১৪/৭৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৪৫৯ - নফল সাওম, সালাত ও দাম্পত্য অভিযোগ
স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর নফল সওম রাখা
দাম্পত্য জীবনে নফল সাওম ও সালাতের ভারসাম্য
সুনানে আবূ দাউদ : ২৪৫৯
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৪৫৯
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ وَنَحْنُ عِنْدَهُ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ زَوْجِي صَفْوَانَ بْنَ الْمُعَطَّلِ يَضْرِبُنِي إِذَا صَلَّيْتُ وَيُفَطِّرُنِي إِذَا صُمْتُ وَلاَ يُصَلِّي صَلاَةَ الْفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ .قَالَ وَصَفْوَانُ عِنْدَهُ . قَالَ فَسَأَلَهُ عَمَّا قَالَتْ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمَّا قَوْلُهَا يَضْرِبُنِي إِذَا صَلَّيْتُ فَإِنَّهَا تَقْرَأُ بِسُورَتَيْنِ وَقَدْ نَهَيْتُهَا . قَالَ فَقَالَ " لَوْ كَانَتْ سُورَةً وَاحِدَةً لَكَفَتِ النَّاسَ " . وَأَمَّا قَوْلُهَا يُفَطِّرُنِي فَإِنَّهَا تَنْطَلِقُ فَتَصُومُ وَأَنَا رَجُلٌ شَابٌّ فَلاَ أَصْبِرُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَوْمَئِذٍ " لاَ تَصُومُ امْرَأَةٌ إِلاَّ بِإِذْنِ زَوْجِهَا " . وَأَمَّا قَوْلُهَا إِنِّي لاَ أُصَلِّي حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَإِنَّا أَهْلُ بَيْتٍ قَدْ عُرِفَ لَنَا ذَاكَ لاَ نَكَادُ نَسْتَيْقِظُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ . قَالَ " فَإِذَا اسْتَيْقَظْتَ فَصَلِّ " .قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ حَمَّادٌ - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - عَنْ حُمَيْدٍ أَوْ ثَابِتٍ عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ .
আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় তার কাছে এক মহিলা এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার স্বামী সাফওয়ান ইবনু মু‘আত্তাল যখন আমি সালাত আদায় করি তখন আমাকে প্রহার করে। আমি সাওম রাখলে সে আমাকে সাওম ভঙ্গ করায় এবং সূর্য উঠার পূর্বে সে ফাজরের সালাত আদায় করে না। বর্ণনাকারী বলেন, সেখানে সাফওয়ানও উপস্থিত ছিলেন। তার স্ত্রী তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছে সে সম্পর্কে তিনি (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন।জবাবে তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তার অভিযোগ হলো, ‘আমি যখন সালাত আদায় করি সে আমাকে প্রহার করে’, কারণ হচ্ছে, সে এমন দু’টি দীর্ঘ সূরা দিয়ে সালাত আদায় করে যা পাঠ করতে আমি তাকে নিষেধ করি। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি বললেনঃ (ফাতিহার পর) সংক্ষিপ্ত একটি সূরাই লোকদের জন্য যথেষ্ট। তার অভিযোগ, ‘আমাকে সাওম ভাঙ্গতে বাধ্য করে’, ব্যাপার এই যে, সে প্রায়ই সাওম রাখে। আমি একজন যুবক, ধৈর্যধারণ করতে পারিনা।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই দিনই বললেনঃ কোন নারী তার স্বামীর অনুমতি ছাড়া (নফল) সাওম রাখবে না। এবং তার অভিযোগ, ‘সূর্য উঠার পূর্বে আমি (ফাজরের) সালাত আদায় করি না’, কারণ হলো, আমার পরিবারের লোকেরা সর্বদা কাজে (পানি সরবরাহে) ব্যস্ত থাকে। ফলে সূর্য উঠার আগে আমরা ঘুম থেকে জাগতে পারি না। তার কথা শুনে তিনি বললেনঃ যখনই তুমি জাগ্রত হবে তখনই সালাত আদায় করে নিবে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৪৫৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক নারী রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে স্বামী সাফওয়ান ইবনু মু'আত্তালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সালাত আদায় করলে স্বামী তাকে প্রহার করে, সাওম রাখলে সাওম ভঙ্গ করায় এবং সূর্য ওঠার আগে ফজর পড়ে না। নবী صلى الله عليه وسلم সাফওয়ানকে জিজ্ঞেস করলে তিনি নিজের কারণ বলেন। দীর্ঘ সূরা পড়ার বিষয়ে নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, একটি সূরাই মানুষের জন্য যথেষ্ট। সাওমের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো নারী স্বামীর অনুমতি ছাড়া নফল সাওম রাখবে না। আর ফজর সম্পর্কে সাফওয়ান জানান, পরিবার কাজের কারণে দেরিতে জাগে। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, যখন জাগবে তখন সালাত আদায় করবে। এই হাদিসে অভিযোগ শোনা, উভয় পক্ষের কথা নেওয়া, নফল সাওমে অনুমতি এবং সালাতের বাস্তব নির্দেশনা এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিচারের আগে উভয় পক্ষের কথা শোনা দরকার।
- সালাতে সংক্ষিপ্ত সূরা পড়াও যথেষ্ট হতে পারে—এ কথা এসেছে।
- নফল সাওমে স্বামীর অনুমতির নির্দেশ এখানে পুনরায় এসেছে।
- ঘুম থেকে জাগার পর সালাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
