১৬/৬. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮০২ - দোষযুক্ত পশু কুরবানির বিধান

যে ধরনের পশু কুরবানীর উপযুক্ত নয়

দোষযুক্ত পশু কুরবানি করা যাবে কি

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৮০২

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ فَيْرُوزَ، قَالَ سَأَلْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ مَا لاَ يَجُوزُ فِي الأَضَاحِي فَقَالَ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَأَصَابِعِي أَقْصَرُ مِنْ أَصَابِعِهِ وَأَنَامِلِي أَقْصَرُ مِنْ أَنَامِلِهِ فَقَالَ «أَرْبَعٌ لاَ تَجُوزُ فِي الأَضَاحِي الْعَوْرَاءُ بَيِّنٌ عَوَرُهَا وَالْمَرِيضَةُ بَيِّنٌ مَرَضُهَا وَالْعَرْجَاءُ بَيِّنٌ ظَلْعُهَا وَالْكَسِيرُ الَّتِي لاَ تَنْقَى» .قَالَ قُلْتُ فَإِنِّي أَكْرَهُ أَنْ يَكُونَ فِي السِّنِّ نَقْصٌ . قَالَ «مَا كَرِهْتَ فَدَعْهُ وَلاَ تُحَرِّمْهُ عَلَى أَحَدٍ» . قَالَ أَبُو دَاوُدَ لَيْسَ لَهَا مُخٌّ .

‘উবাইদ ইবনু ফাইরূয (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি আল-বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করি, কোন ধরনের পশু কুরবানী করা জায়েজ নয়? তিনি বললেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে দাঁড়ান। আমার আঙ্গুলগুলো তাঁর আঙ্গুলের চেয়ে তুচ্ছ এবং আমার আঙ্গুলের গিরাগুলোও তাঁর আঙ্গুলের গিরার চেয়ে তুচ্ছ। তিনি আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে বললেনঃ চার ধরনের দোষযুক্ত পশু কুরবানী করা জায়েজ নয়। অন্ধ-যার অন্ধত্ব সুস্পষ্ট, রুগ্ন-যার রোগ সুস্পষ্ট, খোঁড়া-যার খোঁড়ামী সুস্পষ্ট, বৃদ্ধ ও দুর্বল-যার হাড়ের মজ্জা শুকিয়ে গেছে।‘উবাইদ (রহঃ) বলেন, আমি বলি, বয়সের কোন দোষ থাকাও আমি অপছন্দ করি। আল-বারাআ (রাঃ) বলেন, তুমি যা অপছন্দ করো তা বর্জন করবে, তবে অন্যের জন্য তা নিষিদ্ধ করবে না। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এমন দুর্বল যে, তার হাড়ের মজ্জা নাই।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮০২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে কুরবানির পশুর মান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা এসেছে। আল-বারা ইবনু আজিব (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বর্ণিত চার ধরনের পশুর কথা বলেন, যেগুলো কুরবানির জন্য জায়েয নয়। এগুলো হলো—স্পষ্ট অন্ধ, স্পষ্ট রোগাক্রান্ত, স্পষ্ট খোঁড়া এবং এমন দুর্বল পশু যার হাড়ের মজ্জা শুকিয়ে গেছে। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, দোষটি স্পষ্ট হওয়া জরুরি বলা হয়েছে। কুরবানির পশু বাছাই করার সময় চোখ, স্বাস্থ্য, চলাফেরা এবং শক্তি ভালোভাবে দেখা উচিত। একই সঙ্গে আল-বারা (রাঃ)-এর কথায় ভারসাম্যও আছে—কেউ কোনো দোষ অপছন্দ করলে নিজে তা বাদ দিতে পারে, কিন্তু সেটিকে সবার জন্য হারাম বলে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। তাই কুরবানির পশুর দোষ, কুরবানির যোগ্য পশু এবং সতর্কতা—এই হাদিসের মূল বিষয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • স্পষ্ট অন্ধ, রোগাক্রান্ত, খোঁড়া ও খুব দুর্বল পশু কুরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
  • কুরবানির পশু কেনার আগে তার চোখ, স্বাস্থ্য ও হাঁটা-চলা দেখা উচিত।
  • ব্যক্তিগত অপছন্দকে সবার জন্য নিষেধাজ্ঞা বানানো ঠিক নয়।
  • ইবাদতের ক্ষেত্রে স্পষ্ট দলিল ও সতর্কতা দুটিই গুরুত্ব রাখে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন