১৩/২৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২২৫৩ - লি‘আনের আয়াত ও শপথ
লি‘আন সম্পর্কে
লি‘আনের আয়াত: সাক্ষীহীন অভিযোগের শরয়ি পথ
সুনানে আবূ দাউদ : ২২৫৩
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২২৫৩
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ إِنَّا لَلَيْلَةُ جُمْعَةٍ فِي الْمَسْجِدِ إِذْ دَخَلَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ لَوْ أَنَّ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً فَتَكَلَّمَ بِهِ جَلَدْتُمُوهُ أَوْ قَتَلَ قَتَلْتُمُوهُ فَإِنْ سَكَتَ سَكَتَ عَلَى غَيْظٍ وَاللَّهِ لأَسْأَلَنَّ عَنْهُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ . فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَسَأَلَهُ فَقَالَ لَوْ أَنَّ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً فَتَكَلَّمَ بِهِ جَلَدْتُمُوهُ أَوْ قَتَلَ قَتَلْتُمُوهُ أَوْ سَكَتَ سَكَتَ عَلَى غَيْظٍ. فَقَالَ " اللَّهُمَّ افْتَحْ " .وَجَعَلَ يَدْعُو فَنَزَلَتْ آيَةُ اللِّعَانِ ﴾ وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلاَّ أَنْفُسُهُمْ ﴿ هَذِهِ الآيَةُ فَابْتُلِيَ بِهِ ذَلِكَ الرَّجُلُ مِنْ بَيْنِ النَّاسِ فَجَاءَ هُوَ وَامْرَأَتُهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَتَلاَعَنَا فَشَهِدَ الرَّجُلُ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ ثُمَّ لَعَنَ الْخَامِسَةَ عَلَيْهِ إِنْ كَانَ مِنَ الْكَاذِبِينَ قَالَ فَذَهَبَتْ لِتَلْتَعِنَ فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ ﷺ «مَهْ» . فَأَبَتْ فَفَعَلَتْ فَلَمَّا أَدْبَرَا قَالَ " لَعَلَّهَا أَنْ تَجِيءَ بِهِ أَسْوَدَ جَعْدًا " . فَجَاءَتْ بِهِ أَسْوَدَ جَعْدًا.
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক জুমু’আহ্র রাতে আমি মসজিদে উপস্থিত ছিলাম। তখন এক আনসারী ব্যক্তি মসজিদে এসে বললো, যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে অন্য পুরুষকে অবৈধ কাজে লিপ্ত পায় এবং সে যদি তা প্রকাশ করে তাহলে অভিযোগকারীকে তোমরা মিথ্যাবাদিতার শাস্তি দিবে নাকি তাকে (যিনাকারীকে) হত্যা করার কারণে তাকেও হত্যা করবে? আর সে যদি নীরব থাকে তবে ক্ষোভ নিয়েই নীরব থাকবে। আল্লাহর শপথ! আমি এ বিষয়ে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করবো।অতঃপর ভোর বেলার সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো, যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে অন্য পুরুষকে অবৈধ কাজে লিপ্ত পায়, তাহলে আপনারা কি তাকে তা বলার অপরাধে মিথ্যাবাদিতার শাস্তি দিবেন? নাকি সে (যিনাকারীকে) হত্যা করলে (কিসাসস্বরূপ) তাকেও হত্যা করবেন, নাকি সে ক্ষোভ নিয়ে চুপ থাকবে? তার কথা শুনে তিনি (ﷺ) বললেনঃ ‘হে আল্লাহ! সঠিক তথ্য প্রকাশ করে দিন’ এবং তিনি দোয়া করতে থাকলেন।অতঃপর লি’আনের আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ “এবং যারা নিজেদের স্ত্রীদের উপর যিনার অভিযোগ দেয় অথচ তাদের কাছে তারা ছাড়া অন্য কোন সাক্ষী নেই...” (সূরা আন-নূর: ৬)।বস্তুত লোকটিই এ গুরুতর ব্যাপারে জড়িয়ে পড়েছিল। পরে সে ও তার স্ত্রী রাসূলুল্লাহর (ﷺ) কাছে এসে লি’আন করলো এবং সে ব্যক্তি আল্লাহর শপথ দ্বারা চারবার শপথ করলো যে, সে তার দাবিতে সত্যবাদী। আর পঞ্চমবারে সে বললো, তার উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক যদি সে মিথ্যাবাদী হয়ে থাকে। অতঃপর উক্ত মহিলা লি’আন করতে উদ্যত হলে নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ থামো! কিন্তু সে বিরত থাকতে অস্বীকার করলো এবং লি’আন করলো। উভয় লি’আনকারী চলে গেলে নবী (ﷺ) বললেনঃ সম্ভবত সে কালো ও স্থূলদেহী সন্তান প্রসব করবে। পরে তাই হলো, সে কালো ও স্থূলদেহী সন্তানই প্রসব করলো।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২২৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক আনসারী ব্যক্তি কঠিন প্রশ্ন করেন: কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে অন্য পুরুষকে অবৈধ কাজে দেখে, তবে সে বললে অপবাদের শাস্তি পাবে, হত্যা করলে নিজেও শাস্তি পাবে, আর চুপ থাকলে ক্ষোভে থাকবে—তাহলে কী করবে? পরদিন তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-কে প্রশ্ন করেন। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, “হে আল্লাহ! সঠিক তথ্য প্রকাশ করে দাও” এবং দোয়া করতে থাকেন। এরপর লি‘আনের আয়াত নাযিল হয়। পরে সেই ব্যক্তি ও তার স্ত্রী রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে এসে লি‘আন করেন। পুরুষ চারবার সত্যতার শপথ করে এবং পঞ্চমবার মিথ্যা হলে নিজের ওপর আল্লাহর অভিশাপের কথা বলে। স্ত্রীও লি‘আন করে। এই হাদিসে “লি‘আনের আয়াত”, “সাক্ষীহীন অভিযোগ” এবং “শপথের বিধান” স্পষ্টভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুতর দাম্পত্য অভিযোগে শরিয়তের নির্দিষ্ট পথ আছে।
- সাক্ষী না থাকলে নিজে বিচার করা নয়, নববী নির্দেশের পথে যেতে হয়।
- লি‘আনের শপথ খুব গুরুতর বিষয়, তাই এতে সতর্কতা জরুরি।
- নবী صلى الله عليه وسلم কঠিন বিষয়ে আল্লাহর কাছে সঠিক ফয়সালার দোয়া করেছেন।
