২১/১৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩১১১ - সাত ধরনের শহীদ ও নিয়তের মূল্য
মহামারীতে মৃত্যুবরণকারীর ফজিলত
নিয়ত ও সাত ধরনের শহীদের শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ৩১১১
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩১১১
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَابِرِ بْنِ عَتِيكٍ، عَنْ عَتِيكِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَتِيكٍ، - وَهُوَ جَدُّ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَبُو أُمِّهِ - أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَمَّهُ جَابِرَ بْنَ عَتِيكٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ جَاءَ يَعُودُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ ثَابِتٍ فَوَجَدَهُ قَدْ غُلِبَ فَصَاحَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَلَمْ يُجِبْهُ فَاسْتَرْجَعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَقَالَ " غُلِبْنَا عَلَيْكَ يَا أَبَا الرَّبِيعِ " . فَصَاحَ النِّسْوَةُ وَبَكَيْنَ فَجَعَلَ ابْنُ عَتِيكٍ يُسْكِتُهُنَّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " دَعْهُنَّ فَإِذَا وَجَبَ فَلاَ تَبْكِيَنَّ بَاكِيَةٌ " . قَالُوا وَمَا الْوُجُوبُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " الْمَوْتُ " . قَالَتِ ابْنَتُهُ وَاللَّهِ إِنْ كُنْتُ لأَرْجُو أَنْ تَكُونَ شَهِيدًا فَإِنَّكَ كُنْتَ قَدْ قَضَيْتَ جِهَازَكَ. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ أَوْقَعَ أَجْرَهُ عَلَى قَدْرِ نِيَّتِهِ وَمَا تَعُدُّونَ الشَّهَادَةَ " . قَالُوا الْقَتْلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " الشَّهَادَةُ سَبْعٌ سِوَى الْقَتْلِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الْمَطْعُونُ شَهِيدٌ وَالْغَرِقُ شَهِيدٌ وَصَاحِبُ ذَاتِ الْجَنْبِ شَهِيدٌ وَالْمَبْطُونُ شَهِيدٌ وَصَاحِبُ الْحَرِيقِ شَهِيدٌ وَالَّذِي يَمُوتُ تَحْتَ الْهَدْمِ شَهِيدٌ وَالْمَرْأَةُ تَمُوتُ بِجُمْعٍ شَهِيدٌ " .
জাবির ইবনু ‘আতীক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আবদুল্লাহ ইবনু সাবিতের (রাঃ) মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে দেখতে যান। তিনি দেখলেন, সে বেহুঁশ অবস্থায় রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে সশব্দে ডাকলেন। কিন্তু তিনি তাঁর ডাকে সাড়া দিতে পারলেন না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন” পাঠ করলেন। তিনি বললেনঃ হে আবুর রাবী‘! আমরা তোমার ব্যাপারে পরাজিত। এতে মহিলারা চিৎকার করলো এবং কাঁদতে লাগলো।ইবনু ‘আতীক্ব (রাঃ) তাদেরকে থামাতে চেষ্টা করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাদেরকে ছেড়ে দাও। ওয়াজিব হয়ে গেলে কোন ক্রন্দনকারিণীই কাঁদবে না। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ওয়াজিবের তাৎপর্য কি? তিনি বললেনঃ মৃত্যু। ‘আবদুল্লাহ ইবনু সাবিতের কন্যা বললো, আল্লাহর শপথ! আমি মনে করেছিলাম, (হে আমার পিতা) তুমি শহীদ হবে। কারণ তুমি জিহাদের সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছিলে।রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ মহামহিম আল্লাহ নিশ্চয়ই তার নিয়্যাত অনুযায়ী প্রতিদানের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। তোমরা কাকে শহীদ বলে গণ্য করো? তারা বললেন, আল্লাহর পথে (যুদ্ধে) নিহত ব্যক্তিকে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহর পথে নিহত হওয়া ছাড়াও শাহাদাত সাত প্রকার: প্লেগে মৃত ব্যক্তি শহীদ, পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি শহীদ, পাঁজরের ব্যথায় (প্লুরিসি) মৃত ব্যক্তি শহীদ, পেটের পীড়ায় মৃত ব্যক্তি শহীদ, আগুনে পুড়ে মৃত ব্যক্তি শহীদ, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি শহীদ এবং প্রসবকালীন কষ্টে মৃত নারী শহীদ।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩১১১-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা একসাথে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আবদুল্লাহ ইবনু সাবিত (রাঃ)-কে মুমূর্ষ অবস্থায় দেখতে যান। তিনি সাড়া না দিলে নবীজি “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” পাঠ করেন। মহিলারা কাঁদলে তিনি বলেন, মৃত্যু নিশ্চিত হলে আর কোনো ক্রন্দনকারিণী কাঁদবে না। এরপর তার কন্যা শহীদের আশা প্রকাশ করলে নবীজি জানান, আল্লাহ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান দিয়েছেন। তারপর সাহাবীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি শহীদের বিস্তৃত ধরন বলেন: মহামারিতে মৃত, ডুবে মৃত, পার্শ্বশূলে মৃত, উদররোগে মৃত, আগুনে পুড়ে মৃত, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত এবং প্রসবকালীন কষ্টে মারা যাওয়া নারী। হাদিসটি নিয়তের মূল্য, মৃত্যুর আদব এবং শহীদের ধারণা সম্পর্কে গভীর কিন্তু সরাসরি শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিয়ত অনুযায়ী আল্লাহ প্রতিদানের ব্যবস্থা করেন।
- শহীদ হওয়া শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—হাদিসে সাত ধরন এসেছে।
- মৃত্যুপথযাত্রীকে দেখতে যাওয়া নববী আমল।
- মৃত্যুর সময় কথা ও আচরণে সংযম দরকার।
