১৫/৩৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৫৩৫ - বাইতুল মাকদিস ও কিয়ামতের নৈকট্য
যে ব্যক্তি সওয়াব ও গনীমাতের আশায় যুদ্ধ করে
বাইতুল মাকদিসে খিলাফত ও কিয়ামতের নিকটতা
সুনানে আবূ দাউদ : ২৫৩৫
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৫৩৫
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي ضَمْرَةُ، أَنَّ ابْنَ زُغْبٍ الإِيَادِيَّ، حَدَّثَهُ قَالَ : نَزَلَ عَلَىَّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حَوَالَةَ الأَزْدِيُّ فَقَالَ لِي : بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِنَغْنَمَ عَلَى أَقْدَامِنَا فَرَجَعْنَا فَلَمْ نَغْنَمْ شَيْئًا وَعَرَفَ الْجُهْدَ فِي وُجُوهِنَا فَقَامَ فِينَا فَقَالَ : " اللَّهُمَّ لاَ تَكِلْهُمْ إِلَىَّ فَأَضْعُفَ عَنْهُمْ، وَلاَ تَكِلْهُمْ إِلَى أَنْفُسِهِمْ فَيَعْجِزُوا عَنْهَا، وَلاَ تَكِلْهُمْ إِلَى النَّاسِ فَيَسْتَأْثِرُوا عَلَيْهِمْ». ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ عَلَى رَأْسِي - أَوْ قَالَ : عَلَى هَامَتِي - ثُمَّ قَالَ : «يَا ابْنَ حَوَالَةَ إِذَا رَأَيْتَ الْخِلاَفَةَ قَدْ نَزَلَتْ أَرْضَ الْمُقَدَّسَةِ فَقَدْ دَنَتِ الزَّلاَزِلُ وَالْبَلاَبِلُ وَالأُمُورُ الْعِظَامُ، وَالسَّاعَةُ يَوْمَئِذٍ أَقْرَبُ مِنَ النَّاسِ مِنْ يَدِي هَذِهِ مِنْ رَأْسِكَ».قَالَ أَبُو دَاوُدَ : عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حَوَالَةَ حِمْصِيٌّ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু হাওয়ালা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা ‘আবদুল্লাহ ইবনু হাওয়ালা আল-আযদী (রাঃ) আমার মেহমান হলেন। তিনি আমাকে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি পদাতিক বাহিনীকে গনীমাতের লাভের উদ্দেশ্যে যুদ্ধে প্রেরণ করলেন। আমরা ফিরে এলাম, অথচ কোন গনীমাত পেলাম না। তিনি আমাদের চেহারায় ক্লান্তির ছাপ লক্ষ্য করলেন। তিনি আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেন, “হে আল্লাহ্! তাদের ক্লান্তি দূর করতে তাদেরকে আমার দিকে সোপর্দ করো না। এবং তাদেরকে তাদের দিকেও সোপর্দ করো না, তাহলে লোকেরা তাদের উপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে”।(ইবনু হাওয়ালা (রাঃ) বলেন), এরপর তিনি আমার মাথা বা মাথার তালুতে হাত রেখে বললেন, হে ইবনু হাওয়ালা! যখন তুমি দেখবে যে, বাইতুল মাকদিসে (সিরিয়ার) ভূমিতে খিলাফাত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তখন মনে করবে অধিক ভূমিকম্প, বিপদ-আপদ, মহা দুর্ঘটনা ও পেরেশানী সন্নিকটে। কেয়ামত তখন মানুষের এতই নিকটবর্তী হবে, যেমন আমার এ হাত তোমার মাথার যত নিকটে রয়েছে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৫৩৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুটি অংশ আছে। প্রথমে এক পদাতিক বাহিনীর কথা এসেছে, যারা গনীমাতের আশায় যায় কিন্তু কিছু পায় না। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাদের ক্লান্তি দেখে দোয়া করেন, আল্লাহ যেন তাদেরকে তাঁর দিকে, নিজেদের দিকে বা মানুষের দিকে এমনভাবে সোপর্দ না করেন যাতে তারা দুর্বল, অক্ষম বা অন্যের প্রভাবের শিকার হয়। এরপর তিনি ইবন হাওয়ালা (রাঃ)-এর মাথায় হাত রেখে বলেন, যখন বাইতুল মাকদিসের ভূমিতে খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হতে দেখবে, তখন ভূমিকম্প, বিপদ-আপদ, বড় ঘটনা ও পেরেশানী নিকটবর্তী মনে করবে। তখন কিয়ামত মানুষের এত নিকট হবে, যেমন তাঁর হাত মাথার কাছে। এখানে মূল বিষয় “কিয়ামতের আলামত”। ব্যাখ্যায় সতর্ক থাকা দরকার; হাদিসে যতটুকু বলা হয়েছে, ততটুকুই উল্লেখ করা নিরাপদ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ক্লান্ত ও দুর্বল সাথীদের জন্য রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم দোয়া করেছেন।
- মানুষ নিজের শক্তির ওপর একা নির্ভরশীল নয়—আল্লাহর সাহায্য দরকার।
- বাইতুল মাকদিস সম্পর্কিত একটি বড় আলামতের কথা হাদিসে এসেছে।
- কিয়ামতের নৈকট্য নিয়ে সতর্ক থাকার শিক্ষা পাওয়া যায়।
