১৪/১. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৩১৪ - রোজার রাতে খাওয়ার অনুমতি

সওম ফরজ হওয়ার সূচনা

রোজার রাতে খাওয়ার বিধান সহজ হওয়া

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৩১৪

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ نَصْرٍ الْجَهْضَمِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ كَانَ الرَّجُلُ إِذَا صَامَ فَنَامَ لَمْ يَأْكُلْ إِلَى مِثْلِهَا وَإِنَّ صِرْمَةَ بْنَ قَيْسٍ الأَنْصَارِيَّ أَتَى امْرَأَتَهُ وَكَانَ صَائِمًا فَقَالَ عِنْدَكِ شَىْءٌ قَالَتْ لاَ لَعَلِّي أَذْهَبُ فَأَطْلُبُ لَكَ شَيْئًا .فَذَهَبَتْ وَغَلَبَتْهُ عَيْنُهُ فَجَاءَتْ فَقَالَتْ خَيْبَةً لَكَ . فَلَمْ يَنْتَصِفِ النَّهَارُ حَتَّى غُشِيَ عَلَيْهِ وَكَانَ يَعْمَلُ يَوْمَهُ فِي أَرْضِهِ فَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ ﷺ فَنَزَلَتْ ﴾ أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ ﴿ قَرَأَ إِلَى قَوْلِهِ ﴾ مِنَ الْفَجْرِ ﴿ .

বারা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

লোকেরা যখন সাওম পালন করতো তখন তাদের কেউ যদি কিছু না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়তো তাহলে পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে কিছুই খেতে পারতো না। সিরমা ইবনু ক্বায়িস আল-আনসারী (রাঃ) সাওম পালন অবস্থায় স্ত্রীকে এসে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কিছু আছে কি? স্ত্রী বললেন, না, তবে আমি খুঁজে দেখি আপনার জন্য কিছু জোগাড় করতে পারি কিনা। স্ত্রী খাবারের সন্ধানে গেলে স্বামী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লো। স্ত্রী ফিরে এসে এ অবস্থা দেখে বললেন, তোমার জন্য বঞ্চনা।(ক্ষুধার কারণে) পরদিন দুপুর না হতেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। এ দিন তিনি নিজ ভূমিতে কাজকর্ম করছিলেন। বিষয়টি নবী (ﷺ) এর কাছে উল্লেখ করা হলে আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ “রমাযানের রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা তোমাদের জন্য বৈধ করা হলো” তিনি (ﷺ) আয়াতটির ‘ভোর পর্যন্ত’ তিলাওয়াত করেন।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৩১৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সাওমের প্রথম দিকের একটি বাস্তব কষ্টের ঘটনা এসেছে। তখন কেউ সাওম রেখে ইফতারের আগে ঘুমিয়ে পড়লে পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত আর খেতে পারত না। সিরমা ইবনু কাইস আল-আনসারী (রাঃ) সাওম অবস্থায় স্ত্রীর কাছে খাবার চাইলে স্ত্রী খাবার খুঁজতে যান। এর মধ্যে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। পরে তিনি না খেয়ে পরদিন কাজে যান এবং দুপুর হওয়ার আগেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। বিষয়টি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে উল্লেখ করা হলে আয়াত নাজিল হয়: “রামাযানের রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা তোমাদের জন্য বৈধ করা হলো”—এবং আয়াতটি ভোর পর্যন্ত পড়া হয়। এই হাদিসে রোজার রাতে খাওয়া, পান করা ও স্ত্রী-সহবাসের অনুমতি সহজভাবে বোঝা যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • প্রথম যুগের কঠিন বিধান পরে মানুষের জন্য সহজ করা হয়েছে।
  • ইফতারের আগে ঘুমিয়ে পড়লে আগের মতো কষ্টকর নিষেধাজ্ঞা আর থাকেনি।
  • আল্লাহ বান্দার কষ্ট জানেন এবং সহজতার ব্যবস্থা করেন।
  • রমাযানের রাতে ভোর পর্যন্ত বৈধতার কথা আয়াতে এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন