১৮/১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮৬২ - ওসিয়তনামা লিখে রাখার গুরুত্ব
(সম্পদশালীর) ওসিয়াত সম্পর্কে
ওসিয়তনামা লিখে রাখার ইসলামী শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ২৮৬২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৮৬২
حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ عُمَرَ - عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ " مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَهُ شَىْءٌ يُوصِي فِيهِ يَبِيتُ لَيْلَتَيْنِ إِلاَّ وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ ".
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কোন মুসলিমের কাছে ওসিয়াত করার মত সম্পদ থাকলে, তার নিজের কাছে ওসিয়াতনামা না লিখে রেখে দুই রাতও অতিবাহিত করার অধিকার তার নেই।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ওসিয়তনামা লিখে রাখার গুরুত্ব খুব স্পষ্টভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কোনো মুসলিমের কাছে যদি এমন সম্পদ থাকে, যা নিয়ে ওসিয়ত করার প্রয়োজন আছে, তাহলে তার উচিত নয় যে দুই রাতও ওসিয়তনামা লিখে না রেখে কাটিয়ে দেয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, মানুষের মৃত্যু কখন আসবে তা জানা নেই। তাই সম্পদ, দায়িত্ব, হক ও পাওনা নিয়ে অস্পষ্টতা রেখে যাওয়া ঠিক নয়। ওসিয়ত করার বিধান মানুষের পরিবার, আত্মীয় ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ঝামেলা কমাতে সাহায্য করে। এই হাদিস ওসিয়তনামা, সম্পদের হক এবং মৃত্যুর আগে প্রস্তুতি—এসব বিষয়ে একজন মুসলিমকে সচেতন করে। তবে ওসিয়ত অবশ্যই শরীয়তের সীমার ভেতরে হতে হবে, যা অন্য হাদিসে আরও পরিষ্কারভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওসিয়ত করার মতো বিষয় থাকলে তা লিখে রাখা দায়িত্বশীল কাজ।
- মৃত্যুর আগে সম্পদ ও হকের বিষয় পরিষ্কার রাখা উচিত।
- ওসিয়তনামা পরিবারে পরবর্তী জটিলতা কমাতে পারে।
- ওসিয়ত শরীয়তের সীমা মেনে করা দরকার।
