১/১০৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৫৮ - হায়েয অবস্থায় স্ত্রীর সাথে আচরণ
ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে একত্রে আহার ও মেলামেশা করা
হায়েয অবস্থায় স্ত্রীর সাথে আচরণ: সহবাস ছাড়া সব কাজ
সুনানে আবূ দাউদ : ২৫৮
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৫৮
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ الْيَهُودَ، كَانَتْ إِذَا حَاضَتْ مِنْهُمُ امْرَأَةٌ أَخْرَجُوهَا مِنَ الْبَيْتِ وَلَمْ يُؤَاكِلُوهَا وَلَمْ يُشَارِبُوهَا وَلَمْ يُجَامِعُوهَا فِي الْبَيْتِ فَسُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ ﴾ وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ ﴿ إِلَى آخِرِ الآيَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " جَامِعُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ وَاصْنَعُوا كُلَّ شَىْءٍ غَيْرَ النِّكَاحِ " .فَقَالَتِ الْيَهُودُ مَا يُرِيدُ هَذَا الرَّجُلُ أَنْ يَدَعَ شَيْئًا مِنْ أَمْرِنَا إِلاَّ خَالَفَنَا فِيهِ. فَجَاءَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ وَعَبَّادُ بْنُ بِشْرٍ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالاَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْيَهُودَ تَقُولُ كَذَا وَكَذَا أَفَلاَ نَنْكِحُهُنَّ فِي الْمَحِيضِ فَتَمَعَّرَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ حَتَّى ظَنَنَّا أَنْ قَدْ وَجَدَ عَلَيْهِمَا فَخَرَجَا فَاسْتَقْبَلَتْهُمَا هَدِيَّةٌ مِنْ لَبَنٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَبَعَثَ فِي آثَارِهِمَا فَسَقَاهُمَا فَظَنَنَّا أَنَّهُ لَمْ يَجِدْ عَلَيْهِمَا.
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইয়াহূদীদের নিয়ম ছিল, তাদের নারীদের মাসিক ঋতু আরম্ভ হলে তারা তাকে ঘর থেকে বের করে দিত। তারা তার সাথে আহার করত না এবং এক ঘরে বসবাসও করত না।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে মহান আল্লাহ এ প্রসঙ্গে নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ "তারা তোমাকে হায়িয সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে? তুমি বল, তা অপবিত্র। কাজেই তোমরা হায়িয চলাকালে সহবাস বর্জন করবে এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত সঙ্গম করবে না। তারা যখন পবিত্র হবে তখন তোমরা তাদের নিকট ঠিক সেভাবে যাও যেভাবে (পূর্বে) যেতে, আল্লাহ তোমাদের আদেশ করেছেন। যারা পাপ কাজ হতে বিরত থাকে ও পবিত্রতা অবলম্বন করে আল্লাহ তাদের ভালবাসেন।"- (সূরা বাক্বারাহঃ ২২২)।অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা তাদের সাথে (তাদের হায়িয অবস্থায়) একই ঘরে অবস্থান ও অন্যান্য কাজ করতে পার শুধু সহবাস ছাড়া। এ কথা শুনে ইয়াহূদীরা বলল, এ লোক (মুহাম্মাদ) তো প্রতিটি কাজেই আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করতে চায়। উসাইদ ইবনু হুদায়ির এবং 'আব্বাদ ইবনু বিশর নবী (ﷺ) -এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! ইয়াহূদীরা এরূপ এরূপ বলেছে। তবে কি ঋতু অবস্থায় আমরা তাদের সাথে সহবাস করব না? এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল, এমনকি আমরা মনে করলাম, তিনি হয়ত তাঁদের উপর ক্রোধান্বিত হয়েছেন।এরপর তাঁরা সেখান থেকে চলে গিয়ে (জনৈক সাহাবীর মাধ্যমে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট দুধ হাদিয়া পাঠালেন। তিনি তাদের ডেকে দুধ পান করালেন। তখন আমরা বুঝলাম তাদের উপর তাঁর কোন রাগ নেই।
হায়িয, নিফাস ও ইস্তিহাযা পরিচিতিঃ হায়িযঃ হায়িযের আভিধানিক অর্থঃ কোন তরল পদার্থ প্রবাহিত হওয়া। শারী'আতের পরিভাষায় হায়িয হচ্ছেঃ কোন প্রকার আঘাত, রোগ এবং প্রসবজনিত কোন কারণ ছাড়া মহিলাদের নির্দিষ্ট সময়ে স্বাভাবিক রক্তস্রাব হওয়া। নিফাস (প্রসবোত্তর রক্তস্রাব): এটা ঐ রক্তস্রাব, যা প্রসবজনিত কারণে প্রসবকালে বা পরে নির্গত হয়ে থাকে। এর সর্বোচ্চ সময়সীমা ৪০ দিন। ইস্তিহাযা (অনিয়মিত রক্তস্রাব): এটা হচ্ছে মহিলাদের বিরতিহীনভাবে রক্তস্রাব অথবা সামান্য সময় বিরতি দিয়ে রক্তস্রাব। কোন মহিলার স্বীয় হায়িয ও নিফাসের গণনাকৃত নির্দিষ্ট দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও যে রক্তস্রাব হয়, তাই ইস্তিহাযা বা রক্তপ্রদর রোগ।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৫৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হায়েয অবস্থায় নারীর সাথে আচরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এসেছে। বর্ণনায় বলা হয়েছে, ইয়াহুদীদের মধ্যে নারীর মাসিক শুরু হলে তাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হতো, তার সাথে খাওয়া হতো না এবং এক ঘরে থাকা হতো না। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে সূরা বাকারা ২২২ আয়াত নাজিল হয়। এরপর তিনি বলেন, হায়েয অবস্থায় তাদের সাথে একই ঘরে অবস্থান ও অন্যান্য কাজ করা যাবে, শুধু সহবাস ছাড়া। পরে দুই সাহাবী এ বিষয়ে কথা বললে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর চেহারা বদলে যায়; তবে পরে তিনি তাঁদের দুধ পান করান, ফলে বোঝা যায় রাগ রয়ে যায়নি। এই হাদিসে হায়েয অবস্থায় অতিরিক্ত দূরত্ব নয়, বরং সহবাস বর্জনসহ স্বাভাবিক আচরণের শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়েয অবস্থায় স্ত্রীকে ঘর থেকে আলাদা করে দেওয়ার কথা ইসলামে বলা হয়নি।
- একসাথে থাকা, খাওয়া ও সাধারণ কাজ করার অনুমতি এসেছে।
- হায়েয চলাকালে সহবাস বর্জনের নির্দেশ স্পষ্ট।
- প্রশ্নের জবাবে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ শিখিয়েছেন।
