২০/১৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৯৬৬ - ফাই সম্পদে মুসলিমদের অধিকার
গনীমাতের মালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিশেষ অংশ (সাফী)
ফাই সম্পদে মুসলিমদের অধিকার ও সূরা হাশরের শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ২৯৬৬
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৯৬৬
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ قَالَ عُمَرُ { وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ } . قَالَ الزُّهْرِيُّ قَالَ عُمَرُ هَذِهِ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ خَاصَّةً قُرَى عُرَيْنَةَ فَدَكَ وَكَذَا وَكَذَا { مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ } وَ لِلْفُقَرَاءِ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالإِيمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ . وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ فَاسْتَوْعَبَتْ هَذِهِ الآيَةُ النَّاسَ فَلَمْ يَبْقَ أَحَدٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ إِلاَّ لَهُ فِيهَا حَقٌّ . قَالَ أَيُّوبُ أَوْ قَالَ حَظٌّ إِلاَّ بَعْضَ مَنْ تَمْلِكُونَ مِنْ أَرِقَّائِكُمْ .
আয-যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘উমর (রাঃ) বলেছেন, (মহান আল্লাহর বাণী), “আর যা কিছু আল্লাহ তাদের (ইহুদীদের) থেকে তাঁর রাসূলের নিকট ফিরিয়ে দিয়েছেন, তার জন্য তোমরা ঘোড়া ও উট পরিচালিত করোনি। বরং আল্লাহ তাঁর রাসূলদেরকে যার উপর ইচ্ছা কর্তৃত্ব দান করেন। আর আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ের উপরই ক্ষমতাবান” (সূরা আল-হাশরঃ ৬)।আয-যুহরী (রহঃ) বলেন ‘উমর (রাঃ) বলেছেন, উরাইনাহ, ফাদাক ইত্যাদি এলাকা রাসূলুল্লাহর (ﷺ) জন্য নির্দিষ্ট ছিল। যেমন অন্য আয়াতে বলা হয়েছেঃ “যা কিছুই আল্লাহ এ জনপদের লোকদের থেকে তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন তা আল্লাহ, রাসূল এবং আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, মিসকিন ও পথিকদের জন্য। ঐসব মুহাজিরের জন্যও, যারা নিজেদের ঘর-বাড়ি ও সম্পদ থেকে বিতাড়িত ও বহিষ্কৃত। এবং যারা এ মুহাজিরদের আসার আগে ঈমান এনে দারুল হিজরাতেই বসবাসকারী ছিল এবং যারা তাদের পরে হিজরাত করে তাদের কাছে এসেছে (তাদের জন্যও)...” (সূরা আল-হাশরঃ ৭-১০)।এ আয়াতগুলো সকল লোককে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এমন কোন মুসলিম নেই যার যুদ্ধলব্ধ সম্পদে অধিকার নেই। আইয়ূব (রহঃ) বলেন, অথবা বর্ণনাকারী ‘অধিকার’ এর স্থলে ‘অংশ’ শব্দ বলেছেন। হ্যাঁ, তোমাদের কতিপয় কৃতদাস এ থেকে বাদ পড়েছে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৯৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমর (রাঃ) সূরা আল-হাশরের আয়াতের আলোকে ফাই সম্পদের আলোচনা করেন। আয়াতে বলা হয়েছে, যে সম্পদ আল্লাহ রাসূলের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন, তা অর্জনে মুসলিমরা ঘোড়া বা উট চালায়নি। এরপর যুহরী (রহঃ) উমর (রাঃ)-এর বক্তব্য উল্লেখ করেন যে কিছু সম্পদ রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর জন্য বিশেষ ছিল, যেমন ফাদাক ইত্যাদি। একই সঙ্গে সূরা হাশরের পরের আয়াতগুলোতে আল্লাহ, রাসূল, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, মিসকিন, পথিক, মুহাজির, আনসার এবং পরবর্তী মুমিনদের কথা এসেছে। তাই উমর (রাঃ) বলেন, এ আয়াতগুলো মানুষকে ব্যাপকভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে; মুসলিমদের এতে অধিকার বা অংশ রয়েছে, কেবল কিছু দাস ছাড়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফাই সম্পদের খাত কুরআনের নির্দেশনার সাথে সম্পর্কিত।
- ফাই সম্পদ শুধু ব্যক্তিগত সুবিধার বিষয় নয়; এতে বৃহত্তর মুসলিম সমাজের কল্যাণ আছে।
- মুহাজির, আনসার ও পরবর্তী মুমিনদের কথাও আয়াতে এসেছে।
- সম্পদ বণ্টনের আলোচনা কুরআনের আলোকে বুঝতে হয়।
