১৩/৩৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২২৭৮ - খালা মায়ের সমতুল্য
সন্তান লালন-পালনে অধিক হকদার কে?
খালা মায়ের সমতুল্য: শিশুর হেফাজত
সুনানে আবূ দাউদ : ২২৭৮
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২২৭৮
حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ نَافِعِ بْنِ عُجَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ خَرَجَ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ إِلَى مَكَّةَ فَقَدِمَ بِابْنَةِ حَمْزَةَ فَقَالَ جَعْفَرٌ أَنَا آخُذُهَا أَنَا أَحَقُّ بِهَا ابْنَةُ عَمِّي وَعِنْدِي خَالَتُهَا وَإِنَّمَا الْخَالَةُ أُمٌّ . فَقَالَ عَلِيٌّ أَنَا أَحَقُّ بِهَا ابْنَةُ عَمِّي وَعِنْدِي ابْنَةُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَهِيَ أَحَقُّ بِهَا . فَقَالَ زَيْدٌ أَنَا أَحَقُّ بِهَا أَنَا خَرَجْتُ إِلَيْهَا وَسَافَرْتُ وَقَدِمْتُ بِهَا. فَخَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ فَذَكَرَ حَدِيثًا قَالَ " وَأَمَّا الْجَارِيَةُ فَأَقْضِي بِهَا لِجَعْفَرٍ تَكُونُ مَعَ خَالَتِهَا وَإِنَّمَا الْخَالَةُ أُمٌّ " . .
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যায়িদ ইবনু হারিসাহ (রাঃ) মক্কার দিকে রওয়ানা হলেন। (অতঃপর মাক্কাহ থেকে) ফেরার সময় তিনি হামযাহ্র (রাঃ) কন্যাটিকে সাথে করে আনলেন। জা’ফার ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ) বললেন, তাকে আমি নিবো, আমিই তার অধিক হকদার, কারণ সে আমার চাচার মেয়ে এবং তার খালা আমার স্ত্রী। আর খালা হচ্ছে মায়ের সমতুল্য। ‘আলী (রাঃ) বললেন, আমিই তার অধিক হকদার, সে আমার চাচার কন্যা এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কন্যা আমার স্ত্রী। সুতরাং আমার স্ত্রীই এর অধিক হকদার। যায়িদ ইবনু হারিসাহ (রাঃ) বললেন, আমিই এর বেশি হকদার। কারণ আমিই তাকে আনতে গিয়েছি, সফরের কষ্ট স্বীকার করেছি এবং আমিই তাকে নিয়ে এসেছি।এ সময় নবী (ﷺ) বের হয়ে আসলেন। তাঁকে একজন ঘটনাটি বললেন। তখন তিনি (ﷺ) বললেনঃ কন্যাটির ব্যাপারে আমার ফায়সালা হচ্ছে, সে জা’ফারের কাছে থাকবে। সে খালার সাথে অবস্থান করবে, কেননা খালা তো মায়ের সমতুল্য।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২২৭৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হামজা (রাঃ)-এর কন্যাকে নিয়ে জাফর, আলী ও যায়িদ (রাঃ)-এর মধ্যে হেফাজতের দাবি ওঠে। জাফর (রাঃ) বলেন, সে তার চাচার মেয়ে এবং তার খালা তাঁর স্ত্রী। আলী (রাঃ) বলেন, সে তার চাচার মেয়ে এবং রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) তাঁর স্ত্রী। যায়িদ (রাঃ) বলেন, তিনি তাকে আনতে গিয়েছেন এবং সফরের কষ্ট করেছেন। নবী صلى الله عليه وسلم ঘটনা শুনে কন্যাটির বিষয়ে ফায়সালা দেন—সে জাফরের কাছে থাকবে, কারণ তার খালা সেখানে আছে। এরপর তিনি বলেন, খালা মায়ের সমতুল্য। এই হাদিসে শিশুর হেফাজতে মমতা, কাছের নারী আত্মীয় এবং যত্নের জায়গা গুরুত্ব পেয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিশুর হেফাজতে খালার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।
- খালাকে মায়ের সমতুল্য বলা হয়েছে।
- শিশুর যত্ন ও নিরাপদ পরিবেশ বিবেচনায় ফায়সালা দেওয়া হয়েছে।
- দাবিদারদের মর্যাদা থাকলেও সিদ্ধান্ত শিশুর কল্যাণের দিকে যায়।
