য হতে ‘আবদুল্লাহ ইবনু কা’ব ছিলেন তাঁর পথ প্রদর্শক। তিনি বর্ণনা করেন, আমি কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি। এরপর তাবুক অভিযানের পূর্ব ঘটনা বর্ণনা করেন।কা’ব বলেন, যখন পঞ্চাশ দিন থেকে চল্লিশ দিন অতিবাহিত হয় তখন রাসূলুল্লাহ্র (ﷺ) দূত আমার কাছে এসে বললো, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে আপনার স্ত্রী থেকে পৃথক থাকতে বলেছেন। তিনি বলেন, তবে কি আমি তাকে তালাক দিবো, না কি রাখবো? সে বললো, না, বরং বিচ্ছিন্ন রাখুন এবং সহবাস মেলামেশা করবেন না। আমি আমার স্ত্রীকে বললাম, তুমি তোমার পরিবারের কাছে চলে যাও এবং তাদের সাথে অবস্থান করো যতক্ষণ না মহান আল্লাহ আমার এ বিষয়ে কোন ফায়সালা দেন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২২০২-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় কাব ইবনু মালিক রাঃ-এর তাবুক অভিযানের ঘটনার একটি অংশ এসেছে। পঞ্চাশ দিনের সময়ের মধ্যে চল্লিশ দিন পার হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর দূত এসে তাঁকে জানালেন যে, তিনি যেন স্ত্রী থেকে পৃথক থাকেন। কাব রাঃ জানতে চাইলেন, তিনি কি স্ত্রীকে তালাক দেবেন, নাকি রাখবেন। উত্তরে জানানো হলো, তালাক নয়; বরং স্ত্রী থেকে দূরে থাকবেন এবং সহবাস বা ঘনিষ্ঠতা করবেন না। এরপর তিনি স্ত্রীকে তাঁর পরিবারের কাছে থাকতে বললেন, যতক্ষণ না আল্লাহ এই বিষয়ে ফয়সালা দেন। এখানে দাম্পত্য বিচ্ছিন্নতা তালাক হিসেবে বলা হয়নি, বরং নির্দিষ্ট নির্দেশের অধীনে সাময়িক দূরত্ব হিসেবে এসেছে। এই হাদিসে আনুগত্য, ধৈর্য এবং আল্লাহর ফয়সালার অপেক্ষার শিক্ষা পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সব দাম্পত্য দূরত্ব তালাক নয়; কথার ধরন ও নির্দেশ বুঝতে হয়।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ সাহাবিরা গুরুত্ব দিয়ে মানতেন।
- কঠিন সময়ে আল্লাহর ফয়সালার অপেক্ষা ধৈর্যের কাজ।
- পারিবারিক বিষয়ে অযথা সিদ্ধান্ত না নিয়ে স্পষ্টতা নেওয়া জরুরি।
