১৫/১৬৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৭৬২ - ইবনু নাওয়াহা ও দূতের বিধান
দূত সম্পর্কে
ইবনু নাওয়াহার ঘটনা ও দূতের বিধান
সুনানে আবূ দাউদ : ২৭৬২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৭৬২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ حَارِثَةَ بْنِ مُضَرِّبٍ، أَنَّهُ أَتَى عَبْدَ اللَّهِ فَقَالَ مَا بَيْنِي وَبَيْنَ أَحَدٍ مِنَ الْعَرَبِ حِنَةٌ وَإِنِّي مَرَرْتُ بِمَسْجِدٍ لِبَنِي حَنِيفَةَ فَإِذَا هُمْ يُؤْمِنُونَ بِمُسَيْلِمَةَ .فَأَرْسَلَ إِلَيْهِمْ عَبْدُ اللَّهِ فَجِيءَ بِهِمْ فَاسْتَتَابَهُمْ غَيْرَ ابْنِ النَّوَّاحَةِ قَالَ لَهُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " لَوْلاَ أَنَّكَ رَسُولٌ لَضَرَبْتُ عُنُقَكَ " . فَأَنْتَ الْيَوْمَ لَسْتَ بِرَسُولٍ فَأَمَرَ قَرَظَةَ بْنَ كَعْبٍ فَضَرَبَ عُنُقَهُ فِي السُّوقِ ثُمَّ قَالَ مَنْ أَرَادَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى ابْنِ النَّوَّاحَةِ قَتِيلاً بِالسُّوقِ .
হারিসাহ ইবনু মুদাররিব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদের (রাঃ) কাছে এসে বললেন, আরববাসীর কারো সাথেই আমার কোন শত্রুতা নাই। কিন্তু আমি বনূ হানীফার মসজিদে যাওয়ার সময় দেখলাম, এ গোত্রের লোকেরা (ভণ্ডনবী) মুসাইলামার প্রতি ঈমান এনেছে। তখন ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) তাদেরকে ডেকে আনতে লোক পাঠালেন। সে তাদেরকে নিয়ে আসলে ইবনুন নাওয়াহা ব্যতীত সকলকে তিনি তাওবাহ করতে বললেন। তিনি তাদের বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি : তুমি দূত না হলে আমি তোমার গর্দান বিচ্ছিন্ন করে দিতাম। (‘আবদুল্লাহ রা. বলেন) তুমি তো আজ দূত নও।অতঃপর তিনি তাকে হত্যা করতে কারাযাহ ইবনু কা’বকে নির্দেশ দেন। তিনি তাকে বাজারে নিয়ে গিয়ে (জনসম্মুখে) হত্যা করলেন। অতঃপর তিনি (‘আবদুল্লাহ অথবা কারাযাহ) বললেন, যে ব্যক্তি ইবনুন নাওয়াহাকে দেখতে চায়, সে যেন বাজারে এসে তার লাশ দেখে যায়।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৭৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বনী হানিফার কিছু লোকের মুসাইলিমার প্রতি ঈমান আনার ঘটনা এসেছে। বিষয়টি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর কাছে জানানো হলে তিনি তাদের ডেকে আনেন এবং ইবনু নাওয়াহা ছাড়া অন্যদের তাওবা করতে বলেন। ইবনু নাওয়াহার ব্যাপারে তিনি নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর আগের কথা স্মরণ করান—তুমি যদি দূত না হতে, তোমার গর্দান বিচ্ছিন্ন করা হতো। এরপর বলেন, আজ তুমি আর দূত নও। এখানে দূত হত্যা নিষিদ্ধ নীতি আবারও স্পষ্ট হয়েছে। তবে দূত হওয়ার নিরাপত্তা তার দূত থাকা অবস্থার সঙ্গে যুক্ত। হাদিসটি দেখায়, ইসলামী বিচারনীতি শুধু আবেগ দিয়ে নয়, অবস্থা, দায়িত্ব ও পূর্বের বক্তব্য বিবেচনা করে চলে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দূত থাকা অবস্থায় বিশেষ নিরাপত্তা থাকে, তবে তা সব অবস্থায় একইভাবে থাকে না।
- মিথ্যা নবুওয়াতের সমর্থন গুরুতর বিষয় হিসেবে দেখা হয়েছে।
- আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) নবীজির কথাকে বিচার সিদ্ধান্তে গুরুত্ব দিয়েছেন।
- ইসলামে তাওবার সুযোগ ও দায়বদ্ধতা—দুটিই গুরুত্ব পায়।
