১৮/১০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮৭৫ - নয়টি কবীরা গুনাহের সতর্কতা
ইয়াতীমের মাল ভক্ষণে কঠোর হুঁশিয়ারি
নয়টি কবীরা গুনাহ ও সতর্ক থাকার শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ২৮৭৫
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৮৭৫
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ الْجُوزَجَانِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هَانِئٍ، حَدَّثَنَا حَرْبُ بْنُ شَدَّادٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ - وَكَانَتْ، لَهُ صُحْبَةٌ - أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْكَبَائِرُ فَقَالَ " هُنَّ تِسْعٌ». فَذَكَرَ مَعْنَاهُ زَادَ «وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ الْمُسْلِمَيْنِ وَاسْتِحْلاَلُ الْبَيْتِ الْحَرَامِ قِبْلَتِكُمْ أَحْيَاءً وَأَمْوَاتًا».
উমাইর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যিনি সাহাবী ছিলেন। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! কোনগুলি কবীরাহ গুনাহ? তিনি বললেনঃ এর সংখ্যা নয়টি। অতঃপর উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। এতে আরো রয়েছেঃ মুসলিম পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয়া এবং তোমাদের জীবন-মরণের ক্বিবলাহ কা’বা ঘরের চত্বরে নিষিদ্ধ কাজকে হালাল গণ্য করা।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮৭৫-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় কবীরা গুনাহ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাব এসেছে। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, কবীরা গুনাহ কোনগুলো? নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, এগুলোর সংখ্যা নয়টি। এরপর আগের হাদিসের মতো ধ্বংসকারী গুনাহগুলোর অর্থ উল্লেখ করা হয়। এই বর্ণনায় আরও দুটি বিষয় বাড়তি এসেছে—মুসলিম পিতা-মাতাকে কষ্ট দেওয়া এবং কা’বা ঘরের চত্বরে নিষিদ্ধ কাজকে হালাল মনে করা। এতে বোঝা যায়, কবীরা গুনাহ শুধু ব্যক্তিগত ভুল নয়; এতে আকীদা, মানুষের প্রাণ, সম্পদ, পরিবার, সমাজের সম্মান এবং পবিত্র স্থানের মর্যাদার বিষয় জড়িত। এই হাদিস মুসলিমকে বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য সতর্ক করে এবং পিতা-মাতার অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে মনে করিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কবীরা গুনাহ থেকে সচেতনভাবে দূরে থাকতে হবে।
- পিতা-মাতাকে কষ্ট দেওয়া গুরুতর অপরাধ হিসেবে এসেছে।
- কা’বা ঘরের পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি।
- মানুষের হক নষ্ট করা বড় গুনাহের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
