১৬/৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮০৩ - কুরবানির পশুর দোষ ও সন্দেহ
যে ধরনের পশু কুরবানীর উপযুক্ত নয়
কুরবানির পশুর দোষ নিয়ে সন্দেহ হলে করণীয়
সুনানে আবূ দাউদ : ২৮০৩
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৮০৩
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، قَالَ أَخْبَرَنَا ح، وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ بَحْرِ بْنِ بَرِّيٍّ، حَدَّثَنَا عِيسَى، - الْمَعْنَى - عَنْ ثَوْرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو حُمَيْدٍ الرُّعَيْنِيُّ، أَخْبَرَنِي يَزِيدُ، ذُو مِصْرٍ قَالَ أَتَيْتُ عُتْبَةَ بْنَ عَبْدٍ السُّلَمِيَّ فَقُلْتُ يَا أَبَا الْوَلِيدِ إِنِّي خَرَجْتُ أَلْتَمِسُ الضَّحَايَا فَلَمْ أَجِدْ شَيْئًا يُعْجِبُنِي غَيْرَ ثَرْمَاءَ فَكَرِهْتُهَا فَمَا تَقُولُ قَالَ أَفَلاَ جِئْتَنِي بِهَا . قُلْتُ سُبْحَانَ اللَّهِ تَجُوزُ عَنْكَ وَلاَ تَجُوزُ عَنِّي قَالَ نَعَمْ إِنَّكَ تَشُكُّ وَلاَ أَشُكُّ إِنَّمَا نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنِ الْمُصْفَرَّةِ وَالْمُسْتَأْصَلَةِ وَالْبَخْقَاءِ وَالْمُشَيَّعَةِ وَالْكَسْرَاءِ فَالْمُصْفَرَّةُ الَّتِي تُسْتَأْصَلُ أُذُنُهَا حَتَّى يَبْدُوَ سِمَاخُهَا وَالْمُسْتَأْصَلَةُ الَّتِي اسْتُؤْصِلَ قَرْنُهَا مِنْ أَصْلِهِ وَالْبَخْقَاءُ الَّتِي تَبْخَقُ عَيْنُهَا وَالْمُشَيَّعَةُ الَّتِي لاَ تَتْبَعُ الْغَنَمَ عَجْفًا وَضَعْفًا وَالْكَسْرَاءُ الْكَسِيرَةُ .
ইয়াযীদ মিসরী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ‘উতবাহ ইবনু আব্দ আস-সুলামীর নিকট এসে বলি, হে ওয়ালীদের পিতা! আমি কুরবানীর পশুর খোঁজে বের হই, কিন্তু কোন পশুই পছন্দ হয়নি। একটি বকরী পছন্দ হয়েছিল, তার একটি দাঁত না থাকায়, সেটাও বাদ দিয়েছি। এখন এ বিষয়ে আপনি আমাকে পরামর্শ দিন।‘উতবাহ বলেন, তুমি আমার কাছে সেটা নিয়ে আসোনি কেন? আমি বলি, সুবহানাল্লাহ! দাঁতপড়া পশু কুরবানী আপনার জন্য বৈধ, অথচ আমার জন্য বৈধ নয়! তিনি বললেন, হাঁ। তুমি সন্দিহান হয়েছো কিন্তু আমি সন্দিহান হইনি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কানকাটা, শিংবিহীন, অন্ধ, দুর্বল এবং পা ভাঙ্গা পশু কুরবানী করতে নিষেধ করেছেন। মুসফারা হচ্ছে ঐ পশু যার কানকাটার ছিদ্র স্পষ্ট দেখা যায়। মুস্তাসালা হলো ঐ পশু যার শিং গোড়া থেকে ভেঙ্গে গেছে। যাখকা হলো, যে পশুর দৃষ্টিশক্তি লোপ পেয়েছে। মুশায়্যি’আহ হলো, যে পশু দুর্বলতার কারণে মেষের সাথে সাথে চলতেও অক্ষম। কাসরা হলো ঐ পশু যার পা ভাঙ্গা।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুরবানির পশু বাছাইয়ের সময় সতর্কতার একটি সুন্দর দিক দেখা যায়। বর্ণনাকারী একটি দাঁত পড়ে যাওয়া বকরী পছন্দ করেছিলেন, কিন্তু সন্দেহের কারণে তা বাদ দেন। উতবা ইবন আব্দ সুলামী (রাঃ) তাকে বলেন, তুমি সন্দিহান হয়েছ, কিন্তু আমি সন্দিহান হইনি। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নিষেধ করা কিছু দোষযুক্ত পশুর কথা বলেন—কানকাটা, গোড়া থেকে শিং ভাঙা, দৃষ্টিশক্তি হারানো, দুর্বলতার কারণে দলে চলতে অক্ষম, এবং পা ভাঙা পশু। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, কুরবানির পশুর বড় ও স্পষ্ট দোষ এড়িয়ে চলা উচিত। একই সঙ্গে সন্দেহ হলে সতর্ক থাকা ভালো। তবে শুধু সন্দেহের কারণে সব বিষয়ে অতিরিক্ত কঠোরতা তৈরি করাও ঠিক নয়। কুরবানির পশুর দোষ, কানকাটা পশু, শিংভাঙা পশু এবং দুর্বল পশুর বিধান এখানে মূল বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরবানির পশুর বড় ও স্পষ্ট দোষ এড়িয়ে চলা উচিত।
- সন্দেহ হলে সতর্ক থাকা ভালো, তবে দলিল ছাড়া কঠোরতা বাড়ানো ঠিক নয়।
- কান, শিং, চোখ, শক্তি ও পায়ের অবস্থা দেখে পশু নির্বাচন করা উচিত।
- দুর্বলতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলতে না পারা পশু কুরবানির জন্য উপযুক্ত নয়।
