১৫/১৬৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৭৬১ - দূতের নিরাপত্তা ও ইসলামী নীতি
দূত সম্পর্কে
দূতের নিরাপত্তা: ইসলামী নীতির স্পষ্ট শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ২৭৬১
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৭৬১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ، - يَعْنِي ابْنَ الْفَضْلِ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ كَانَ مُسَيْلِمَةُ كَتَبَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ. قَالَ وَقَدْ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنْ شَيْخٍ مِنْ أَشْجَعَ يُقَالُ لَهُ سَعْدُ بْنُ طَارِقٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ نُعَيْمِ بْنِ مَسْعُودٍ الأَشْجَعِيِّ عَنْ أَبِيهِ نُعَيْمٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ لَهُمَا حِينَ قَرَآ كِتَابَ مُسَيْلِمَةَ " مَا تَقُولاَنِ أَنْتُمَا " قَالاَ نَقُولُ كَمَا قَالَ. قَالَ " أَمَا وَاللَّهِ لَوْلاَ أَنَّ الرُّسُلَ لاَ تُقْتَلُ لَضَرَبْتُ أَعْنَاقَكُمَا " .
নু‘আইম ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মুসাইলামা (ভণ্ডনবী) চিঠি লিখেন। অতঃপর চিঠি পড়া হলে তার উভয় দূতকে লক্ষ্য করে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি: এ লোক সম্পর্কে তোমরা কি বলো? তারা বললো, আমরা তা-ই বলি যা সে বলে (অর্থাৎ তার নবুওয়াতের দাবী মানি)। নবী (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহর শপথ! দূত হত্যা করা নিষিদ্ধ না হলে আমি তোমাদের উভয়ের গর্দান উড়িয়ে দিতাম।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৭৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুসাইলিমা নামে ভণ্ড নবীর চিঠি এবং তার দুই দূতের ঘটনা এসেছে। তারা নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে প্রকাশ্যে বলে যে, তারা মুসাইলিমার দাবিই মানে। কথাটি ছিল গুরুতর, কারণ এতে মিথ্যা নবুওয়াতের সমর্থন ছিল। তবুও রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাদের হত্যা করেননি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দূত হত্যা করা নিষিদ্ধ না হলে তিনি তাদের শাস্তি দিতেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ইসলামে দূতের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি। শত্রুপক্ষের দূত হলেও শুধু বার্তা বহন করার কারণে তাকে হত্যা করা যাবে না। এই হাদিস কূটনৈতিক নিরাপত্তা, দূতের অধিকার এবং ইসলামী যুদ্ধনীতির একটি স্পষ্ট দলিল হিসেবে বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দূত বা বার্তাবাহকের নিরাপত্তা ইসলামে স্বীকৃত একটি নীতি।
- ভুল বক্তব্য বহন করলেও দূতকে শুধু দূত হওয়ার কারণে হত্যা করা যায় না।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) কঠিন পরিস্থিতিতেও নিয়ম ও ন্যায় বজায় রেখেছেন।
- ভণ্ড নবুওয়াতের দাবি কঠিন অপরাধ হলেও বিচার ও নীতির সীমা মানা জরুরি।
