১৮/৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮৭১ - ইয়াতিমের সম্পদ ব্যবহারের আদব
ইয়াতীমের খাদ্যের সাথে নিজের খাদ্য মিশ্রণ করা
ইয়াতিমের সম্পদ ও খাবার একসঙ্গে রাখার বিধান
সুনানে আবূ দাউদ : ২৮৭১
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৮৭১
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ﴾ وَلاَ تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلاَّ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ ﴿ وَ { إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا ﴿ الآيَةَ انْطَلَقَ مَنْ كَانَ عِنْدَهُ يَتِيمٌ فَعَزَلَ طَعَامَهُ مِنْ طَعَامِهِ وَشَرَابَهُ مِنْ شَرَابِهِ فَجَعَلَ يَفْضُلُ مِنْ طَعَامِهِ فَيُحْبَسُ لَهُ حَتَّى يَأْكُلَهُ أَوْ يَفْسُدَ فَاشْتَدَّ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ فَذَكَرُوا ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ﴾ وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْيَتَامَى قُلْ إِصْلاَحٌ لَهُمْ خَيْرٌ وَإِنْ تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ ﴿ فَخَلَطُوا طَعَامَهُمْ بِطَعَامِهِ وَشَرَابَهُمْ بِشَرَابِهِ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মহান আল্লাহ যখন এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “ইয়াতীমের সম্পদের নিকটবর্তী হয়ো না। কিন্তু উত্তম পন্থায়, যতদিন না সে তার যৌবনে পদার্পণ করে” (সূরা ইসরাঃ ৩৪) এবং “যারা ইয়াতীমের সম্পদ অন্যায়ভাবে খায়, তারা মূলত আগুন দিয়েই নিজেদের পেট বোঝাই করে এবং তারা অবশ্যই জাহান্নামের উত্তপ্ত আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে” (সূরা আন-নিসাঃ ১০)।তখন যাদের কাছে ইয়াতীম ছিল তারা নিজেদের খাদ্য হতে ইয়াতীমের খাদ্য এবং নিজেদের পানীয় হতে ইয়াতীমের পানীয় আলাদা করে ফেললো। ফলে ইয়াতীমের উদ্বৃত্ত খাদ্য রেখে দেয়া হতো, সে হয় পরে তা খেতো নতুবা তা নষ্ট হতো। অভিভাবকদের কাছে বিষয়টি কঠিন মনে হলো। তারা বিষয়টি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) এর কাছে উপস্থাপন করলো।অতঃপর মহান আল্লাহ তা’আলা আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “তোমাকে তারা জিজ্ঞেস করছে ইয়াতীমদের সম্পর্কে। বলো, তাদের সাথে উত্তম পন্থা অবলম্বন করাই শ্রেয়। যদিও তোমাদের ও তাদের খরচপত্র ও থাকা খাওয়া একত্র রাখা দোষণীয় নয়। কেননা তারা তোমাদেরই ভাই” (সূরা আল-বাক্বারাহঃ ২২০)।অতঃপর তারা নিজেদের পানাহার তাদের পানাহারের সাথে একত্র করলো।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮৭১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইয়াতিমের সম্পদ নিয়ে সাহাবীদের সতর্কতা ও পরে সহজ বিধানের কথা এসেছে। যখন ইয়াতিমের সম্পদের কাছে না যাওয়ার এবং অন্যায়ভাবে ইয়াতিমের সম্পদ খাওয়ার ভয়াবহতা সম্পর্কিত আয়াত নাজিল হলো, তখন যাদের কাছে ইয়াতিম ছিল তারা নিজেদের খাবার-পানীয় থেকে ইয়াতিমের খাবার-পানীয় আলাদা করে ফেললেন। এতে অনেক সময় খাবার বেঁচে থাকত, পরে তা নষ্ট হয়ে যেত। বিষয়টি তাদের জন্য কঠিন হয়ে গেল। তারা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বিষয়টি বললে আল্লাহ আয়াত নাজিল করেন—ইয়াতিমদের জন্য সংশোধন ও কল্যাণ করাই ভালো, আর তাদের সঙ্গে মিশে থাকলে তারা তোমাদের ভাই। এরপর তারা নিজেদের খাবার-পানীয় তাদের সঙ্গে একত্র করলেন। এতে বোঝা যায়, ইয়াতিমের সম্পদে অন্যায় নয়; বরং কল্যাণ ও সততার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইয়াতিমের সম্পদ অন্যায়ভাবে খাওয়া ভয়াবহ গুনাহ।
- ইয়াতিমের কল্যাণের জন্য উত্তম পন্থা অবলম্বন করা উচিত।
- সৎ উদ্দেশ্যে একসঙ্গে থাকা-খাওয়ার সুযোগ আছে।
- শরীয়ত কষ্ট নয়, ন্যায় ও কল্যাণের পথ দেখায়।
