২০/১৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৯৪৯ - বণ্টনে আমানত ও নির্দেশ মানা
নাগরিকদের প্রয়োজনকালে ইমামের দায়িত্ব এবং তাদের থেকে তার বিচ্ছিন্ন থাকা
সম্পদ বণ্টনে আমানত: নির্দেশিত স্থানে ব্যয়ের শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ২৯৪৯
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৯৪৯
حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا بِهِ أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَا أُوتِيكُمْ مِنْ شَىْءٍ وَمَا أَمْنَعُكُمُوهُ إِنْ أَنَا إِلاَّ خَازِنٌ أَضَعُ حَيْثُ أُمِرْتُ " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে আমার ইচ্ছামত কোন জিনিস দেই না এবং আমার ইচ্ছামত তোমাদেরকে তা থেকে বঞ্চিত করি না। আমি তো কেবল কোষাধ্যক্ষ বা বণ্টনকারী। আমাকে যেখানে ব্যয়ের নির্দেশ দেয়া হয় সেখানেই ব্যয় করি।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৯৪৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم নিজেকে কোষাধ্যক্ষ বা বণ্টনকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, তিনি নিজের ইচ্ছামতো কাউকে কিছু দেন না এবং নিজের ইচ্ছামতো কাউকে বঞ্চিতও করেন না। তিনি যেখানে ব্যয়ের নির্দেশ পান, সেখানেই ব্যয় করেন। এখানে সম্পদ বণ্টন, আমানত এবং নিয়ম মানার শিক্ষা আছে। নেতৃত্ব বা দায়িত্বের স্থানে থাকা ব্যক্তি নিজের পছন্দ-অপছন্দ দিয়ে জনসম্পদ বা বণ্টনের বিষয় ঠিক করবেন না। বরং যে ন্যায়সঙ্গত নির্দেশ ও নিয়ম আছে, সেটি মানবেন। এই হাদিস বণ্টনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত খেয়াল থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেয়। সম্পদ যার হাতে থাকে, সে মালিক নয়; সে আমানতদার ও বণ্টনকারী।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বণ্টনের দায়িত্ব মানে নিজের ইচ্ছামতো দেওয়া নয়।
- সম্পদ ব্যয়ে নির্দেশ ও ন্যায়ের সীমা মানা দরকার।
- দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিজেকে আমানতদার হিসেবে দেখবেন।
- পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে বণ্টন করা উচিত নয়।
