১৫/২০. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৫০৭ - অক্ষমতার ওজর ও জিহাদের আয়াত

গ্রহণযোগ্য ওযর থাকলে জিহাদে অংশগ্রহণ না করার অনুমতি

অক্ষমতার ওজর ও মুজাহিদের মর্যাদা

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৫০৭

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ : كُنْتُ إِلَى جَنْبِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَغَشِيَتْهُ السَّكِينَةُ فَوَقَعَتْ فَخِذُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ عَلَى فَخِذِي، فَمَا وَجَدْتُ ثِقَلَ شَىْءٍ أَثْقَلَ مِنْ فَخِذِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ثُمَّ سُرِّيَ عَنْهُ فَقَالَ : «اكْتُبْ» .فَكَتَبْتُ فِي كَتِفٍ : لاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ . إِلَى آخِرِ الآيَةِ، فَقَامَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ - وَكَانَ رَجُلاً أَعْمَى - لَمَّا سَمِعَ فَضِيلَةَ الْمُجَاهِدِينَ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَيْفَ بِمَنْ لاَ يَسْتَطِيعُ الْجِهَادَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فَلَمَّا قَضَى كَلاَمَهُ غَشِيَتْ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ السَّكِينَةُ فَوَقَعَتْ فَخِذُهُ عَلَى فَخِذِي وَوَجَدْتُ مِنْ ثِقَلِهَا فِي الْمَرَّةِ الثَّانِيَةِ كَمَا وَجَدْتُ فِي الْمَرَّةِ الأُولَى ثُمَّ سُرِّيَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ : «اقْرَأْ يَا زَيْدُ» .فَقَرَأْتُ ﴾ لاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ﴾ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ } الآيَةَ كُلَّهَا . قَالَ زَيْدٌ : فَأَنْزَلَهَا اللَّهُ وَحْدَهَا فَأَلْحَقْتُهَا، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى مُلْحَقِهَا عِنْدَ صَدْعٍ فِي كَتِفٍ .

যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) পাশে ছিলাম। এমতাবস্থায় প্রশান্তি ও নীরবতা তাঁকে আচ্ছন্ন করলো। রাসূলুল্লাহর (ﷺ) ঊরু আমার ঊরুর উপর পড়লো। আমি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) ঊরুর চাইতে অধিক ভারি কোন জিনিস অনুভব করিনি। অতঃপর ওহীর প্রভাব কেটে গেলে তিনি বল্‌লেন: লিখ! কাজেই আমি (ছাগলের) কাঁধের (চামড়ার) উপর লিখলাম, “মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে, তারা সম্মানের দিক দিয়ে মুজাহিদগণের সমান নয়।”(সূরা আন-নিসা : আয়াত ৯৫)।ইবনু উম্মু মাকতুম (রাঃ) মুজাহিদদের মর্যাদার কথা শুনে দাঁড়ালেন। তিনি ছিলেন জন্মান্ধ। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মুমিনদের মধ্যে যারা জিহাদ করতে অক্ষম তাদের অবস্থা কি হবে? তিনি কথা শেষ করার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে (ওহী অবতীর্ণের কারণে) প্রশান্তি ও নীরবতা আচ্ছন্ন করে ফেললো। তাঁর ঊরু আমার ঊরুর উপর পতিত হলো। আমি প্রথমবারের মতই দ্বিতীয়বার অনুরূপ ভারি অনুভব করলাম।অতঃপর রাসূলুল্লাহর (ﷺ) উপর থেকে ওহীর প্রভাব কেটে গেলে তিনি বললেনঃ হে যায়িদ! পড়ো। আমি পড়লাম, “মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে, তারা সম্মানের দিক দিয়ে মুজাহিদগণের সমান নয়”। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) “অক্ষমতার ওজর ছাড়াই.....” পুরো আয়াত বলেন। যায়িদ (রাঃ) বলেন, দ্বিতীয়বার মহান আল্লাহ আলাদাভাবে এ অংশটুকু অবতীর্ণ করলেন। আমি নির্দিষ্ট জায়গাতে এটি সংযোজন করে দিলাম। ঐ সত্ত্বার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! হাড়ের ফাটা স্থানে উল্লেখিত অংশটুকু সংযোজন করার দৃশ্য এখনো আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৫০৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে যায়িদ ইবন সাবিত (রাঃ) কুরআনের একটি আয়াত লেখার ঘটনা বর্ণনা করেছেন। প্রথমে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁকে লিখতে বলেন: মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে তারা মুজাহিদদের সমান নয়। তখন ইবন উম্মু মাকতুম (রাঃ), যিনি জন্মান্ধ ছিলেন, প্রশ্ন করেন—যারা জিহাদ করতে অক্ষম তাদের অবস্থা কী হবে? এরপর আবার ওহী নাজিল হয় এবং আয়াতে যোগ হয়: অক্ষমতার ওজর ছাড়া। এই অংশ আলাদা করে নাজিল হওয়া এবং যায়িদ (রাঃ)-এর তা নির্দিষ্ট স্থানে যুক্ত করার ঘটনা এখানে এসেছে। মূল শিক্ষা হলো, আল্লাহর বিধানে অক্ষম মানুষের অবস্থাও বিবেচনায় এসেছে। মুজাহিদের মর্যাদা আছে, আবার প্রকৃত ওজরদার ব্যক্তিকেও আলাদা করা হয়েছে। জিহাদের আয়াত, অক্ষমতার ওজর এবং ওহী লেখার ঘটনা—এসব এই হাদিসের প্রধান বিষয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আল্লাহর বিধানে সত্যিকারের অক্ষমতার ওজর বিবেচিত হয়।
  • মুজাহিদদের মর্যাদা আলাদা হলেও ওজরদারদের অবস্থা আলাদা।
  • ওহী লেখার ক্ষেত্রে সাহাবীরা খুব সতর্ক ছিলেন।
  • প্রশ্ন করার মাধ্যমে শরঈ বিষয় পরিষ্কার হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন