১৩/১৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২২৩১ - বারীরা ও মুগীসের ঘটনা
স্বাধীন কিংবা গোলামের দাসী স্ত্রী আযাদ হলে
বারীরা ও মুগীস: সুপারিশ ও ব্যক্তিগত এখতিয়ার
সুনানে আবূ দাউদ : ২২৩১
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২২৩১
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ مُغِيثًا، كَانَ عَبْدًا فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ اشْفَعْ لِي إِلَيْهَا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «يَا بَرِيرَةُ اتَّقِي اللَّهَ فَإِنَّهُ زَوْجُكِ وَأَبُو وَلَدِكِ». فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَأْمُرُنِي بِذَلِكَ قَالَ «لاَ إِنَّمَا أَنَا شَافِعٌ». فَكَانَ دُمُوعُهُ تَسِيلُ عَلَى خَدِّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِلْعَبَّاسِ «أَلاَ تَعْجَبُ مِنْ حُبِّ مُغِيثٍ بَرِيرَةَ وَبُغْضِهَا إِيَّاهُ " .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুগীস ছিলেন একজন গোলাম। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য তার (বারীরার) কাছে একটু সুপারিশ করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে বারীরাহ! আল্লাহকে ভয় করো। কেননা সে তোমার স্বামী এবং তোমার সন্তানদের পিতা। সে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! এটা কি আমার প্রতি আপনার নির্দেশ? তিনি বললেনঃ না, বরং আমি একজন সুপারিশকারী। এদিকে মুগীসের চোখের পানিতে তার চোয়াল পর্যন্ত ভিজে গড়িয়ে পড়ছে। এ দৃশ্য দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বললেনঃ হে ‘আব্বাস! বারীরাহ্র প্রতি মুগীসের প্রেম, আর মুগীসের প্রতি তার ক্রোধ কতই না আশ্চর্যকর।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২২৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুগীস ও বারীরার ঘটনা এসেছে। মুগীস বারীরাকে ফিরে পাওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে সুপারিশ চান। নবী صلى الله عليه وسلم বারীরাকে আল্লাহকে ভয় করতে বলেন এবং জানান যে, মুগীস তার স্বামী ও সন্তানের পিতা। কিন্তু বারীরা জানতে চান, এটি কি নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ, নাকি সুপারিশ। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তিনি শুধু সুপারিশকারী। তখন বারীরা নিজের সিদ্ধান্তে থাকে। মুগীসের চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছিল, আর নবী صلى الله عليه وسلم আব্বাস (রাঃ)-কে বলেন, মুগীসের বারীরার প্রতি ভালোবাসা এবং বারীরার তার প্রতি অনীহা কত আশ্চর্য। হাদিসটি সুপারিশ, ব্যক্তিগত এখতিয়ার এবং দাম্পত্য সিদ্ধান্তে জোর না করার সুন্দর শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم সুপারিশ করেছেন, কিন্তু জোর করে সিদ্ধান্ত চাপাননি।
- বারীরা নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে স্পষ্টতা জানতে চেয়েছেন।
- ভালোবাসা একতরফা হলেও সিদ্ধান্তে উভয়ের অধিকার বিবেচ্য।
- সুপারিশ ও নির্দেশের পার্থক্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
