১৯/৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮৯৪ - দাদি-নানির মীরাসের অংশ
দাদীর অংশ
দাদি-নানির মীরাস ও এক-ষষ্ঠাংশ
সুনানে আবূ দাউদ : ২৮৯৪
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৮৯৪
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ خَرَشَةَ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ، أَنَّهُ قَالَ جَاءَتِ الْجَدَّةُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا فَقَالَ مَا لَكِ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى شَىْءٌ وَمَا عَلِمْتُ لَكِ فِي سُنَّةِ نَبِيِّ اللَّهِ ﷺ شَيْئًا فَارْجِعِي حَتَّى أَسْأَلَ النَّاسَ . فَسَأَلَ النَّاسَ فَقَالَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ حَضَرْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَعْطَاهَا السُّدُسَ . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ هَلْ مَعَكَ غَيْرُكَ فَقَامَ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ فَقَالَ مِثْلَ مَا قَالَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ فَأَنْفَذَهُ لَهَا أَبُو بَكْرٍ ثُمَّ جَاءَتِ الْجَدَّةُ الأُخْرَى إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضى الله عنه تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا فَقَالَ مَا لَكِ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى شَىْءٌ وَمَا كَانَ الْقَضَاءُ الَّذِي قُضِيَ بِهِ إِلاَّ لِغَيْرِكِ وَمَا أَنَا بِزَائِدٍ فِي الْفَرَائِضِ وَلَكِنْ هُوَ ذَلِكَ السُّدُسُ فَإِنِ اجْتَمَعْتُمَا فِيهِ فَهُوَ بَيْنَكُمَا وَأَيَّتُكُمَا خَلَتْ بِهِ فَهُوَ لَهَا.
ক্বাবীসহ ইবনু যুয়াইব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা জনৈক মৃতের নানী আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) এর নিকট এসে তার মীরাস (প্রাপ্য) চাইলে তিনি বলেন, আল্লাহর কিতাবে তোমার কোন অংশ উল্লেখ নাই। আমার জানামতে আল্লাহর নবীর (ﷺ) সুন্নাতেও কিছু উল্লেখ নাই। সুতরাং এখন তুমি চলে যাও, এ বিষয়ে আমি লোকদেরকে জিজ্ঞেস করে দেখি। তিনি লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলে আল মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি তাকে ছয় ভাগের-এক ভাগ প্রদান করেছেন। তিনি বললেন, ঐ সময়ে তোমার সাথে অন্য কেউ ছিল কি? তখন মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) দাঁড়ালেন। অতঃপর তিনিও আল-মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ্র (রাঃ) অনুরূপ বললেন। আবূ বকর (রাঃ) তাকে ছয় ভাগের এক ভাগ প্রদানের নির্দেশ দিলেন।অতঃপর ‘উমর ইবনুল খাত্তাবের (রাঃ) খিলাফতের সময় জনৈক দাদী এসে তার মীরাস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তোমার উত্তরাধিকার সম্পর্কে আল্লাহর কিতাবে কিছু উল্লেখ নাই। প্রথমে প্রদত্ত নির্দেশ নানীর ব্যাপারে ছিল। আর আমার নিজের পক্ষ হতে মীরাসের বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা সম্ভব নয়। সুতরাং তুমিও এক-ষষ্ঠাংশের বেশি পাবে না। যদি তোমরা দাদী-নানী উভয়ে জীবিত থাকো তাহলে তা ঐ এক-ষষ্ঠাংশ তোমাদের উভয়ের মধ্যে (অর্ধেক করে) ভাগ করা হবে। আর যদি উভয়ের মধ্যে কোন একজন জীবিত থাকলে সে তা একাই পাবে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮৯৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দাদি-নানির মীরাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এসেছে। এক নানি আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ)-এর কাছে এসে তার অংশ চাইলে তিনি বলেন, আল্লাহর কিতাবে তার অংশ তিনি জানেন না এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সুন্নাহতেও নিজের জানা অনুযায়ী কিছু পাননি। তাই তিনি লোকদের জিজ্ঞেস করেন। আল-মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে দাদী/নানিকে এক-ষষ্ঠাংশ দিতে দেখেছেন। আবু বকর (রাঃ) আরেক সাক্ষী চান। মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা (রাঃ) একই কথা বললে তিনি এক-ষষ্ঠাংশ দেন। পরে উমর (রাঃ) বলেন, দাদি-নানি উভয়ে থাকলে একই এক-ষষ্ঠাংশ ভাগ হবে, আর একজন থাকলে সে একাই পাবে। এখানে দলিল যাচাই, সতর্ক ফয়সালা এবং মীরাসে নির্ধারিত অংশের শিক্ষা রয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মীরাসের ফয়সালায় কুরআন ও সুন্নাহর দলিল খোঁজা জরুরি।
- দাদি বা নানির জন্য এক-ষষ্ঠাংশ অংশের কথা হাদিসে এসেছে।
- ফয়সালার আগে নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য যাচাই করা উচিত।
- দাদি-নানি একসাথে থাকলে অংশ ভাগ করে নেওয়ার শিক্ষা আছে।
