১৬/২০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮৩০ - আতীরাহ ও ফারাআর শিক্ষা
আতীরাহ বা রজব মাসের কুরবানী
আতীরাহ ও ফারাআ: আল্লাহর নামে দান ও যবেহ
সুনানে আবূ দাউদ : ২৮৩০
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৮৩০
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، ح وَحَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ بِشْرِ بْنِ الْمُفَضَّلِ، - الْمَعْنَى - حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، قَالَ قَالَ نُبَيْشَةُ نَادَى رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ إِنَّا كُنَّا نَعْتِرُ عَتِيرَةً فِي الْجَاهِلِيَّةِ فِي رَجَبٍ فَمَا تَأْمُرُنَا قَالَ «اذْبَحُوا لِلَّهِ فِي أَىِّ شَهْرٍ كَانَ وَبَرُّوا اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَأَطْعِمُوا» . قَالَ إِنَّا كُنَّا نُفْرِعُ فَرَعًا فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَمَا تَأْمُرُنَا قَالَ " فِي كُلِّ سَائِمَةٍ فَرَعٌ تَغْذُوهُ مَاشِيَتُكَ حَتَّى إِذَا اسْتَحْمَلَ» . قَالَ نَصْرٌ «اسْتَحْمَلَ لِلْحَجِيجِ ذَبَحْتَهُ فَتَصَدَّقْتَ بِلَحْمِهِ» . قَالَ خَالِدٌ أَحْسَبُهُ قَالَ «عَلَى ابْنِ السَّبِيلِ فَإِنَّ ذَلِكَ خَيْرٌ» . قَالَ خَالِدٌ قُلْتُ لأَبِي قِلاَبَةَ كَمِ السَّائِمَةُ قَالَ مِائَةٌ .
আবুল মালীহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নুবাইশাহ (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে উচ্চস্বরে বললো, আমরা জাহিলী যুগে রজব মাসে ‘আতীরাহ করতাম। এখন এ বিষয়ে আপনি আমাদের কি নির্দেশ দেন? তিনি বললেন, আল্লাহর নামে যে কোন মাসেই যাবাহ করতে পারো, আল্লাহর আনুগত্য করো ও অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দাও। নুবাইশাহ (রাঃ) বলেন, লোকটি আবার বললো, আমরা জাহিলী যুগ ফারা’আ করতাম, এখন এ বিষয়ে আপনি আমাদের কি আদেশ দেন? তিনি বললেন, প্রত্যেক বিচরণকারী পশুতে ফারা’আ রয়েছে। তোমরা তোমাদের পশুদেরকে খাদ্য দিয়ে থাকো। এমনকি তাবোঝা বহনের উপযোগী হয়। বর্ণনাকারী নাসর (রহঃ) বলেন, হজ্জীদের বহনের উপযোগী হলে একে যাবাহ করে তার গোশত তুমি সদাক্বাহ করবে। খালিদ (রহঃ) বলেন, আমার ধারণা, আবূ ক্বিলাবাহ মুসাফিরের জন্য সদাক্বাহ করতে বলেছেন। কেননা এটাই উত্তম। খালিদ (রহঃ) বলেন, আমি আবূ ক্বিবালাহকে বলি, কয়টি বিচরণকারী পশুতে একটি ফারা’আ? তিনি বললেন, একশোটি।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাহিলি যুগে প্রচলিত দুটি কাজ—আতীরাহ ও ফারাআ—সম্পর্কে প্রশ্ন এসেছে। একজন লোক জিজ্ঞাসা করেন, তারা রজব মাসে আতীরাহ করতেন, এখন কী করবেন? রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, আল্লাহর নামে যে কোনো মাসেই যবেহ করতে পারো, আল্লাহর আনুগত্য করো এবং অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দাও। এরপর ফারাআ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে বিচরণকারী পশুর প্রথম বাচ্চা লালন-পালন করে উপযোগী হলে যবেহ করে তার গোশত সদাকা করার কথা বর্ণনায় এসেছে। এখানে মূল দিক হলো, যবেহ যেন আল্লাহর নামে হয় এবং তা দান ও খাদ্য দেওয়ার কাজে আসে। বর্ণনার শেষে সংখ্যার বিষয়ে আবু কিলাবার বক্তব্যও এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যবেহ আল্লাহর নামে হওয়া উচিত, জাহিলি রীতির নামে নয়।
- অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দেওয়া এই বর্ণনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
- দান করার আগে পশুকে লালন-পালন করে উপযোগী করার কথা এসেছে।
- ইবাদত ও দানের কাজে নিয়ত পরিষ্কার রাখা দরকার।
